কিশোরী বধূর হাত-পা বেঁধে স্বামী-শাশুড়ির দেহব্যবসা

মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম , জেলা প্রতিবেদক কিশোরগঞ্জ
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮ ১:১৭ অপরাহ্ণ

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে এক কিশোরী বধূ (১৩)কে হাত-পা বেঁধে স্বামী-শাশুড়ির দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ২৪শে সেপ্টেম্বর কিশোরী বধূ বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। নির্যাতিত ঐ কিশোরী বর্তমানে বাবার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অভিযুক্তরা হলো- কিশোরী বধূর স্বামী মো. তারেক (২৪), শ্বশুর জাহেদ আলী (৫০), দেবর মো. শরীফ (২২), শাশুড়ি ছফুরন (৪৫), ফুফাত বোন শিরীন আক্তার (৩০), ধর্ষক হোসেন মিয়া (৩২), মুসলিম (৪৫) ও সাত্তার (৩৮)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাহের পর থেকেই নিকলী উপজেলা সদরের মাইজহাটি গ্রামের জাহেদ আলীর পুত্র স্বামী তারেক মিয়া প্রতি রাতে পর পুরুষের সঙ্গে রাত্রিযাপনে বাধ্য করে। কিশোরী বধূ বাঁধা দিলে তাকে স্বামী তারেক ও শাশুড়ি ছফুরন ঘরে তালাবদ্ধ ঘরে আবদ্ধ করে রাখে। এমনকি বাবার বাড়ির কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতেও দেয় না। কথামতো কাজ না করলে তারা ওই কিশোরীকে বিক্রি করে দেয়ার কথা জানায়। গত ১৫ই সেপ্টেম্বর রাতে কিশোরীর স্বামী তারেক ধর্ষক হোসেন মিয়া, মুসলিম ও সাত্তারকে নিয়ে বাড়িতে আসে। কিশোরীকে রাত্রিযাপনের প্রস্তাব দিলে রাজি না হলে দেবর শরীফ, শ্বশুর জাহেদ আলী, শিরিন আক্তারের সহযোগিতায় ধর্ষকরা কিশোরী বধূকে হাত-পা-মুখ বেঁধে অটোরিকশায় উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে জারইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর গ্রামের একটি সেমিপাকা ঘরে নিয়ে তোলে। রাতভর পাশবিক নির্যাতন করে। মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তির হাতে ভোর হলেই তুলে দেয়ার কথা বললে কোনো রকমে মুখের বাঁধন খুলে চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী ওই বধূকে উদ্ধার করেন। ধর্ষকরা পালিয়ে যায়।

এলাকাবাসী কিশোরীর বাবাকে মোবাইলে বিষয়টি জানালে দিনমজুর বাবা ইজ্জ্বতের কথা ভেবে মেয়েকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়। এ বিষয়ে নিকলী থানায় মামলা করতে গেলে কিশোরীর পরিবারকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হলে সোমবার কিশোরী বধূ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের আসামি করে মামলা করে।

Comments are closed.

LATEST NEWS