রাবির দশম সমাবর্তন, রাষ্ট্রের অমিয় শক্তি যুবসমাজ : রাষ্ট্রপতি

উমর ফারুক , রাবি প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ ৩:১০ অপরাহ্ণ

‘সবসময় নৈতিক মূল্যবোধ ও বিবেক ও দেশ প্রেম জাগ্রত রাখবে। কখনও অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথানত করবে না। মনে রাখতে হবে সমাবর্তন শিক্ষার সমাপ্তি ঘোষণা করছে না বরং উচ্চতর জ্ঞানভা-ারে প্রবেশের দার উন্মোচন হয়েছে। তোমরা সেই জ্ঞান রাজ্যে অবগাহন করে বিশ্বকে আরও সমৃদ্ধ করবে। শনিবার রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তনে বিশ^বিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম মাঠে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আব্দুল হামিদ।

এ সময় রাষ্টপতি আরও বলেন, জাতীর অমিয় শক্তি হলও যুব সমাজ। যুব সমাজের শক্তি ও সম্ভাবনাকে দেশ কাজে লাগাতে হবে। উচ্চশিক্ষা যাতে শিক্ষা সর্বস্ব ও বাণিজ্যিক পণ্য না হয় সেজন্য দেশ ও জাতির স্বার্থে সম্মিলিতভাবে কাজে লাগাতে হবে।।

বিশ্ববিদ্যালয় মূলত মুক্তচিন্তা বিকাশের জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার মধ্য দিয়ে এখানে নতুন নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তির জন্ম হয়। এসব জ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্রমেই সমগ্র বিশ্বের সম্পদে পরিণত হয়। এর ফলে পৃথিবী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রোভিসি চৌধুরি জাকারিয়া, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ। এর আগে বেলা ৩টায় রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম মাঠে শোভাযাত্রাসহ প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আব্দুল হামিদ। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে পাঠ করা হয়।

এ সময় বিশেষ অতিথি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও নতুন জ্ঞান অনুসন্ধান ও সৃষ্টি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সৃষ্ট জ্ঞান আমাদের মৌলিক ও বিশেষ সমস্যাগুলোর সমাধান দিতে পারে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সে ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। পরে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আগে ছাত্রীদের জন্য শেখ হাসিনা হল ও ছাত্রদের জন্য শহীদ এ এইচএম কামারুজ্জামান হল নামে দুইটি দশ তলা বিশিষ্ট আবাসিক হলের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাবির ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান, প্রোভিসি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা ও প্রফেসর মো: চৌধুরি জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান আল- আরিফ প্রমুখ।

এছাড়াও সমাবর্তনে বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক প্রফেসর হাসান আজিজুল হক এবং বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক সেলিনা হোসেনকে সম্মানসূচক ডিলিট ও অভিজ্ঞানপত্র প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি।

 

Comments are closed.

LATEST NEWS