দারোগার প্রতারণামূলক বিয়ে : ঝড়ে পড়লো কিশোরগঞ্জের মেয়ে জেবিনের প্রাণ

শফিক কবীর । স্টাফ রিপোর্টার , কিশোরগঞ্জ
আগস্ট ২১, ২০১৮ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

দারোগা স্বামীর প্রেম-বিয়ে-প্রতারণা আর নিষ্ঠুরতার বলি হয়ে বিয়ের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যে লাশ হলো গৃহবধূ আয়েশা আক্তার জেবিন (৩০)।

সোমবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের কালিহাতি পৌরসদরের সাতুটিয়া এলাকায় কালিহাতি থানার এএসআই হামিদুল ইসলামের ভাড়া বাসা থেকে তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার জেবিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আয়েশা আক্তার জেবিন কিশোরগঞ্জ শহরের চরশোলাকিয়া এলাকার মো. মুর্শিদ মিয়ার মেয়ে। এএসআই হামিদুল ইসলাম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রী আয়েশা আক্তার জেবিন আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করলেও জেবিনের পরিবার তা নাকচ করেছেন।

জেবিনের পরিবারের দাবি, এএসআই হামিদুল ইসলাম তার ডিভোর্সি প্রথম স্ত্রী মোছা. সাবিকুন্নাহারকে সাথে নিয়ে আয়েশা আক্তার জেবিনকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। তারা জেবিন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত এএসআই হামিদুল ইসলাম ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার বিনোদ বাড়ি মালকোন গ্রামের মো. সোহরাব আলীর ছেলে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, এএসআই হামিদুল ইসলাম জামালপুর সদর উপজেলার বন্দচিথলিয়া গ্রামের মো. বিল্লাল উদ্দিনের মেয়ে মোছা. সাবিকুন্নাহারকে ২০০৫ সালের ১৭ই জুন বিয়ে করেন। কিন্তু দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের সন্তানাদি না হওয়ায় ১২ বছর পর ২০১৭ সালের ৪ জুলাই কিশোরগঞ্জের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে এএসআই হামিদুল ইসলাম স্ত্রী মোছা. সাবিকুন্নাহারকে তালাক দেন। এই বিবাহ বিচ্ছেদের পর কিশোরগঞ্জ শহরের চরশোলাকিয়া এলাকার মো. মুর্শিদ মিয়ার মেয়ে আয়েশা আক্তার জেবিনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এএসআই হামিদুল ইসলাম গত ৭ মে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পরই জেবিন জানতে পারেন, স্বামী এএসআই হামিদুল ইসলাম ডিভোর্সি প্রথম স্ত্রী মোছা. সাবিকুন্নাহারের সাথে এখনো সম্পর্ক রেখে চলেছেন। প্রেম প্রতারণার মাধ্যমে এএসআই হামিদুল তাকে বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে সম্প্রতি এএসআই হামিদুল স্ত্রী আয়েশা আক্তার জেবিনকে কিশোরগঞ্জে তার বাবার বাসায় রেখে যান। গত ১২ আগস্ট জেবিন টাঙ্গাইলের কালিহাতি গেলে সেখানে ডিভোর্সি স্ত্রী মোছা. সাবিকুন্নাহারকে স্বামী এএসআই হামিদুলের সাথে তাদের ভাড়া বাসায় পান। এ নিয়ে তাদের পরিবারে কলহ বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় সোমবার সোমবার (২০ আগস্ট) দুপুরে আয়েশা আক্তার জেবিন রাগ করে কিশোরগঞ্জের বাবার বাসায় চলে আসতে চাইলে এএসআই হামিদুল তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে জেবিনের সাথে এএসআই হামিদুল ও তার ডিভোর্সি স্ত্রী সাবিকুন্নাহারের ঝগড়া হয়। পরে রাতে জেবিনের পরিবারকে ফোন করে এএসআই হামিদুল জানান, ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেবিন গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’

নিহত আয়েশা আক্তার জেবিনের বাবা মো. মুর্শিদ মিয়া অভিযোগ করেন, এএসআই হামিদুল ইসলাম তার ডিভোর্সি প্রথম স্ত্রী মোছা. সাবিকুন্নাহারকে সাথে নিয়ে আয়েশা আক্তার জেবিনকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। তিনি তার মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

কালিহাতি থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে তাদের আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে ওসি জানান, লাশের ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর এটি হত্যা না আত্মহত্যা সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া