মাতৃমৃত্যু এবং শিশু মৃত্যু রোধে গর্ভবতীদের জন্য সরকার চালু করেছে মাতৃত্বকালীন ভাতা

প্রতিনিধি , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮ ৭:২৬ অপরাহ্ণ

আহমেদ আবু সাইম, কমিউনিটি মিডয়া ফেলো ।। দরিদ্র মহিলাদের পরিবারের ভরন পোষণ ও অর্থ উপার্জনের জন্য কাজ করতে হয়। কিন্তু গর্ভাবস্থার শেষ দিকে বা মাতৃত্বকালীন অবস্থায় কাজ করা সম্ভব হয় না। পুষ্টিকর খাবার বা ভরন পোষণের অভাবে মা অসহায় অবস্থায় পড়েন। এই অবস্থা থেকে মুক্ত করতে দরিদ্র মাকে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়া হয়। চিলমারী উপজেলায় ১ হাজার ৩৮ জন নারীকে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যু রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মাতৃত্বকালীন ভাতা। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৩৮ জন মায়ের জন্য প্রত্যেককে মাসিক ৫০০টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। প্রতি ৬ মাস পর পর উপকারভোগীর নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব নাম্বারে ৩ হাজার টাকা জমা হয়। সাধারণত প্রথম অথবা দ্বিতীয় গর্ভকালীন সময়ে ২ বছর মাসিক এই ভাতার টাকা দেওয়া হয়। মাতৃমৃত্যু এবং শিশু মৃত্যু রোধ করার লক্ষ্যে গর্ভকালীন সময়ে কিংবা গর্ভের পরে মা ও শিশু পুষ্টির চাহিদা মিটানোর জন্যই মাতৃত্বকালীন ভাতা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সমন্ধে বিভিন্ন পরামর্শমূলক সেবা দেওয়া হয়। সমাজের অসহায়, অসচ্ছল ও সুবিধাবি ত মায়েদের মাতৃত্বকালীন সময়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৮ সাল থেকে সরকার এ ভাতা চালু করেছে। প্রতিবছরই এর জনপ্রিয়তা ও ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি ২ বছর অন্তর অন্তর নতুন নামের তালিকা তৈরি করা হয়। ফলে কমছে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার। মাতৃত্বকালীন ভাতার মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র মায়েরা আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। গ্রামীণ দরিদ্র সমাজে এখনো অনেকে প্রাচীন ধ্যান ধারণায় বিশ্বাসী। বিশেষ করে চরা লগুলোতে অজ্ঞতা ও কুসংস্কার লক্ষ্য করা যায়। একজন মা যখন গর্ভবতী হয়, তখন তার জন্য বাড়তি অথবা পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন হয়। যা গ্রামীন জনগোষ্ঠীর অনেকেই জানেনা বা খেয়াল করেননা কিংবা অর্থনৈতিক দৈন্যতার জন্য সম্ভব হয়না। কারো কারো ধারণা মাতৃত্বকালীন সময়ে কম খাবার খেতে হয়। শাক-সবজি খেলে পেটে অসুখ হয়। তাই মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের মাধ্যমে মা ও তার পরিবারের লোকজন চাহিদামত খাবার খেতে পারে। অজ্ঞতা দূর হচ্ছে। পুষ্টির অভাব অনেকটাই পূরণ হচ্ছে। ভাতা প্রাপ্তির ফলে ওই পরিবারে মায়ের কদর বাড়ছে ও পরিবারের লোকজন মায়ের দিকে বাড়তি খেয়াল রাখছে।

Comments are closed.

LATEST NEWS