ক্যাম্পাস - August 16, 2018

রাবির দশম সমাবর্তন আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর

অনেক নাটকীয়তার পর অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১০ম সমাবর্তনের দিন নির্ধারন হয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ১০ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য্য জনাব মোঃ আবদুল হামিদ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ম সমাবর্তন আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন আচার্য্য আব্দুল হামিদ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্রপতি আমাদের দশম সমাবর্তনে সভাপত্বি করতে সম্মত হয়েছেন। তবে সমাবর্তনের স্মারক বক্তার বিষয়ে পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে তিন দফা তারিখ ঘোষণা করেও সমাবর্তন অনুষ্ঠান করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। সাবেক ভিসি অধ্যাপক মিজান উদ্দিনের আমলে ২০১৬ সালে সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়। ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর ও ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি দুই দফা সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেও অনিবার্য কারণে তা বাতিল করা হয়। বর্তমান ভিসি অধ্যাপক আব্দুস সোবহান দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। রেজিস্ট্রেশন শেষে ‘২৪ মার্চ’ সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে অনিবার্য কারণে রাষ্ট্রপতি আসতে পারবেন না জানিয়ে, তাঁর পরিবর্তে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ দশম সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন- এমন তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানানো হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রাজুয়েটরা। তারা শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকে সনদ নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে সমাবর্তন আয়োজনের দাবি জানিয়ে ভিসিকে স্মারকলিপি দেন। ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন। একপর্যায়ে গ্রাজুয়েটরা ঘোষণা দেন- সমাবর্তনে শিক্ষামন্ত্রী আসলে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে। পরে অসুস্থতার কথা জানিয়ে সমাবর্তনে আসতে পারবেন না বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। এতে ‘২৪ মার্চ’ নির্ধারিত সমাবর্তন অনুষ্ঠান ফের বাতিল হয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দশম সমাবর্তনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করা হয়। পরে রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা দুই দফা বৃদ্ধি করা হয়। সবশেষ চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তৃতীয় দফায় রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেয়া হয়। সমাবর্তনে অংশ নিতে তিন দফায় মোট ৬ হাজার ৯ জন গ্রাজুয়েট রেজিস্ট্রেশন করেছেন। সমাবর্তনে ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি, এমবিবিএস, বিডিএস ডিগ্রি অর্জনকারীদের রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেয়া হয়।
জানতে চাইলে রাবি ভিসি অধ্যাপক ড. এম. আব্দুস সোবহান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মহোদয়কে আনার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু অনিবার্য কারণে পূর্বে ঘোষিত ‘২৪ মার্চ’ তিনি আসতে পারছিলেন না। তাই রাষ্ট্রপতি নিজে ওই তারিখে শিক্ষামন্ত্রীকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেখানে আমাদের কিছু করার ছিল না। পরে শিক্ষামন্ত্রীর অসুস্থতার কারণে সমাবর্তন পিছিয়ে যায়। এর মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফের রাষ্ট্রপতি মহোদয়কে দশম সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করার জন্য চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়। তিনি আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর সমাবর্তনে আসার সদয় সম্মতি জানিয়েছেন। আশা করি- সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সমাবর্তন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।


আরও পড়ুন

২ Comments

  1. I just want to mention I am very new to blogging and site-building and seriously liked you’re web site. Likely I’m want to bookmark your website . You really have perfect articles. Cheers for sharing your website page.

Comments are closed.