সৌদি আরবে দুই নারী অধিকারকর্মী গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট , এশিয়া
আগস্ট ২, ২০১৮ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সৌদি আরব দেশটির প্রখ্যাত দুই নারী অধিকারকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। আন্দোলনকর্মী, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চলমান গ্রেফতার অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।

বুধবার এইচআরডব্লিউ জানায়, গত দুই দিনে সৌদি কর্তৃপক্ষ সামার বাদাউয়ি ও নাসিমা আল-সাদাহ নামের দুই নারী অধিকারকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এই দুজন নারীকে গাড়ি চালানোর অনুমতি এবং নারীর ওপর পুরুষের অভিভাবকত্ব আইন বাতিলের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।

এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংগঠনটি জানায়, সামার ও আল-সাদাহের গ্রেফতারের ঘটনাটি প্রমাণ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে কোনও ধরনের শান্তি পূর্ণ আন্দোলনকে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার জন্য হুমকি মনে করে।

সামারা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার পেয়েছিলেন ২০১২ সালে। তিনি অভিভাবকত্ব ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। নারীদের গাড়ি চালানো, ভোট ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যে আবেদন করা হয়েছিল তাতে স্বাক্ষরকারী প্রথম সারির একজন ছিলেন। এছাড়া তিনি দেশটির প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী রাইফ বাদাউয়ির বোন। ২০১৪ সালে ইসলামকে অবমাননার দায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নাসিমা আল-সাদাহ শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ কাতিফ প্রদেশের বাসিন্দা। তিনিও অভিভাবকত্ব ব্যবস্থার বিরোধী। ২০১৫ সালে তিনি স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। ওই সময় স্থানীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো নারীরা প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও কর্তৃপক্ষ তার নাম বাদ দিয়ে দেয়।

২০১৮ সালের মে মাস হতে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন নারী অধিকারকর্মীকে গ্রেফতার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী গাড়ি চালানোর অনুমতি ও পুরুষ অভিভাবকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। মে মাসে কর্তৃপক্ষ নারী অধিকারকর্মী এমান আল-নাফজান, লুজাইন আল-হাতলুল, আজিজা আল-ইউসেফ, আয়শা আল-মানিয়ে, ইব্রাহিম মোদেইমাহ ও মোহাম্মদ আল-রাবেয়াকে গ্রেফতার করে। কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ ও বিদেশি শত্রুদের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার মতো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের জন্য সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে আরও গ্রেফতার করা হতে পারে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া