ট্রাম্পের মিডিয়া বিদ্বেষ সংবাদকর্মীদের জন্য হুমকি : জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট , উত্তর আমেরিকা
আগস্ট ৩, ২০১৮ ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ

সংবাদমাধ্যমের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত বিদ্বেষমূলক আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের দুই বিশেষজ্ঞ। সংবাদমাধ্যমের প্রতি ট্রাম্পের বিরূপ মনোভাব সংবাদকর্মীদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই অব্যাহতভাবে প্রধান ধারার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি সিএনএন-এর এক সংবাদকর্মীকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার পর জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের ভূমিকার নিন্দা জানালেন।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র যখন বিশ্বজুড়ে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন, তখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের  ভূমিকা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ জানালেন। বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে  জাতিসংঘ ও আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনকে তাদের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত করতে অব্যাহতভাবে সংবাদমাধ্যমকে অবমূল্যায়নের চর্চা ত্যাগ করার আহ্বান জানান।

জেনেভা ও ওয়াশিংটন থেকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ডেভিড কেই ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্তঃআমেরিকান কমিশনের বিশেষ দূত অ্যাডিসন লানজা বলেন, সংমাধ্যমকে ট্রাম্পের আক্রমণ অত্যন্ত কৌশলি। তার প্রশাসন সম্পর্কে সন্দেহ ও লেখালেখিকে হেয় করাই এর লক্ষ্য। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু, মিথ্যা সংবাদদাতা, অসৎ ও গণতন্ত্রের শত্রু হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের গণমাধ্যমবিরোধী বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বিশেষ দূতরা বলেন, এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সম্মান জানানোর বাধ্যবাধকতার প্রতিবন্ধক। ক্ষমতার সম্ভাব্য অপব্যবহার, অপকর্ম, অপচয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশে বাধা দিতেই এ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে শত্রু হিসেবে অভিহিত করে অপছন্দের প্রশ্নগুলো এড়িয়ে চলছেন। তারা বলেন, ট্রাম্পের অপমানজনক মন্তব্য সাংবাদিকদের সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। সংবাদকর্মীদের মনোবল ভাঙার উদ্দেশ্যেই ট্রাম্প এমন আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তারা।

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ট্রাম্পকে ‘অযথার্থ’ প্রশ্ন করার জেরে সিএনএনের একজন সাংবাদিককে নিষিদ্ধ করে হোয়াইট হাউজ। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক কেইটল্যান কলিন্স একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে তার আইনজীবী ও পুতিনের সফর বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে তাকে পরবর্তীতে রোজ গার্ডেনের অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ করা হয়। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স সে সময় জানান, ওই সাংবাদিক চিৎকার করে প্রশ্ন করছিলেন এবং  যেতে বলার পরও ওই স্থান ত্যাগে রাজি হচ্ছিলেন না। আগেও ট্রাম্প অনেকবার সিএনএনকে ‘ভুয়া খবরের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। এমন কি সিএনএনের সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার কালেই ট্রাম্প তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও লড়াইয়ের ঘোষণা দেন। শপথ নেওয়া্র পর শীর্ষস্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অফ দ্য রেকর্ড এক সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয় তার। এর প্রতিক্রিয়ায় ‘মিডিয়ার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ’ শিরোনামে খবর লেখে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ঘটনার একদিনের মাথায় নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সঙ্গের এক বৈঠককে ঘিরে ওই পত্রিকার সঙ্গে ‘যুদ্ধে’ জড়ান ট্রাম্প। সেই থেকে এখন পর্যন্ত প্রধান ধারার সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে যাচ্ছেন ট্রাম্প। সিএনএন তার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুগুলোর অন্যতম। এই সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা বিচার করতে গিয়েই তিনি ‘ফেইক নিউজ’ প্রত্যয়টিকে সামনে আনেন। সূত্র- বিবিসি, গার্ডিয়ান।

 

৩ Comments
  1. the internet is always the source of cheap stuffs, you can buy cheap electronics, cheap softwares and other stuffs”

  2. Tractor Workshop Manuals says

    Hello! Do you know if they make any plugins to safeguard against hackers? I’m kinda paranoid about losing everything I’ve worked hard on. Any suggestions?

  3. find more says

    I just want to mention I am just very new to blogging and certainly liked your blog. Most likely I’m want to bookmark your site . You really have remarkable articles and reviews. Bless you for revealing your web site.

Comments are closed.

সর্বশেষ পাওয়া