কুলিয়ারচরে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র লাঞ্ছিত : জেএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ , ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
জুলাই ৩১, ২০১৮ ৭:৫১ অপরাহ্ণ

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক গত ১১ জুলাই পত্র নং-৫৩৮/মাধ্য:পরী:/২০০৩/৯৬ পত্রমূলে ২০১৮ সালের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপে প্রতি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার বোর্ড ফি বাবদ ১শ টাকা ও কেন্দ্র ফি বাবদ ১শ ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, মাদ্রাসায় ও কিন্ডারগার্টেনে ৩ থেকে ৬ গুণ অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লক্ষ্মীপুর দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ গুণ অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদ করে গত ২৯ জুলাই রোববার বিদ্যালয় চলাকালে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রধান শিক্ষকের নিকট সরকার নির্ধারিত ফি নেওয়ার অনুরোধ করলে প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রকে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনায় ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রতিবাদে গতকাল ৩১ জুলাই মঙ্গলবার সকালে জে.এস.সি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ স্থানীয় লক্ষ্মীপুর বাজারে এক প্রতিবাদ সভা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধ অভিভাবকগণ প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিÍর দাবী করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেএসসি পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক মোঃ জসীম উদ্দিন (খোকন) এর নিকট অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধের দাবী জানালে, ঐ প্রধান শিক্ষক তাদের জানিয়ে দেয় ১২শ ৫০ টাকা থেকে ১ টাকাও কম নেওয়া হবে না এবং যারা অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে তাদের প্রতি অকৃতকার্য বিষয়ে বাধ্যতামূলক ৫০ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। যা সরকারি বিধি বর্হিভূত।

নির্ধারিত ফি ছাড়া ৪গুণ ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মোঃ মহি উদ্দিন ভূইয়া ও মোছাঃ নিপা আহম্মেদ বলেন, জে এস সি পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত ফি আদায় ব্যতিত অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক তাদের কোনো রকম অবগত করেন নি।

অতিরিক্ত ফি আদায়ের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মোঃ জসীম উদ্দিন খোকনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, ফরম ফিলাপের জন্য ৪শ ৫০ টাকা,৩ মাস কোচিং ফি বাবদ বাধ্যতামূলক ৫শ টাকা ও ৭ বিষয়ে মডেল টেষ্ট ফি বাবদ ৩শ টাকা বাধ্যতামূলক নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধে শিক্ষকদের জন্য সম্মানী বাবদ ২শ টাকা সহ ফরম ফিলাপ ফি ৫শ টাকা ধার্য করা হয়েছে। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যালয় চালাতে গেলে বিভিন্ন প্রকার খরচ আছে। তাই অতিরিক্ত টাকা নিতে হয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মোঃ আব্দুল খালেক ও মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের এক মিটিংয়ে বলা হয়েছিল জেএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ বাবদ বোর্ড নির্ধারিত ফি ছাড়া যাহাতে অতিরিক্ত কোন ফি আদায় করা না হয়। তারপরেও কিভাবে ১২শ ৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল তা আমাদের জানা নেই।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কুলিয়ারচর সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ইদ্রিস মিয়ার সাথে একাধিক বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া উপজেলার মুছা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু নাছের মোঃ আব্দুল্লাহ জানান, উক্ত বিদ্যালয়ে ১ হাজার টাকা, আগরপুর জেসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবুর রহমান জানান, উক্ত বিদ্যালয়ে ৮শ ৫০ টাকা, ছয়সূতী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তাকুর রহমান বাদল জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক উক্ত বিদ্যালয়ে ৮শ ৫০ টাকা, রুছমত আলী রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মোঃ সালাহ উদ্দিন জানান, উক্ত বিদ্যালয়ে ১ হাজার ৫ শত টাকা, আফতাব উদ্দিন প্রি-ক্যাডেট এন্ড কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ আতাউর রহমান জানান, উক্ত বিদ্যালয়ে ১ হাজার টাকা, বেগম নূরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মতিয়ার রহামন, কুলিয়ারচর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মোঃ ফজলুর রহমান, এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু চন্দ্র সূত্রধর, ফরিদপুর ইউনিয়ন আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল কাদির ও বীরকাশিমনগর এফ ইউ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রিয়াজুল করিম জানান, তাদের বিদ্যালয়ে ফরম ফিলাপ বাবদ ৬শ টাকা করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আলতাফ হোসেন বলেন, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারের নির্ধারিত ফি ব্যাতিত অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতিশ্বর পালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ রয়েছে উপজেলার অন্যান্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্টেন গুলোতে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধের দাবী জানিয়ে অভিভাবকগণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Comments are closed.