অষ্টগ্রামে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

মন্তোষ চক্রবর্তী । ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি , মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ
অক্টোবর ৬, ২০১৮ ২:৪২ অপরাহ্ণ

অষ্টগ্রাম উপজেলার বাংগালপাড়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এই ভূমি কর্মকর্তা এলাকার বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যপারে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ করার পর দীর্ঘদিনেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগকারীরা জানান।

এছাড়াও তার পূর্বে কর্মস্থল খয়েরপুর-আব্দুলাপুর ইউনিয়নে থাকাকালীন অসংখ্য লোকজনের কাছে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার হাতিয়ে নিয়েছে বলে একাধিক ব্যাক্তি প্রতিনিধি কে জানান। বাংগালপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সূত্রে জানা যায়, গত ৯/১১/২০১৫ ইং তারিখে খয়েরপুর-আব্দুলাপুর থেকে বাংগালপাড়া ইউনিয়নে সহকারি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে উক্ত মো: বশির উদ্দিন যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি এই ইউনিয়নের বিভিন্ন লোকজনের সাথে কায়দা কৌশলে সখ্যতা গড়ে তোলেন। বিভিন্ন কাজ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায় করতে থাকেন। বাংগালপাড়া ইউনিয়নে মনোহরপুর গ্রামের মূত হুরুন আলীর পুত্র ঝন্টু মিয়া জানান, প্রায় একবছর আগে ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা মো: বশির উদ্দিন তার বাড়িতে গিয়ে পৈত্রিক ওয়ারিশ প্রাপ্ত দখলকূত ভূমি সরকারি খাস বলে জানান।

তিনি বলেন, যদি আমার সাথে যোগাযোগ না করো তাহলে এ ভূমি ছেড়ে দিতে হবে। স্বল্পশিক্ষিত ঝন্টু মিয়া তার কিছু লোকজন নিয়ে তার অফিসে গিয়ে আলোচনা করলে বশির উদ্দিন বলেন, ৫০ হাজার দিলে তোমার দখলীয় উসমানপুর মৌজার আর এস খতিয়ান নং ১৫২ দাগ নং ১৭২২ এর ২৪ শতাংস ভূমি তোমার নামে কাগজ করে দেব।

তারপর দুইদফায় তাকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার পর আরোও ৮০০ টাকা দিয়ে বহু ঘুরাঘুরির পর দেখা যায়, উক্ত ভূমি ব্যক্তির নামেই বিএস রেকড লিপিবদ্ধ আছে। পরে তার কাছে টাকা চাইলে টাকা ফেরত দেয়নি। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

একই ইউনিয়নের উসমানপুরের জজ মিয়ার স্ত্রী আসমা বেগম বলেন, জরুরী একটি খারিজ (মিউটেশনের) জন্য বশির উদ্দিন তার কাছ থেকে ২৫ হাজার দাবি করেন। পরে বশির উদ্দিন ২০ হাজার টাকায় কাজটি করে দিতে রাজি হন। এরপর ১০ হাজার টাকা দিয়ে অনেক দিন ঘুরাইরা খারিজে কোন কাগজ পত্র দিচ্ছেন না। আসমা ¦েগম জানান, সম্পত্তি বিক্রি করতে না পেরে বর্তমানে পরিবারের লোকজন নিয়ে মানবেতর দিনাদিপাত করছেন। পরে উপায় না পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে লিখিত অভিযোগ করি।

দক্ষিন বাংগালপাড়ার মৃত মজলিশ মিয়ার স্ত্রী অসহায় বিধবা মিনারা বেগমের তিন শতাংশ ভূমিতে বসবাস করতেন। মিনারা বেগমের দাবিকৃত এই নিয়ে ভূমি নিয়ে আদালতে একটি মামলাও ছিল। কিন্ত ভূমি অফিস সম্প্রসারণের সময় তৎকালীন ইউএনও তাঁকে এ তিন শতাংশের পরিবর্তে তাকে উসমানপুর মৌজা ৫৪৪ দাগে সরকারি খাস বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে এ বিধবা নারী রাজি হয়ে তার ভূমির দখল ছেড়ে দেন। কিন্ত উক্ত ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বশির উদ্দিন তালবাহানার পর মিনারা বেগমের নামে ভিটেবাড়ির বদলে নদীর মধ্যে ১০ শতাংশ বন্দোবস্ত ও কবুলিয়ত করিয়ে দেন। বর্তমানে অসহায় বিধবার মাথা গোঁজার ঠাই না পেয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছে বলে জানান।

এ বিষয়ে বাংগালপাড়া গিয়ে জানা যায় উছমানপুর গ্রামের মৃত দিল্লুর আলীর পূত্র রমিজ উদ্দিন (৮৫) তার কাছ সরকারী খাস ভুমি দেবে থেকে কয়েক বারে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা নিয়েছে, একি গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর পূত্র অহিদ মিয়া জানান খারিজের জন্য প্রায় ০১ বছর আগে ৫ হাজার টাকা দিয়েছিলাম কিন্তু এখন তার কাছেই যেতে পাছিনা। আনোয়ারপুরের লাফু মিয়ার পূত্র খারিজের জন্য ৮ হাজার টাকা দিয়েছে বলে জানান। দক্ষিণ বাংগাল পাড়ার মৃত মজরা আলীর পূত্র রওশন আলী জানান ৩শতাংশ খাস ভূমি দেবে বলে প্রায় ২ বছর আগে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিল কিন্তু এখন তাল বাহানা করছে।

এ ব্যপারে বাংগাল পাড়া ইউনিয়ের চেয়ারম্যান এনামূল হক ভূঁইয়া বলেন, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা মো: বশির উদ্দিন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে এসব ছড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপাজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজী ফয়সালকে (অঃদাঃ) জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি এবং এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া