বদলে যাও তবে তুমি

সাহিত্য ও সংস্কৃতি রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
আগস্ট ২০, ২০১৮ ১০:৪০ অপরাহ্ণ
ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েদের নাকি ভাব বেশি । এরা নাকি কথায় কথায় অন্যদের আন্ডারএস্টিমেট করে । তো আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে কথাটা পুরোপুরি সত্যি নয় । ঢাকা শহরে যতোগুলো ব্লাড ক্যাম্পেইন হয় কিংবা ঈদ অথবা বিভিন্ন উৎসবে যে সকল চ্যারিটি ওয়ার্ক হয় তার প্রায় সবগুলোতেই ঢাবির ছেলেমেয়েরা সবার আগে থাকে ।
উত্তরবঙ্গের মানুষগুলো নাকি মফিজ হয় ।
আমাদের কলেজের সব থেকে মেধাবী ছেলেটি ছিল উত্তরবঙ্গের । সে এখন মেডিকেলের ছাত্র । সেই ছেলেটার মধ্যে কখনো দেখি নাই সে কিছু কম বোঝে অথবা মেডিকেলে পড়াশুনা করে বলে অন্যকে হ্যারাস করে বা ছোট করে দেখে ।
মাম্মি ড্যাডির পোলাপান বলে একটা টার্ম প্রচলিত হয়েছে । হয়তো আমি বা আমরাই প্রাইভেট ভার্সিটির ছেলেমেয়েদের খাটো করতে গিয়ে এই কথাটা বলে ফেলি । অথচ খেয়াল করলে দেখবেন ঢাকা শহরে প্রচুর মাম্মি ড্যাডি টাইপ ছেলেমেয়ে আছে যারা ৪/৫ টা টিউশনি করিয়ে সেমিস্টার ফি যোগাড় করে । সেই খবর আমরা রাখি না ।
ইডেন বা জাহাঙ্গীরনগরের মেয়ে শুনলেই পাবলিক একটা বাঁকা চাহনি দিয়ে বলে , সিউর ,এই মাইয়ার ভার্জিনিটি নাই । অথচ এই ক্যাম্পাসগুলোতেও এমন মেয়ে পাবেন যারা হিজাব করে হাত পা ঢেকে ক্যাম্পাসে আসে ।
রাত ১০ টায় ইডেনের ফুটপাত দিয়ে একটা মেয়েকে হাঁটতে দেখলেই আপনি ভেবে বসেন মেয়ে বুঝি মাত্রই ডেট করে এলো । অথচ খবর নিয়ে দেখুন সে পার্ট টাইম জব করে । নতুবা টিউশনি করে ।
বি প্র্যাক্টিক্যাল …
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নাম শুনলেই নাক সিটকানোর মতো মানুষের অভাব নাই । ন্যাশনালের এক আপুকে চিনেছিলাম একটা ভলান্টারিং কাজ করতে গিয়ে । মেয়েটা এতো সুন্দর ইংরেজি বলে যে আপনার তার ইংরেজি শুনতেই মন চাইবে বারবার । মিল্টনের কবিতাগুলো এতো সুন্দর করে আবৃত্তি করে যেটা বলার বাইরে ।
একবার ব্লাড ক্যাম্পেইনে এক মেয়ে এলো ।
মেয়েটা আসছে একটা টয়োটা প্রিমিওতে করে । পরনে ওয়েস্টার্ন পোশাক । আশপাশের সবাই হা করে দেখছে । আমি ধরেই নিলাম এই লালচুলো চিড়িয়াটা এখানে সেলফি তুলে শো অফ করতেই এসেছে । রাতের বেলা ফেসবুকে পিক দিয়ে বলবে , জীবনে প্রথম ব্লাড ডোনেট করলাম ব্লা ব্লা ব্লা …
অবাক হয়ে খেয়াল করলাম ইনি এসবের কিছুই করলেন না । স্মার্ট ফোন বের করে সেলফি তুললেন না । একে ওকে ডেকে ভাব নিলেন না । শুধু ব্লাডটা দিয়ে নিজের গাড়িতে করে যেভাবে এসেছিলেন সেভাবেই চলে গেলেন । নিজের ধারনার উপর আমি নিজেই সেদিন লজ্জা পেয়েছিলাম । পেয়েছিলাম শিক্ষাও । সেই শিক্ষাটা কি ? সেটা হলো মানুষকে দেখে আচমকাই জাজ করে ফেলো না ।
ইডেনে পড়লেই কেউ খারাপ হয় না ।
ঢাবিতে পড়লেই কেউ ভাব নিবে এটা কোন কথা না ।
প্রাইভেট ভার্সিটির সবাই মাম্মি ড্যাডির পোলাপান হইতে হবে এমন কোন শর্ত নাই ।
ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়লেই কেউ পার্টি গার্ল হয় না ।
ন্যাশনালে পড়লেই কেউ ইংরেজি বলতে পারবে না অথবা দুর্বল হবে এমন কোন কথা নাই ।
জাজ করার আগেও অন্যকে সম্মান দেয়াটা জরুরী । এবং সেটাই করা উচিত । আসুন ইতিবাচকতাকে প্রমোট করি 🙂

 

লেখক:
আরাফাত আব্দুল্লাহ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Comments are closed.

LATEST NEWS