রুহানির সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট , উত্তর আমেরিকা
জুলাই ৩১, ২০১৮ ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

‘কোনও পূর্বশর্ত ছাড়াই’ যেকোনও সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি যে কারও সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারি। আমি আলোচনায় বিশ্বাস করি।’ ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা দেখা করতে চায়, আমরাও দেখা করবো।’

২০১৫ সালের জুলাইয়ে ভিয়েনায় পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে ছয় পরাশক্তি। দুই মাস আগে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের তরফ থেকে হুমকি দেওয়া হয়, ইরানের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের তেল রফতানি আয় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চায় তারা। এজন্য বিভিন্ন দেশের ওপর হুমকি ও চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছেন তারা।এই মাসের শুরুতে ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানির মধ্যে শত্রুতামূলক হুমকি-ধামকির পর ট্রাম্প এই মৈত্রীসূচক কথা বললেন।

ট্রাম্পের এমন প্রস্তাবের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির উপদেষ্টা হামিদ আবুতালেবি। একই টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘পরমাণু চুক্তিতে ফিরে আসা’ ও ‘ইরানের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানো’ সংলাপের পথকে সহজ করবে।

যদি এই বৈঠক হয়ে তাহলে ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের পর এটাই হবে দুই দেশের মধ্যে কোনও শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক। ট্রাম্পের এমন আকস্মিক সুর পরিবর্তন উত্তর কোরিয়ার  নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগের সময়কার মতোই মনে হচ্ছে। ওই বৈঠকের আগেই দুই নেতা একে অপরকে অপমান করার পাশাপাশি হুমকি-ধামকি দিচ্ছিলেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছু পরেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ইরান যদি তাদের আচরণ পরিবর্তনে ইচ্ছা দেখায় তাহলে তিনি বৈঠকের বিষয়টিকে সমর্থন করবেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি’কে তিনি বলেন, ‘সমস্যা সমাধান করতে প্রেসিডেন্ট লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে চান’।

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর সন্দিহান। এছাড়া সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ইসরায়েল ও সৌদি আরব ইরানের অন্যতম শত্রু। গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। তখন থেকেই ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার হুমকিও দেয় ট্রাম্প। আর কিছু দিনের মধ্যেই ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে চায় ট্রাম্প। তবে পরমাণু চুক্তির অন্যান্য পক্ষ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানি এই এর ঘোর বিরোধিতা করছে।

Comments are closed.