পাকিস্তানকে বিদায় করে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮ ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

সাকিব আল হাসান নেই, নেই তামিম ইকবাল। ইনজুরি নিয়ে খেলছেন মুশফিকুর রহীম এবং অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দলের নিউক্লিয়াস যারা, তাদেরই অধিকাংশ নেই। এমন একটি দল নিয়েই এশিয়া কাপের সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার দুবাইয়ের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪৮.৫ ওভারে ২৩৯

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২০২/৯

মুস্তাফিজের চতুর্থ
নিজের আগের ওভারে নিয়েছিলেন হাসান আলীর উইকেট। পরের ওভারে এসে মোহাম্মদ নওয়াজকেও ফেরালেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি পেসারের বল পুল করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে দ্বাদশ ফিল্ডার নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়েন নওয়াজ (৮)। ইনিংসে মুস্তাফিজের এটি চতুর্থ উইকেট। পাকিস্তানের স্কোর তখন ৯ উইকেটে ১৮৬।

ওভারের শেষ বলে পাকিস্তানের ইনিংসের ইতি টেনে পাঁচ উইকেট পেতে পারতেন মুস্তাফিজ।  উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন শাহিন আফ্রিদি। তবে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়েও কঠিন ক্যাচটা ধরতে পারেননি লিটন দাস।

ঝড় তোলার আগেই হাসানকে ফেরালন মুস্তাফিজ
ঝড় তোলার আগেই হাসান আলীকে ফিরিয়ে দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি পেসারের বল উড়াতে চেয়েছিলেন হাসান। বল উঠে যায় আকাশে। মিড অন থেকে খানিকটা দৌড়ে গিয়ে ক্যাচ নেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ইনিংসে এটি মুস্তাফিজের তৃতীয় উইকেট। হাসান (১১ বলে ৮) ফেরার সময় পাকিস্তানের স্কোর ৮ উইকেটে ১৮১। জয়ের জন্য শেষ ৬ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ৫৮ রান, বাংলাদেশের ২ উইকেট।

গলার কাঁটা সরালেন মাহমুদউল্লাহ
ওপেনিংয়ে নেমে পাকিস্তানকে একাই টানছিলেন ইমাম উল হক। বাংলাদেশের জন্য একরকম গলার কাঁটাই হয়ে গিয়েছিল তিনি। সেই ইমামকে ফিরিয়ে কাঁটা সরিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। অফ স্পিনারের বল বেরিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন ইমাম। বল ধরেই স্টাম্পিং করেন লিটন দাস। ১০৫ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় ৮৩ রান করেন ইমাম। তার ফেরার সময় পাকিস্তানের স্কোর ৭ উইকেটে ১৬৭। পরপর দুই ওভারে আসিফ আলী ও ইমামকে ফিরিয়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছে বাংলাদেশ।

আসিফকে ফেরালেন মিরাজ
একবার জীবন পাওয়া আসিফ আলীকে ফিরিয়ে ৭১ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি ভেঙেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২২ রানে আসিফের সহজ ক্যাচ ফেলেছিলেন লিটন। সেই লিটনই হাতেই স্টাম্পড হয়ে ফিরেছেন ৩১ রান করা আসিফ। পাকিস্তানের স্কোর তখন ৬ উইকেটে ১৬৫।

ইমাম-আসিফ জুটির পঞ্চাশ
ইমাম উল হক ও আসিফ আলীর ষষ্ঠ উইকেট জুটি পঞ্চাশ ছুঁয়েছে। ৯৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন এই দুজন।

সহজ ক্যাচ ছাড়লেন লিটন
দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে প্রথম বলেই উইকেট পেতে পারতেন মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু আসিফ আলীর সহজ ক্যাচ ফেলেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।  তার এক হাতে ক্যাচ নেওয়ার চেষ্টা দেখে মনে হয়েছে, তিনি প্রস্তুতই ছিলেন না! আসিফ তখন ২২ রানে ব্যাট করছিলেন।

ইমামের ফিফটি
চাপের মুখে দারুণ এক ফিফটি তুলে নিয়েছেন ইমাম উল হক। ৭৪ বলে পঞ্চাশ ছুঁতে মাত্র ২টি চার মারেন ওপেনার এই ব্যাটসম্যান। এটি তার তৃতীয় ওয়ানডে ফিফটি। তিনটিই এবারের এশিয়া কাপে।

পাকিস্তানের একশ
২৭ ওভার তিন বলে একশ ছুঁয়েছে পাকিস্তানের স্কোর। এর মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়েছে তারা। উইকেটে আছেন ইমাম উল হক ও আসিফ আলী।

শাদাবকে টিকতে দিলেন না সৌম্য
উইকেটে নামার পর থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের খেলতে সংগ্রাম করতে হচ্ছিল তাকে। সেই শাদাব খানকে বেশিক্ষণ টিকতে দিলেন না সৌম্য সরকার। মিডিয়াম পেসারের শর্ট বল পুল করতে চেয়েছিলেন শাদাব। ঠিকমতো খেলতে পারেননি। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল জমা পড়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। শাদাব (২৪ বলে ৪) ফেরার সময় পাকিস্তানের স্কোর ৫ উইকেটে ৯৪।

সৌম্যর এটিই প্রথম ওয়ানডে উইকেট। মজার বিষয়, তার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিও এই পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেটা ছিল আবার দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচেই। ২০১৫ সালে ঢাকায় অপরাজিত ১২৭ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

মাশরাফির দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরলেন মালিক
শুরুর ধাক্কা সামলে শোয়েব মালিক ও ইমাম উল উকের জুটিটা তখন জমে গিয়েছিল। বাংলাদেশের জন্য দরকার ছিল ব্রেক থ্রু। সেটি এনে দিলেন রুবেল হোসেন। ডানহাতি পেসার ফিরিয়ে দিলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিককে। তবে এই উইকেটে রুবেলের চেয়ে বড় কৃতিত্ব অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার। মিডল স্টাম্পে রুবেলের ফুল লেংথ বলটা মালিক খেলতে চেয়েছিলেন মিড উইকেটের ওপর দিয়ে। একটু লাফিয়ে উঠে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে টুর্নামেন্টেরই অন্যতম সেরা ক্যাচ নেন মাশরাফি। মালিকের (৩০) বিদায়ে ভাঙে ৬৭ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। পাকিস্তানের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ৮৫।

মুস্তাফিজের ফাঁদে ধরা পড়লেন সরফরাজ
নিজের দ্বিতীয় ওভারে আবার উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই ফিরিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে (৭ বলে ১০)। আগের বল লেগ স্টাম্পে পেয়ে চার মেরেছিলেন সরফরাজ। পরের বলটা মুস্তাফিজ করলেন অফ স্টাম্পের বাইরে। সেই ফাঁদে পা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম। তখন ১৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পাকিস্তান।

দ্বিতীয় বলেই মুস্তাফিজের উইকেট
এই পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়েই তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল বছর তিনেক আগে। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে আজই প্রথম ওয়ানডে খেলছেন মুস্তাফিজুর রহমান। যেখানে নিজের দ্বিতীয় বলেই উইকেট নিলেন বাঁহাতি এই পেসার। এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন বাবর আজম (১)। তখন ৩ রানেই ২ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের।

প্রথম ওভারেই মিরাজের উইকেট
প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অফ স্পিনারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন ফখর জামান (১)। সরাসরি ধরা পড়েন মিড উইকেটে। একটু লাফিয়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন রুবেল হোসেন। ২ রানেই পাকিস্তান হারায় ১ উইকেট।

২৩৯ রানে অলআউট বাংলাদেশ
শুরুর মতো শেষটাও ভালো হলো বাংলাদেশের। ১২ রানেই হারিয়েছিল ৩ উইকেট। সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুনের ১৪৪ রানের জুটিত দলকে ম্যাচে ফেরায়। কিন্তু জুটি ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রানেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস, তখন বাকি ৭ বল।

৪২ রান তুলতেই বাংলাদেশ হারিয়েছে শেষ ৫ উইকেট। এর মধ্যে শেষ দুই উইকেট পড়েছে ৪৯তম ওভারে পরপর দুই বলে। রুবেল হোসেন হয়েছেন রান আউট। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা (১৩)। সর্বোচ্চ ৯৯ রান করেছেন মুশফিক।

দুর্দান্ত বোলিং করেছেন মোহাম্মদ আমিরের জায়গায় সুযোগ পাওয়া জুনাইদ খান। ৯ ওভারে মাত্র ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন শাহিন আফ্রিদি ও হাসান আলী।

ঝড় তোলার আগেই ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ
ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলে আসতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। ঝড় তোলার আগেই তাকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেছেন জুনাইদ খান। ৩১ বলে এক চারে মাহমুদউল্লাহ ২৫ রান করে ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৮ উইকেটে ২৩০।

টিকলেন না মিরাজ
মুশফিকুর রহিমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। জুনাইদ খানের বলে দ্বাদশ ফিল্ডার শান মাসুদকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১১ বলে করেছেন ১২ রান। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ২২১। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বাংলাদেশের দুইশ
মুশফিকুর রহিম ৯৯ রানে আউট হলেও বাংলাদেশের রানের চাকা থামেনি। এর এক বল পরই শাহিন আফ্রিদিকে চার মেরে দলের স্কোর দুইশ পার করেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৪২ ওভারের শেষ বলে দুইশ ছুঁয়েছে বাংলাদেশ, হারিয়েছে ৬ উইকেট।

মুশফিকের ১ রানের আক্ষেপ
যখন উইকেটে এসেছিলেন, ১২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে দল। খাদের কিনারা থেকে দলকে দারুণভাবে টেনে তুলেছেন। কিন্তু মুশফিকুর রহিম নিজে ফিরলেন ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে। আউট হয়েছেন যে ৯৯ রানে। তরুণ পেসার শাহিন আফ্রিদির এক বল আগেই ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষকের পাশ দিয়ে চার পেয়েছিলেন। ৯৫ থেকে পৌঁছে গিয়েছিলেন ৯৯-এ। সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরির অপেক্ষা। কিন্তু এক বল পরই ফেরেন আক্ষেপ নিয়ে। অফ স্টাম্পের বল মুশফিকের ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে উইকেটরক্ষকের হাতে। ১১৬ বলে ৯ চারে ইনিংসটি সাজান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯৯ রানে আউট হলেন মুশফিক। এর আগে ২০০৯ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতেই মুশফিক আউট হয়েছিলেন ৯৮ রানে।

এবার পারলেন না ইমরুল
আগের ম্যাচে চাপের মুখে ছয়ে নেমে অপরাজিত ৭২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছিলেন ইমরুল কায়েস। আজ মোহাম্মদ মিথুনের বিদায়ের পর যখন ছয়ে নামলেন, তেমন কোনো চাপ ছিল না। কিন্তু এবার ভালো করতে পারলেন না বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। লেগ স্পিনার শাদাব খানের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ১০ বলে এক চারে করেছেন ৯ রান। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৫ উইকেটে ১৬৭। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।

মিথুনের বিদায়ে ভাঙল বড় জুটি
হাসান আলীকে স্লগ খেলতে চেয়েছিলেন মোহাম্মদ মিথুন। কিন্তু ঠিকমতো খেলতে পারেননি। বল উঠে যায় আকাশে। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নেন হাসান। ৮৪ বলে ৪ চারে ৬০ রান করে ফেরেন মিথুন। মিথুনের বিদায়ে ভাঙে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তার ১৪৪ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১৫৬।

মিথুনের ফিফটি
মুশফিকুর রহিমের পর ফিফটি তুলে নিয়েছেন মোহাম্মদ মিথুনও। হাসান আলীকে পুল করে চার হাঁকিয়ে ৬৬ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এই সময়ে চার মেরেছেন ৩টি।

মুশফিক-মিথুন জুটির শতরান
মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুনের চতুর্থ উইকেট জুটির শতরান পূর্ণ হয়েছে। ১২৮ বলে ছুঁয়েছে জুটির সেঞ্চুরি। ১২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর জুটি বেঁধেছিলেন এই দুজন। ২৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ১১৬। মুশফিক ৫৭ ও মিথুন ৪৪ রানে অপরাজিত আছেন।

মুশফিকের ফিফটি
চাপের মুখে নেমে দারুণ এক ফিফটি করেছেন মুশফিকুর রহিম। ৬৮ বলে ফিফটি করতে ৫টি চার হাঁকিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। এটি মুশফিকের ৩০তম ওয়ানডে ফিফটি।

বাংলাদেশের একশ
বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজের বলে রিভার্স সুইপ করতে চেয়েছিলেন মোহাম্মদ মিথুন। টপ এজ হয়ে উইকেটরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল চলে যায় পেছনে। সেখান থেকে ২ রান নিলেন মিথুন। আর এই ২ রানে ছাড়াল দলীয় শতরান। ২৪ ওভার ১ বলে একশ করেছে বাংলাদেশ। ২৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ১০৭। মুশফিক ৪৯ ও মিথুন ৪৩ রানে অপরাজিত আছেন।

মুশফিক-মিথুন জুটির পঞ্চাশ
লেগ স্পিনার শাদাব খানের অফ স্টাম্পের বলটা রিভার্স সুইপ করে চার হাঁকালেন মুশফিকুর রহিম। এই চারেই পূর্ণ হলো মুশফিক ও মোহাম্মদ মিথুনের চতুর্থ উইকেট জুটির পঞ্চাশ। ৬৮ বলে জুটির পঞ্চাশ হয়েছে। এই ওভারে শাদাবকে আরো একটি চার মেরেছেন মুশফিক।

বাংলাদেশের পঞ্চাশ
১২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুন। তাদের ব্যাটে ১৫ ওভার তিন বলে দলীয় পঞ্চাশ ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ৫৫। মুশফিক ২৬ ও মিথুন ১৬ রানে অপরাজিত আছেন।

পাওয়ার-প্লেতে নেই তিন উইকেট
প্রথম পাওয়ার-প্লের ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান তুলতে পেরেছে বাংলাদেশ। তার চেয়েও বড় কথা, উইকেট হারিয়েছে তিন-তিনটি। আউট হয়ে গেছেন সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক ও লিটন দাস। চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুন। মুশফিক ১২ ও মিথুন ২ রানে অপরাজিত আছেন।

টিকলেন না লিটনও
আগের দুই ওভারে আউট হয়েছেন সৌম্য সরকার ও মুমিনুল হক। পরের ওভারে ফিরে গেলেন লিটন দাসও। জুনাইদ খানের বলে বোল্ড হয়েছেন ৬ রান করা লিটন। বাঁহাতি পেসারের বলটা পড়েছিল অফ স্টাম্পে, ভেতরে ঢুকে এলোমেলো করে দেয় স্টাম্প। পরপর তিন ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে তখন বিপদে বাংলাদেশ। ১২ রানের মধ্যেই আউট হয়েছেন ওপরের দিকের তিন ব্যাটসম্যান! উইকেটে আছেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুন।

চার মেরেই ফিরলেন মুমিনুল
শাহিন আফ্রিদির আগের বলে ফ্লিক করে মিড উইকেট আর মিড অনের মাঝ দিয়ে দারুণ এক চার মেরেছিলেন। পরের বলেই আউট হয়ে ফিরে গেলেন মুমিনুল হক। বাঁহাতি পেসারের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ৫ রান করা মুমিনুল। অফ স্টাম্পে পড়ে সুইং করে ভেতরে ঢোকা বল মিস করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, উড়ে যায় একটি স্টাম্প।

এক বছর পর ফিরে সৌম্যর শূন্য
সময়ের হিসাবে ঠিক এক বছর তিন দিন পর আজ ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ফেরাটা রাঙাতে পারলেন না সৌম্য সরকার। টানা তিন ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত রান না পাওয়ায় আজ সৌম্যকে ওপেনিংয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বাজে শটে আউট হয়েছেন শূন্য রানে।

বাঁহাতি পেসার জুনাইদ খানের শর্ট বল পুল করতে চেয়েছিলেন সৌম্য। বলে উঠে যায় আকাশে। স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ নেন ফখর জামান। মোহাম্মদ আমিরের জায়গায় দলে এসে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট পেলেন জুনাইদ। বাংলাদেশের স্কোর তখন ১ উইকেটে ৫।

তিন পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের সর্বশেষ ম্যাচের একাদশ থেকে আজ তিনটি পরিবর্তন এসেছে। আঙুলের চোটে খেলছেন না সাকিব আল হাসান। তার জায়গায় খেলছেন মুমিনুল হক। পরিবর্তন আছে আরো দুটি। ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তর জায়গায় খেলছেন সৌম্য সরকার, আর বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর জায়গায় এসেছেন পেসার রুবেল হোসেন।

পাকিস্তান দলে পরিবর্তন এসেছে একটি। মোহাম্মদ আমিরের জায়গায় একাদশে এসেছেন আরেক পেসার জুনাইদ খান।

বাংলাদেশ একাদশ
লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিথুন, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান।

পাকিস্তান একাদশ
ইমাম-উল-হক, ফখর জামান, বাবর আজম, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), শোয়েব মালিক, আসিফ আলী, শাদাব খান, মোহাম্মদ নওয়াজ, হাসান আলী, জুনাইদ খান, শাহিন আফ্রিদি।

টস জিতলেন মাশরাফি
আগের ম্যাচের মতো আবার টস ভাগ্য পাশে পেলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায়।

ফাইনালে ওঠার লড়াই
আজ অঘোষিত সেমিফাইনাল। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের যে দলই জিতবে, তারাই টিকিট পাবে ২৮ অক্টোবর এশিয়া কাপ ফাইনালের। যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছে ভারত। অন্যতম ফেবারিট হিসেবে টুর্নামেন্টে এসেছিল পাকিস্তান। হংকং ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে দুবারের দেখায় দুবারই উড়ে গেছে তারা।

সরফরাজ-মালিকদের মনোবলে তাই কিছুটা হলেও ধাক্কা লেগেছে। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের কঠোর সমালোচনায় চাপের মুখেও আছে তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশ জয়ে শুরু করে টানা দুই হারের পর সবশেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে শেষ ওভারে হারিয়েছে। ফলে মাশরাফি-মুশফিকরা এখন অনেকটাই উজ্জীবিত। এশিয়া কাপের শেষ তিন আসরে দুবার ফাইনালে খেলা বাংলাদেশ আরেকটি ফাইনালের আশায়।

বাংলাদেশের প্রতিশোধের ম্যাচ
২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে এই পাকিস্তানের কাছে হেরেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বাংলাদেশের। ২ রানের সেই হারের পর সাকিব-মুশফিকদের কান্না ছুঁয়ে গিয়েছিল গোটা দেশকেই। ২০১৪ এশিয়া কাপেও পাকিস্তান বাংলাদশের হাতের মুঠো থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল শহীদ আফ্রিদির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। এরপর ২০১৬ এশিয়া কাপে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারালেও সেটা ছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। বাংলাদেশের সামনে তাই আজ প্রতিশোধের সুযোগ।

ওয়ানডেতে দুই দলের সর্বশেষ তিন ম্যাচেই অবশ্য বাংলাদেশ জিতেছে। ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করেছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সেই স্মৃতি বাংলাদেশকে আজ আত্মবিশ্বাসই জোগাবে। সব মিলিয়ে দুই দলের ৩৫ বারের দেখায় বাংলাদেশের জয় চারটি, পাকিস্তানের ৩১টি।

মাশরাফির এক উইকেটের অপেক্ষা
আগের ম্যাচেই ওয়ানডেতে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অবশ্য এর মধ্যে ২৪৯ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে। একটি উইকেট নিয়েছিলেন ২০০৭ সালে এশিয়া একাদশের হয়ে আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে। আজ একটি উইকেট পেলেই বাংলাদেশের জার্সিতে আড়াইশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করবেন ডানহাতি এই পেসার।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া