পিতা-মাতার সেবা বিপদ মুক্তির উসিলা

ইসলামিক রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
জুলাই ২৭, ২০১৮ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

এসএম আরিফুল কাদের : পিতা-মাতা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আপনজন। পিতা-মাতার খেদমত করতে পারা বড়ই সৌভাগ্যের বিষয়। মেরাজ রজনীতে যে ১৪টি বিষয় স্থির হয়, তার প্রথমটি হলো আল্লাহর হক তাওহিদ বা একত্ববাদ এবং শিরক থেকে মুক্তি। দ্বিতীয়টি হলো পিতা-মাতার হক বা অধিকার এবং সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং করণীয় ও পালনীয়।

তাই পৃথিবীতে যত ধরণের সেবা আছে তন্মধ্যে পিতা-মাতার সেবা সর্বাগ্রে। পিতা-মাতার সন্তুষ্টি মানেই আল্লাহর সন্তুষ্টি। অপরদিকে পিতা-মাতার অভিশাপ বা অসুন্তুষ্টি মানেই আজাবের দিকে পা দেওয়া এবং আল্লাহর অসুন্তুষ্টি। হাদিসের ভাষায় ‘রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টিতে এবং আল্লাহ তা‘আলার অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টিতে’।(সহিহ তিরমিযি)

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, পূর্ব কালে তিন জন ব্যক্তি সফরে বের হয়। পথিমধ্যে তারা মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে পতিত হয়। তখন তিনজন একটি পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নেয়। হঠাৎ গুহার মুখে একটি বড় পাথর ধসে পড়ে। তাতে গুহার মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তিনজনে সাধ্যমত চেষ্টা করেও তা সরাতে ব্যর্থ হয়। তখন তারা পরস্পরে বলতে থাকে যে, এই বিপদ থেকে রক্ষার কেউ নেই আল্লাহ ব্যতীত। অতএব তোমরা আল্লাহকে খুশী করার উদ্দেশ্যে জীবনে কোন সৎকর্ম করে থাকলে সেটি সঠিকভাবে বল এবং তার উসিলা দিয়ে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা কর। আশা করি তিনি আমাদেরকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করবেন।

তখন একজন বলল, আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিলেন এবং আমার ছোট ছোট কয়েকটি শিশু সন্তান ছিল। যাদেরকে আমি প্রতিপালন করতাম। আমি প্রতিদিন মেষপাল চড়িয়ে যখন ফিরে আসতাম, তখন সন্তানদের পূর্বে পিতা-মাতাকে দুধ পান করাতাম। একদিন
আমার ফিরতে রাত হয়ে যায়। অতঃপর আমি দুগ্ধ দোহন করি। ইতিমধ্যে পিতা-মাতা ঘুমিয়ে যান। তখন আমি তাদের মাথার নিকট দুধের পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি, যতক্ষণ না তারা জেগে ওঠেন। এ সময় ক্ষুধায় আমার বাচ্চারা আমার পায়ের নিকট কেঁদে গড়াগড়ি যায়। কিন্তু আমি পিতা-মাতার পূর্বে তাদেরকে পান করাতে চাইনি। এভাবে ফজর হয়ে যায়। অতঃপর তারা ঘুম থেকে উঠেন ও দুধ পান করেন। তারপরে আমি বাচ্চাদের পান করাই। ‘হে আল্লাহ! যদি আমি এটা তোমার সন্তুষ্টির জন্য করে থাকি, তাহলে তুমি আমাদের থেকে এই পাথর সরিয়ে নাও’! তখন পাথর কিছুটা সরে গেল এবং তারা আকাশ দেখতে পেল।

এভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয়জন তাদের নেককাজের কথা স্মরণ করে এই মহা বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে আবেদন জানালে সম্পূর্ণ পাথর সরে যায়। যার কারণে তারা এই গুহা থেকে বের হতে পারল। (সহিহ বোখারি ও মুসলিম)

নিজ পিতা-মাতার খেদমত সন্তানের (ছেলে-মেয়ে উভয়েই) ওপর প্রয়োজন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ফরজ ও ওয়াজিব। পিতা-মাতার খেদমত যেমন ইবাদত, তাঁদের অনুপস্থিতিতে তাঁদের বন্ধুবান্ধব ও সমবয়সীদের খেদমত করাও অনুরূপ ইবাদত।

লেখকঃ- আলেম, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।

 

Comments are closed.