সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বাংলাদেশের অনন্য সাফল্য

প্রতিনিধি , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮ ১০:১৭ অপরাহ্ণ

আহমেদ আবু সাইম, কমিউনিটি মিডিয়া ফেলো ।। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি সরকারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সেবা। ডিপথেরিয়া, হুপিং কফ, ধনুষ্টংকার, যক্ষ্মা, পোলিও এবং হাম, শিশুদের এই ৬টি রোগের প্রতিষেধক টিকাদান কর্মসূচি। পরবর্তীতে ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম ও রুবেলা রোগ যুক্ত করা হয়। এসব রোগ টিকাদানে প্রতিরোধ যোগ্য। এই রোগগুলি নির্মূল করার উদ্দেশ্যে বিশ্ব ব্যাংক ‘শিশু টিকাদান কর্মসূচি’ গ্রহণ করে। বিশ্বের সকল শিশুই এই টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত। সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচির লক্ষ্য সারা পৃথিবীর সকল শিশুকে এ কর্মসুচির অধীন নিয়ে আসা। ভারত ও বাংলাদেশ সরকার সহ জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক শিশুদের সংক্রামক রোগগুলো টিকাদানের মাধ্যমে শিশু মৃত্যুহার কমানোর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিচালিত একটি চলমান কর্মসূচি এটি। ৭ এপ্রিল ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে ১ বছরের কম বয়সী সকল শিশুদের বহুল পরিচালিত সংক্রামক রোগ যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, হাম, পোলিও-মাইটিস এবং মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার পরবর্তীকালে ২০০৩ সাল থেকে হ্যাপাটাইটিজ রোগের টিকা, ২০০৯ সাল থেকে হিমোফাইলাস রোগের টিকা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে নিউমোনিয়ার টিকা দেওয়া হচ্ছে। ১৯৯৫ সালে সরকারের গৃহীত এই শেষের কর্মসূচি প্রত্যেক বছর দুই দিন জাতীয় টিকাদান দিবস হিসেবে নির্ধারিত আছে, যা ব্যাপক অংশগ্রহণের সুবিধার্থে শীতকালের শুষ্ক মাসগুলিতেই পালিত হয়। এই টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েনি দলিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিশুরা। ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর শিশুদেরকে এই টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি কার্যক্রম কয়েক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করে। ১৯৯৩ সাল নাগাদ প্রায় ৭৪ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া হয় এবং ১৯৯৮ সালে কয়েকটি ক্ষেত্রে তা প্রায় ৮৫ শতাংশে পৌঁছায়। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির ছয়টি টিকার মধ্যে কেবল পোলিও টিকা মুখে খাওয়ানো হয়, বাকি সবগুলিই ইনজেকশন। পোলিও টিকার তিন ডোজের মধ্যে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি তৃতীয় ডোজটি দেয়। প্রথম দুটি ডোজ দেওয়া হয় পোলিও নির্মূল কর্মসূচির বিশেষ কার্যক্রমের অধীনে। জাতিসংঘ সদস্য ভুক্ত দেশগুলো সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি অনুসরণ করে প্রত্যেকে ভ্যাক্সিনেশন প্রকল্পে তাদের স্ব স্ব কর্মসূচী গ্রহণ করে। টিকা দান কর্মসুচি সফল ভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য বহুমুখী জটিল বিশ্বস্ত কর্মপন্থা যেমন কোল্ড চেইন বজায় রাখা, পরিবহন ব্যবস্থা, ভ্যাকসিন সরবরাহ, ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও ব্যাবস্থাপনা, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পরিবিক্ষণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি, শিশু ভ্যাক্সিনেশনের নথি সংরক্ষণ ইত্যাদি। প্রত্যেক এলাকায় কাজ করার ক্ষেত্রে তাদের প্রাপ্ত সুবিধার ভিন্নতার কারনে কর্নপন্থার কিছুটা ভিন্নতা আছে। কোন কোন দেশ হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাথে নির্দিষ্ট টিকাকেন্দ্র আছে। কিন্তু যেসব দেশে সীমিত সুবিধা আছে সে সব দেশে গ্রাম ও শহরবাসী মানুষের নিকট এ সুবিধা পৌঁছনোর জন্যে মোবাইল টিমের সদস্যরা কাজ করে। দুর্গম জায়গায় সেবাদল বছর ব্যাপী চালায়। উন্নয়নশীল দেশ গুলোর পক্ষে এ কাজ চালানো কঠিন। তাই তারা বার্ষিক ভাবে শিশুদের মধ্যে পালস ভ্যাক্সিনেশনের ব্যবস্থা করে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির জন্য সার্বজনীন শিশু টিকাদানে আজ বাংলাদেশ অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে। প্রধানত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির কল্যাণেই ১৯৯৭ থেকে ২০০২ পর্যন্ত বহু লক্ষ শিশুর মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া
কবি আবদুল হাই মাশরেকীর জন্মশতবর্ষ উৎসবে ময়মনসিংহে দুই বাংলার কবি-সাহিত্যিকের মিলন মেলা কুলিয়ারচরে এসএসসির ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও অর্থ সংগ্রকারী প্রতারক চক্রের ১ সদস্য আটক আফগানিস্তানের ২০ ওভারে ২৭৮ রানের বিশ্বরেকর্ড! 'মার্কিন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে ঢুকেছে ইরান' ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল চূড়ান্ত ভারতের বেঙ্গালুরুতে বিমান ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৩০০ গাড়ি পুড়ে ছাই ছাত্রী উত্ত্যক্ত করার দায়ে ছাত্রলীগ নেতার কারাদণ্ড পুরান ঢাকায় আর রাসায়নিকের ব্যবসা করতে দেয়া যাবে না : প্রধানমন্ত্রী সাবেক মন্ত্রীকে বিয়ে করছেন সানাই আসামে বিষাক্ত মদপানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪