রাসিক নির্বাচন : বেকার যুবক ও দরিদ্র নারীদের আয়ের উৎস

পাপন সরকার শুভ্র , রাজশাহী
জুলাই ১৯, ২০১৮ ৫:৫২ অপরাহ্ণ

পাঁচ বছর পর ঘুরে এসেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনে সকল প্রার্থীরা তাদের প্রচার প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছেন। ব্যানার পোষ্টার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত হচ্ছে মাইক। ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় মাইকিং করে সারা শহরে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। আর এতে করে খন্ডকালীন সময়ের জন্য হলেও অর্থসংস্থান হয়েছে বেকার যুবকদের।

জানা গেছে, রাসিক নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণার বিপুল পরিমান যুবক কর্মী অস্থায়ীভাবে কাজ করছেন। নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী বিকেল তিনটা থেকে মাইকিংয়ে প্রচারণা করছেন কর্মীরা। প্রচারণার কাজে অংশ নেওয়া প্রতি কর্মী পাচ্ছেন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। প্রতিটি প্রচার গাড়িতে অন্তত তিনজন করে যুবক কাজ করছেন। এদিকে নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার, পোস্টার টানাতেও নিয়োগ করা হয়েছে বেশ কিছু বেকার যুবকদের। প্রচারণায় দিন শেষে তারাও পাচ্ছেন তাদের পারিশ্রমিক।

নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের যুবক মিনারুল ইসলাম। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে প্রচারণা করেন তিনি। মিনারুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের সময়সূচির আগ মুহুর্তে তিনি কোন কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন না। নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে মেয়র প্রার্থীর প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। অটোরিকশায় আধাবেলা মাইকিং করে কিছু পারিশ্রমিক পান তিনি। ২৮ জুলাই প্রচারণানর শেষ দিন পর্যন্ত একই ভাবে মাইকিং করবেন তিনি। এতে করে তার সাময়িক অর্থসংস্থান হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবক রিপন বলেন, নির্বাচনী প্রার্থীদের প্রচারণায় আমাদের মতো যুবকদের কিছুটা সুবিধা হয়েছে। সকালের কাজ সেরে দুপুর হলে নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক নিয়ে বের হই। এতে করে বাড়তি আয়ের উৎস তৈরী হয়েছে। আগামি ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন।

এছাড়া সিটি নির্বাচন ঘিরে নারী কর্মীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। প্রায় ২০ হাজারের মতো নারী এবার নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করছেন। সকাল ও বিকালে মোট চার ঘন্টা কাজ করে তারা বাড়তি অর্থও উপার্জন করছেন। সময় কম হওয়ায় প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদেরকেও ব্যাপকভাবে প্রচারণায় নামিয়েছেন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২১৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ কাউন্সিলরে ১৬০ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫২ জন। এসব প্রার্থীরা পুরোদমে মাঠে নেমেছে। শুধু তারা নয়। ভোটারদের মন জয় করতে নামিয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী। বিশেষ করে প্রার্থীরা ১০০ থেকে ১৫০ জন নারী কর্মী মাঠে নামিয়েছেন ভোট প্রচারের জন্য। নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের ছবি-প্রতীক সংবলিত লিফলেট ও নির্বাচনী ইস্তেহার বিলি করছেন।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নারী কর্মীরা নারী ভোটারদের পাশাপাশি পুরুষ ভোটারদের কাছেও প্রার্থীদের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরছেন। নগরীর প্রত্যেক ওয়ার্ডেই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে নারী ভোটকর্মী রয়েছেন। এসব নারী কর্মীরা দল বেঁধে লিফলেট নিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন। নগরীতে মধ্যবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, দারিদ্র, অতিদরিদ্র নারী কর্মী এবার নির্বাচনে প্রচারে নেমেছেন। প্রচারে থেমে নেই ধনী শ্রেণির নারীরাও। ধনী ও উচ্চমধ্যবিত্ত নারীরা তাদের আত্মীয়-স্বজনের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে ভোট চাচ্ছেন। আর অন্যান্য শ্রেণির নারীরা প্রতিদিন ২০০-২৫০ টাকার বিনিময়ে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। প্রচারে দরিদ্র নারীদের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়।

নগরীর সাগড়পাড়া এলাকার মেহেরুন নেসা (৪৩)।প্রথম থেকেই তিনি ভোট প্রচারণায় নেমেছেন। প্রতিদিন এজন্য তিনি পেয়ে থাকেন ২৫০ টাকা। এতে একদিন দিয়ে আমার ভালোই হয়েছে। সংসারের কিছু ঘাটতিগুলো পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

নগরীর দড়িখরবোনা এলাকার জমিরন বিবি। তিনিও প্রচারনায় নেমেছেন। জমিরন জানান, তাদের মধ্যে দলের নেত্রী থাকেন। সেই তালিকা তৈরি করে ও টাকা-পয়সা দেন। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লিফলেট হাতে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরতে হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাইতে হয়। অন্য প্রার্থী আরো ৫০ টাকা বেশি দেয়ার কথা বলেছিল। তাই পরের দিন থেকে অন্য প্রার্থীর প্রচারনায় নেমেছন তিনি।

Comments are closed.