উত্তরাধিকার হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পাবেন ভাই-বোনও

ডেস্ক রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ ৯:৫২ অপরাহ্ণ

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার হিসেবে স্বামী/স্ত্রী/সন্তান/পিতা-মাতার অবর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার ভাই-বোনকে ভাতা নেয়ার অধিকার দিয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ বিল সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। এছাড়া নতুন আইনে প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত ও নিয়মিত আয়ের উৎস থাকা মুক্তিযোদ্ধাদেরও সম্মানীভাতার পাওয়ার অধিকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে নিরীক্ষা প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বিলটি সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সুবিধাভোগী কারা হবেন, তা স্পষ্ট করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ট্রাস্টের মালিকানাধীন স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির উন্নয়ন রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থা করবেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সম্মানীভাতা, উৎসব ভাতা বা অন্য কোনো ভাতা বা সম্মানী প্রদান করবে।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রীকে ভাইস চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী মনোনীত চারজন মুক্তিযোদ্ধা এমপি বা উত্তরাধিকারী, অর্থ সচিব, শিল্প সচিব, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ও ট্রাস্ট্রের এমডিকে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্র গঠিত হবে। বিলে এই বোর্ডের পূর্বানোমদন ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্রের কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, হস্তান্তর ও দীর্ঘ মেয়াদি ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রহিত করা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদেও কল্যাণে ১৯৭২ সালে জারি করা দ্যা বাংলাদেশ (ফ্রিডম ফাইটারস) ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অর্ডার রহিতক্রমে পরিমার্জন ও যুগোপযোগী করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্র আইন প্রণীত হয়। আগের আইনে প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সদস্য বা সরকারি পেনশনভোগী বা যাদেও নিয়মিত আয়ের উৎস আছে, তারা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাদের সম্মানীভাতা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছিল না। নতুন আইনে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন জড়িত থাকার কারণে বিল উত্থাপনে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেয়া হয়েছে।

এছাড়া গতকাল বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল ২০১৮, পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্রমিক (চাকরির শর্তাবলি) বিল, ২০১৮, কৃষি বিপণন বিল, ২০১৮, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন বিল, ২০১৮ উত্থাপিত হয়।

৫টি বিলের রিপোর্ট উত্থাপন

সংসদে সোমবার চারটি বিলের রিপোর্ট উপস্থাপিত হয়। সেগুলো হলো- বস্ত্র বিল, ২০১৮, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধন) বিল, ২০১৮, যৌতুক নিরোধ বিল, ২০১৮, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০১৮। এছাড়া স্পিকারের বিশেষ ক্ষমতা বলে কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস সমূহকে মাস্টার্স ডিগ্রি ইসলামিক স্টাডিস ও আরবি সমমান বিল-২০১৮ উত্থাপন করা হয়।

এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল, ২০১৮ বিলটি আরো বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রদানের জন্য সংসদীয় কমিটিকে আরো ১ মাস (৩০ দিন) সময় দিয়েছে জাতীয় সংসদ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া
কবি আবদুল হাই মাশরেকীর জন্মশতবর্ষ উৎসবে ময়মনসিংহে দুই বাংলার কবি-সাহিত্যিকের মিলন মেলা কুলিয়ারচরে এসএসসির ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও অর্থ সংগ্রকারী প্রতারক চক্রের ১ সদস্য আটক আফগানিস্তানের ২০ ওভারে ২৭৮ রানের বিশ্বরেকর্ড! 'মার্কিন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে ঢুকেছে ইরান' ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল চূড়ান্ত ভারতের বেঙ্গালুরুতে বিমান ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৩০০ গাড়ি পুড়ে ছাই ছাত্রী উত্ত্যক্ত করার দায়ে ছাত্রলীগ নেতার কারাদণ্ড পুরান ঢাকায় আর রাসায়নিকের ব্যবসা করতে দেয়া যাবে না : প্রধানমন্ত্রী সাবেক মন্ত্রীকে বিয়ে করছেন সানাই আসামে বিষাক্ত মদপানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪