রাবির আবাসিক হলে ফাটল, ঝুঁকি নিয়েই বসবাস শিক্ষার্থীদের

উমর ফারুক , রাবি প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ ৭:৫৩ অপরাহ্ণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী আবাসিক হলের নাম নবাব আব্দুল লতিফ হল। ১৯৬৫ সালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এ হলের থাকার চাহিদা ছিল শীর্ষে। কিন্তু বাংলার নবাবের নামে প্রতিষ্ঠিত এই হলের নবাবী খ্যাতি এখন আর নেই। দেখতে একেবারে নাজেহাল অবস্থা। মনে হয় বাজেয়াপ্ত কোন ভবন। ২৬ বছর আগেই বিশেজ্ঞরা হলের ছাদের সংস্কারের প্রস্তাব দিলেও এখন পর্যন্ত হলের তেমন কোন সংস্কার না করায় ৩২৫ শিক্ষার্থীর এই আবাসিক হলে দীর্ঘদিন থেকে বড় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রতি রুম দুই সিটের এই আবাসিক হলে প্রায় নিয়মিতই ভবনের ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তরা। এসময় বিভিন্ন সময়ে আহত হয়েছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। ছাদ থেকে খসে পড়া পলেস্তরার টুকরোর আঘাতে মাথা ফেটে মারাত্বক আহত হয়ে পাঁচটি সেলাই দেয়া হয় এক ডাইনিংয়ের কর্মচারীর ও বিভিন্ন সময়ে আহত হন অনেক শিক্ষার্থী। ঐতিহ্যবাহী এই হলের তৃতীয় তলার ছাদের অবস্থা খুবই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অন্যান্য তলার অবস্থাও প্রায় একই রকম। দাবি উঠেছে হয় হলকে ব্লক করে দেয়া হোক অথবা হলের তৃতীয় তলার ছাদ ভেঙ্গে পুরোটাই সংস্কার করা হোক। এদিকে হলের সিঁড়িগুলোর অধিকাংশতেই ফাটল ধরেছে। হলের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশঙ্কা করছেন যেকোন মুহুর্তেই ঘটে যেতে পারে বড় ধরণের অনাকাঙ্কিত ঘটনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৭টি হলের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থা এই হলের। অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ হলের মধ্যে শের-ই বাংলা, সৈয়দ আমির আলী, শাহ মখ্দুম হলও রয়েছে। সম্প্রতি হলের হলের সংস্কার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভ করলেও কোন সংস্কারে হাত দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অনুসন্ধান করে জানা যায়, ১৯৯২ সালে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে আগুনে পুড়ে যায় গোটা হল। তখনই হলটি পুরোপুরি ড্যাম হয়ে যায়। বুয়েট থেকে বিশেজ্ঞদের আনা হলে তারা হলের শক্তি পরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন, হলের একশত ভাগের মধ্যে মাত্র ৩৮ থেকে ৪০ শতাংশ শক্তিক্ষমতা আছে। এর মধ্যে ৩৬২, ৩৬৪ নম্বর রুমের শক্তিক্ষমতা মাত্র ১৫ পারসেন্টের কম থাকায় বিপদের আশঙ্কা করে রুম দুটি পুরোপুরি ব্লক করে দেয়া হয়। বড় ধরণের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ১৯৯৪ সাল থেকে হল প্রশাসন সংস্কার আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত সংস্কার করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, হলের ছাদের পলেস্তরা ভেঙ্গে পড়ে। মাঝে মাঝে কোন কোন রুমে পানিও পড়ে। অধিকাংশ সিড়িতে ফাঁটল ধরেছে। এতে বড় ঝুঁকির মুখে থাকি আমরা। অন্যান্য সমস্যাতো আছেই। যেহেতু পুরো হলেই ড্যাম তাই হয় হলকে ব্লক করে দেয়া হোক অথবা হলের তৃতীয় তলার ছাদ ভেঙ্গে পুরোটাই সংস্কার করার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

আহত হলের ডাইনিংয়ের কর্মচারী আব্দুল খালেক জানান, বিভিন্ন সময়ে হলের সংস্কারের কথা জনালেও কোন উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। কিন্তু ছাদের পলেস্তরা পরে আমার মাথা ফেটে পাঁচটি সেলাই দেয়া হলে চিকিৎসার জন্য মাত্র পাঁচশত টাকা দেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তৌহিদ মোর্শেদ জানান, হলের সংস্কার দাবিতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১৮ দফা দাবি নিয়ে প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু আমাদের সংস্কারের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

হল প্রসাশনের দাবি, ১৯৯৪ সাল থেকে সংস্কারের দাবি জানা সত্ত্বেও যেহেতু কোন সংস্কার হচ্ছে না তাই কারো জীবনের ক্ষতি বা বড় বিপদের ঘটনা হলে হল প্রশাসন দায় নেবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনির জানান, হলের সংস্কারের জন্য চার থেকে পাঁচ বার বাজেট চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কিন্তু যদি বাজেট না আসে তাহলে এ ব্যাপারে আমাদের করার কিছুই থাকে না। আমাদের নিজ উদ্যোগে কোন কিছু করার ক্ষমতা নেই। তবে আমরা এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছি।

হলের সাবেক ও বর্তমান (ভারপ্রাপ্ত) প্রভোস্ট ড. বিপুল কুমার বিশ্বাসকে পরপর দুইদিন ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোন নাম্বরেই ফোন রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রো-ভিসি-২ প্রফেসর ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়া জানান, আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। শিক্ষার্থীরা যাতে আতঙ্ক ছাড়াই হলে থাকতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুতই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া