কটিয়াদীতে জানাযার নামাজে বাধা, ২১ ঘন্টা পর দাফন সম্পন্ন

আতিকুর রহমান কাযিন । নিজস্ব প্রতিবেদক , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
অক্টোবর ৬, ২০১৮ ৯:০৫ অপরাহ্ণ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মুর্শিদ উদ্দিনের (৭৫) জানাযা এবং দাফন কাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের চারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ২১ ঘন্টা পর শনিবার দুপুরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে চারিয়া সামাজিক গোরস্থানে মৃত মুর্শিদ উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়।

জানা যায়, মৃত মুর্শিদ উদ্দিন অন্তত ২০ বছর পূর্বে একই গ্রামের সাইদুর রহমানের নিকট ১৩ হাজার টাকা সাব্যস্ত করে ৮ কাঠা জমি বিক্রি করে। টাকা পয়সা লেনদেন সম্পন্ন হলেও ক্রেতার নিকট জমি রেজিস্ট্রি না দেয়ায় এ নিয়ে বহু দেন দরবার হলেও জমির বিরোধ নিষ্পত্তি বা ক্রেতার নিকট জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। এ অবস্থায় শুক্রবার বিকাল ৪ ঘটিকায় মুর্শিদ উদ্দিন মারা যায়। স্থানীয় মসজিদে রাত ৮ টায় তার জানাযার নামাজের সময় ঘোষণা করা হয়। জানাযার নামাজের পূর্বে জমি ক্রেতা সাইদুর রহমান উপস্থিত লোকজনের নিকট বিরোধ নিষ্পত্তির করে জানাযা পড়ানোর আবেদন করেন।

এ ব্যাপারে মৃত মুর্শিদ উদ্দিনের একমাত্র কন্যা রাজিয়া সুলতানার নিকট নিষ্পত্তির বিষয় উত্থাপন করলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে এলাকাবাসী জানাযা না পড়েই স্থান ত্যাগ করেন। এ নিয়ে রাতভর গ্রামবাসীর মধ্যে কানাঘোষা ও নিন্দার ঝড় বইতে থাকে। শনিবার দুপুরে চান্দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান খোকন মিয়া, স্থানীয় মেম্বার জিয়া উদ্দিন মল্লিকের মাধ্যমে শালিস দরবারের আশ্বাস দিয়ে লাশ দাফন করে।

এ ব্যাপারে মৃত মুর্শিদ উদ্দিনের একমাত্র কন্যা রাজিয়া সুলতানা বলেন, জমি আমার নামে দেন দরবার থাকলে আমার সাথে করতে পারে। কিন্তু তা না করে আমার বাবার লাশ দাফন করতে দিচ্ছে না। এ জমি নিয়ে মামলা মোকদ্দমাও হয়েছে। জমি ক্রেতা সাইদুর রহমান বলেন, ২০ বছর পূর্বে আমার কাছে জমি বিক্রি করে কাওলা না দিয়ে মৃত মুর্শিদ উদ্দিন তার মেয়ের নামে কাওলা করে দেয়। আমি জমি ভোগদখল করলেও কাওলা না দেয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তির দাবী জানাই। চান্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন বলেন, উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দুপুরে দাফন সম্পন্ন হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া