সাহিত্য ও সংস্কৃতি - আগস্ট ৯, ২০১৮ ৮:৫২ অপরাহ্ণ

কিশোরগঞ্জের মজিতপুরে শুরু হতে যাচ্ছে বংশীদাস বাবাজির ৭৫তম তিরোভাব উৎসব

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মজিতপুরে শুরু হতে যাচ্ছে বৈষ্ণব চূড়ামণি শ্রীল বংশীদাস বাবাজি মহারাজের ৭৫তম তিরোভাব উৎসব। উৎসব চলবে আগামী ১৪ আগষ্ট মঙ্গলবার বিকাল থেকে ১৭ আগষ্ট শুক্রবার সকাল পর্যন্ত। এই ৪দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, শুভ অধিবাস, অষ্ট প্রহর ব্যাপী তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্ত্তন ও মহোৎসব, মহাপ্রসাদ বিতরণ, অষ্টকালীন লীলা কীর্ত্তন, কুঞ্জভঙ্গ, দধিমঙ্গল, মোহন্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বারের আয়োজন।

শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করবেন শ্রী সজিব চন্দ্র দাস ও শ্রী নন্দ দুলাল গোস্বামী। অধিবাস পরিবেশনায় থাকবেন শ্রী গোপাল চন্দ্র মন্ডল। মহানামসুধা পরিবেশনায় থাকছেন শ্রীনাম সংঘ, মোহন লাল সেবা সংঘ, নিত্যানন্দ সম্প্রদায়, গোপীনাথ সেবা সংঘ ও শ্রীশ্রী বংশীদাস বাবাজি সম্প্রদায়। অষ্টকালীন লীলা মাধুরী পরিবেশনায় থাকছেন সুকৃতি মোহন্ত, তৃষ্ণা দেবনাথ ও রাজিব বিশ্বাসের দল। বৈষ্ণব চূড়ামণি শ্রীশ্রী বংশীদাস বাবাজি মহারাজের আশ্রম পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক প্রহলাদ কুমার পাল জানান, এ অনুষ্ঠানে প্রতি বছরই বাংলাদেশের বহু দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তবৃন্দের সমাগম ঘটে। এবারও প্রতি বছরের ন্যায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তবৃন্দের জন্য প্রসাদ ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।আশ্রমের উন্নয়নে ও উৎসব উপলক্ষ্যে ভক্তবৃন্দের যেকোন দান সাদরে গ্রহণ করা  হবে।

উল্লেখ্য, বৈষ্ণব চূড়ামণি শ্রীল বংশীদাস বাবাজি ৮৫ বছরের ক্ষণ জীবন পরিক্রমায় ঘুরে বেড়িয়েছেন নবদ্বীপ, করুণাময় পুরোষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিত্যলীলাধাম বৃন্দাবন, পুরী।

সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে হরেকৃষ্ণ পাবলিকেশন্স কর্তৃক প্রকাশিত ও শ্রীমৎ ভক্তি বিকাশ স্বামী কর্তৃক রচিত `শ্রীল বংশীদাস বাবাজি’ শীর্ষক একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটিতে গ্রন্থকার লিখেছেন ‘শ্রী যতিশেখর প্রভুর লেখা পুস্তিকা ও যতি প্রভুর সাথে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বাবাজির বিভিন্ন ঘটনা-আলোচনা ঠাঁই পেয়েছে গ্রন্থটিতে। গ্রন্থটির প্রস্তাবনা অংশে যতিশেখর প্রভু বংশীদাস বাবাজি মহারাজ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘‘আমি অযোগ্য ও মায়াগ্রস্ত, তাই তাঁর সম্পর্কে সবকিছু যথাযথভাবে বর্ণনা করতে অক্ষম। আমার যতটুকু মনে এসেছে তাই শুধু বলেছি। ক্ষমা করবেন। সকল বৈষ্ণবচরণে নিবেদন, আমাকে কৃপা করবেন যেন সর্বাবস্থায় বংশীদাস বাবাজিকে স্মরণ করতে পারি। বংশীদাস স্মরণে সকল বিঘ্ননাশ। বংশীদাস বাবাজিকে স্মরণ করলে সব বিপদ দূর হয়। বহু দূরে অবস্থান করলেও ভজনকালে যেন আমি তাঁকে স্মরণ করতে পারি।   

শ্রীল বংশীদাস বাবাজি সম্পর্কে জনশ্রুতি আছে যে, তিনি ছিলেন অসম্ভব অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এক সিদ্ধ মহাপুরুষ। বিভিন্ন গ্রন্থে তাঁর  সম্পর্কে আরো জানা যায়, তিনি ছিলেন লীলা পুরোষত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রেমানন্দসাগরে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত এক মহামানব। যিনি অবিচ্ছেদ্য বন্ধু ও সঙ্গীরূপে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কে তাঁর সাথে সর্বত্র নিয়ে যেতেন এবং ‍তিনি শ্রী বিগ্রহের সাথে কথা বলতেন, যা তিনি ভিন্ন অন্য কেউ শুনতেন না।

সুমিত বণিক, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, ঢাকা।