কটিয়াদীতে কালের সাক্ষী হয়ে ঠাঁই নিয়েছে নীল কুঠি

আতিকুর রহমান কাযিন । নিজস্ব প্রতিবেদক , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
আগস্ট ২০, ২০১৮ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ

অন্তহীন নন্দীত ঐতিহ্যের পাশাপাশি ব্রিটিশ শাসন আমলে ইংরেজ বেনিয়ারা প্রতিষ্ঠিত করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুরে নীল কুঠি। ১৮৮৬ সালে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় নীল চুল্লীর মধ্যে এটিই ছিল উল্লেখযোগ্য।

জালালপুরে এখনো এই নীল চুল্লীর ধংসাবশেষ রয়েছে। যেখানে আর্তমানবতার ভাষা স্তব্ধ। যেখানে অত্যাচার অবিচারের দাপট ছিল আঁকাশচুম্বি সেখানে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নীল কুঠির।  ‘ভারতের কৃষক বিদ্রোহের গনতান্ত্রিক সংগ্রাম নীল বিদ্রোহ পর্ব’’ থেকে জানা যায়, জালালপুরের আশে পাশের কৃষকদেরকে জোড় করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে নীল চাষ করাতে বাধ্য করত। যেসব কৃষকরা নীল চাষ করতেন না তাদেরকে বেত্রাঘাত করে পিঠের চামড়া তুলে নিয়ে কোমড়ে দড়ি বেঁধে গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখত ব্রিটিশরা।

দরিদ্র কৃষকদেরকে মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত কাজ করিয়ে সন্ধাবেলা ব্রিটিশরা কানমলা দিয়ে শূন্য হাতে বিদায় করে দেওয়া হতো। ১৮৮৬ সালে ব্রিটিশদের লাগামহীন অত্যাচারে জালালপুর এলাকার ফালান মির্ধা  নামক এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটনা ঘটে। তাছাড়াও তাদের অমানবিক নির্যাতন আর অত্যাচারের ফলশ্রুতিতে অনেক মানুষ পঙ্গু যাপন করে মৃত্যু বরণ করেছে।

পরাধীনতার রজ্জু যে কত নিষ্ঠুর এই নীল কুঠিরই তার দৃষ্টান্ত। জালালপুরের নীল কুঠির ইটের ভিতরে রয়েছে পূর্ব পুরুষদের হাহাকার আর আর্তনাদ ও বেদনাময় চিত্র।

এই নীল কুঠি এদেশের মানুষের কাছে কাঁটা হয়ে থাকলেও তার দিকে তাকিয়ে আজকের প্রজন্ম পরাধীনতার প্রতি দীক্ষা ছুড়বে। এই নীল কুঠি প্রায় ধংস প্রাপ্ত হলেও সকলের কল্যানে, জাতির স্বার্থে একে সরকারি ভাবে টিকিয়ে রাখাটা অত্যান্ত প্রয়োজন এবং বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মহল।

 

Comments are closed.

LATEST NEWS