ঈশ্বরগঞ্জে স্ত্রী-ছেলের পিটুনিতে এবং জমি নিয়ে বিরোধে দুই জন খুন

প্রতিনিধি , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
জুলাই ২১, ২০১৮ ৫:১৪ অপরাহ্ণ

ঈশ্বরগঞ্জ : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পারিবারিক কলহ ও জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পৃথক দুই ঘটনায় দুই ব্যক্তি খুন হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে দুটি হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। তবে দুটি হত্যাকা-ের ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের ছোট তারাকান্দি গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন(৫০)‘র সাথে দ্বিতীয় স্ত্রী রহিমা বেগম ও ছেলে আলাল মিয়ার কলহ চলছিলো। পারিবারিক কলহের জের ধরে শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে স্ত্রী ও ছেলের সাথে বাকবিতন্ডা হয় বিল্লাল হোসেনের। এক পর্যায়ে বিল্লালকে স্ত্রী রহিমা বেগম ও ছেলে আলাল মারধর শুরু করে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে বিল্লাল হোসেন মারা যাওয়ার খবর পেয়ে তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও ছেলে পালিয়ে যায়। পরে প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও অন্য স্বজনরা হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ে নিহতের প্রথম পক্ষের মেয়ে আমেনা খাতুন থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখান থেকে গতকাল শনিবার বেলা ১১ টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে আমেনা খাতুন বাদি হয়ে সৎ মা রহিমা বেগম, ভাই আলাল মিয়া ও ভাইয়ের স্ত্রী রিপা আক্তারকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের বাঘবেড় গ্রামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ লোকজন। গতকাল শনিবার সকাল ১০ টার দিকে বাঘবেড় গ্রামের মতিউর রহমান (৬০) এর সাথে প্রতিবেশী ভাতিজা আবদুল গণির বাকবিতন্ডা হয়। বাড়ির সীমানা নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে আবদুল গণি তার লোকজন নিয়ে মতিউর রহমানের ওপর হামলা করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বেলা ১২ টার দিকে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মতিউরের ছেলে মামুন মিয়াসহ আরো ৩ জন। স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মেদ কবীর হোসেন জানান, পারিবারিক কলহ ও জমি নিয়ে বিরোধে পৃথক দুটি হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। হত্যাকা-ের জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

 

Comments are closed.