গ্রন্থাগার ব্যবহারে যত অনাগ্রহ কুবি শিক্ষার্থীদের!

প্রতিনিধি , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ ১২:০৭ অপরাহ্ণ

সজীব বণিক, কুবি প্রতিনিধি : পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব। বই লেনদেন মান্ধাতার আমলের। স্বতন্ত্র গ্রন্হাগার না থাকা। *পর্যাপ্ত পাঠকক্ষ ও আসন সংখ্যা নগন্য। বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়ন,ইন্টারনেট সহজলভ্যতা সত্ত্বেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারের কোনো সুযোগসুবিধা পাচ্ছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও গ্রন্থাগারের নেই কোনো পরিবর্তন, নেই কোনো পরিবেশ।  প্রশাসনিক ভবনের পাঁচতলায় গ্রন্থাগার ,পর্যাপ্ত বইয়ের অভাব, আসন সংখ্যা ও পাঠকক্ষ সঙ্কটের কারনে দিন দিন গ্রন্হাগারে পড়ার আগ্রহ হারাচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়(কুবি) শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের নানান বিষয়ের বই পড়ার জন্যে গ্রন্থাগারের চেয়ে ভালো কোনো স্হান হতে পারে না অথচ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারের প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধা ও উপযুক্ত পরিবেশ থেকে বঞ্চিত।

ফলস্বরুপ,শিক্ষার্থীদের মাঝে দিনদিন গ্রন্থাগারে পড়ার আগ্রহ কমছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ব্যবহার না হওয়া আর পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়াতে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

গ্রন্থাগারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও প্রায় ৬৫০০ ছাত্রছাত্রীর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে দেশি-বিদেশী,শিক্ষকদের গবেষণা ও সাময়িকীসহ মাত্র বইয়ের সংখ্যা ১৬৮৮১টি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত গ্রন্থাগার খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীদের উপস্হিতি সকালবেলায় দেখা গেলেও দুপুরে প্রায় আসনই ফাঁকা থাকে।

এভাবেই ৮০ আসন বিশিষ্ট দুটো পাঠকক্ষে পাঁচ তলা বেয়ে বইপিপাসু শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন পড়াশোনা করছেন গ্রন্থাগারে।  বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার পাঠকক্ষের রেজিস্ট্রি খাতা দেখতে চাইলে গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্ট একজন এ প্রতিবেদককে জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩৫০জন শিক্ষার্থী পড়তে আসে।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ সময়ে দুটো পাঠকক্ষের ৮০ টি আসনে প্রায় পঞ্চাশ ভাগ ফাঁকা থাকে। গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্টদের কাছে একমাসের বই ধার দেওয়া ও নেওয়ার সংখ্যা জানতে চাইলে,কোনো হিসাব দেখাতে চাননি।

আনুমানিক চিন্তাভাবনায় তারা বলে দেন,প্রতিদিন অনেক বই লেন-দেন হয়। যা স্পষ্ঠত বই লেনদেন প্রক্রিয়া কতোটুকু মান্ধাতার আমলের।  অধিকাংশ সেলফে এলোমেলোভাবে বই রাখা হয়েছে যার দিকে নজর নেই কোনো গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্টদের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও আমরা কোনো মানসম্মত গ্রন্হাগার পাইনি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার পাঁচতলায় হওয়ার কারনে অনেক শিক্ষার্থী উপরে বেয়ে না পড়ার অন্যতম কারণও দেখছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিমত, গ্রন্থাগারে প্রয়োজন মতো পরিবেশ, কর্তৃপক্ষের অবহেলা, পর্যাপ্ত বই না থাকার পাশাপাশি যথেষ্ট আধুনিকায়নের অভাবই গ্রন্হাগার ব্যবহারে অনাগ্রহ তৈরী হয়েছে।

এদিকে অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিষয়ভিত্তিক বইয়ের অপ্রতুল রয়েছে যা শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনমত গ্রন্হাগারে গিয়ে পড়তে পারছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হাবিব অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অনেক লেখকের বই নেই। প্রয়োজনমত বই না পেলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এমবি খরচ করে পড়তে হয়।  নতুন বইয়ের অপর্যাপ্ততা গ্রন্থাগার ব্যবহারে অনাগ্রহ সৃষ্টি করছে বলে মনে করেন তিনি।

তাছাড়া গ্রন্হাগারে যেমন পরিবেশ ও গোছানো থাকে ঠিক ততোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে পাওয়া যায় না বলেও জানান এই শিক্ষার্থী।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলী আহম্মদ বলেন, গ্রন্থাগার  সবসময় হতে হবে নিচতলায় এবং স্বতন্ত্র।  কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে প্রশাসনিক ভবনের পাঁচ তলায় উঠে পড়তে হয় যা আমাদের জন্য খুবই কষ্ট সাধ্য।

এ ব্যাপারে ডেপুটি গ্রন্থাগারক মহি উদ্দিন মোহাম্মদ তারিক ভূইয়া জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী বইয়ের সংখ্যা সন্তোষজনক নয়। এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি এবং ই-রিসোর্স সেন্টার চালু করতে যাচ্ছি। তাছাড়া জায়গা সঙ্কটের কারনে প্রায় দুই হাজার হাজার বই পরিত্যাক্ত অবস্হায় পড়ে আছে।  স্বতন্ত্র গ্রন্হাগারের জন্যে উপাচার্য মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি।  তবে আলাদা গ্রন্হাগার হলে সব ধরনের সমস্যা খুব দ্রত লাঘব হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

 

Comments are closed.

LATEST NEWS