অভিনেত্রী নওশাবা আবার ২ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
আগস্ট ১০, ২০১৮ ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

ফেসবুক লাইভে গুজব ছড়ানোর মামলায় মডেল অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের ফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ওই মামলায় শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম আমিরুল হায়দার চৌধুরী রিমান্ডের আদেশ দেন।

চার দিনের রিমান্ড শেষে নওশাবাকে আদালতে হাজির করে ফের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি তার নিজের মোবাইল ফোন থেকে নিজ নামীয় ফেসবুক আইডিতে গত ৪ আগস্ট বেলা ৪টার দিকে উত্তরার ১৩ নং সেক্টরের ৪ নং রোডের ২ নং বাড়ী হতে অত্যন্ত আবেদনময়ী কন্ঠে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করে বলেন, জিগাতলায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে এক জনের চোখ উঠায়া ফেলছে আর ৪ জনকে মেরে ফেলছে। আপনারা যে যেখানে আছেন কিছু একটা করেন। তার এই আহ্বান মুহূর্তের মধ্যে দেশি বিদেশী সামাজিক ও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে ভাইরাল হয় যা জনমনে আতঙ্ক ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা তার এই প্রপাগান্ডার উৎস জানার জন্য ফোন করলে তিনি তার স্বপক্ষে সঠিক কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেন নাই। প্রকৃতপক্ষে ওই সময় জিগাতলায় ওই ধরণের কোন ঘটনা ঘটে নাই। তিনি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এবং জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য এইরূপ মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।

আরো বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য ও সনাক্ত মতে ঢাকা মহানগরীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১৩ নং সেক্টরের ৪ নং রোডের ২ নং বাড়ীর (শ্যুটিং স্পটের) ৩য় তলার সাজঘরের সোফার নীচ থেকে তার ব্যবহৃত কালো ও সোনালী রঙের স্যামসাং মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে সীমসহ জব্দ করা হয়েছে।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফেসবুক লাইভে এসে আসামির দ্বারা বিভ্রান্তকর ও মিথ্যা তথ্য সম্বলিত নাশকতার গুজব ও উস্কানীমূলক ভিডিও প্রচারের প্ররোচনা ও মদদ দানকারী মূল হোতাসহ নেপথ্যে নায়কদের চিহ্নিত করতে, মুল উৎস্য উদঘাটন, আসামির ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা ম্যাসেঞ্জার, গ্রুপ ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার, ইমো ইত্যাদি মাধ্যমে যে সকল লোকদের সাথে চ্যাট করেছে, সেই সকল অ্যাপস এর ইনবক্স চেক/বিশ্লেষণ এবং নাশকতা পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত ফেসবুক গ্রুপের সহযোগি আসামিদের তার সনাক্ত মতে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

নওশাবার পক্ষে তার আইনজীবী কাউসার আহম্মেদ, শ্যামল কান্তি সরকার ও প্রমুখ আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। শুনানির শুরুতে নওশাবার অসুস্থতার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করে তার বসার অনুমতি চান আইনজীবী। আদালত অনুমতি দিলেও শুনানিকালে পুরোটা সময় দাঁড়িয়েই ছিলেন নওশাবা।

শুনাতি তারা বলেন, আসামিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে তিনি একজন দাগি আসামি। তিনি ১০ বছর আগে থেকে শিশুদের নিজের কাছে এনে লালন-পালন করছেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছেন।  রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে মানববন্ধন করেছেন। তিনি ১০ বছর যাবৎ সমাজসেবা মূলক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ৬ বছরের একটি বাচ্চাও আছে। সব কিছু মিলিয়ে শিশুদের জন্য তার একটা সফট কর্ণার রয়েছে।

তারা বলেন, ঘটনার দিন ওই সময় একটি ছেলে তাকে ঘটনার বিষয়ে বলে। ওইখানে ওই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে নি। কিন্তু আমরা জানি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা ওইখানে ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে শুনে ইমোশনাল হয়ে তিনি কাজটি করেছেন। পরে ওই ঘটনার জন্য তিনি ভুল স্বীকার করেছেন। তাছাড়া তিনি এমন কি করেছেন যে ৪ দিনের রিমান্ডের পর আবার রিমান্ডে নিতে হবে। এখানে রিমান্ডের কোন যৌক্তিকতা নেই।

আইনজীবীরা বলেন, আসামি অসুস্থ, ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই। জামিন দিলে তিনি পলাতক হবেন না। আর জামিন না দিলে রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিতে পারেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ডর আদেশ দেন।

এদিকে রিমান্ড শুনানিকালে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে নওশাবাকে। মাঝে-মধ্যে মাকে জড়িয়ে ধরেও কান্নায় ভেঙে পড়েন নওশাবা।

এর আগে গত ৫ আগস্ট নওশাবার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ৪ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব। এরপর র‌্যাব-১ বাদী হয়ে মামলাটি করে।

Comments are closed.