প্রযুক্তি সুবিধায় সরকারের বাৎসরিক সাশ্রয় হবে ৫০ কোটি টাকা

প্রতিনিধি , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
অক্টোবর ৯, ২০১৮ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঢাকার মোহাম্মদপুর, আদাবর, বাড্ডা এবং উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আবাসিক ০৬ (ছয়)টি স্থাপনায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও র‌্যাব-এর সমন্বয়ে বিগত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ হতে ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত পরিচালিত অবৈধ ভিওআইপি অভিযানে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ১০,৯৪৭ (দশ হাজার নয়শত সাতচল্লিশ) টি সিম ও প্রায় ৩৭ (সাইত্রিশ) লক্ষাধিক টাকা মূল্যমানের অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ০৮ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ১১টায় বিটিআরসি’র সম্মেলন কক্ষে কমিশনের উধ্বর্তন কর্মকর্তা, অভিযানে সম্পৃক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদানে সংশ্লিষ্ট -আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরাম (আইওএফ) ও বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরস-এর উধ্বর্তন কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করা হয়। এতে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান জনাব মোঃ জহুরুল হক এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, অভিযানকালে মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ৫,০৭৫টি, এয়ারটেল/রবির ৩,৮৯৭টি, গ্রামীণফোনের ১,৪১৪টি, বাংলালিংকের ৪২৬টি, পিএসটিএন অপারেটর র‌্যাংকসটেলের ১২০টি এবং ওয়াইম্যাক্স অপারেটর বাংলালায়ন এর ১৫টি সিম জব্দ করা হয়। এছাড়া, অবৈধ ভিওআইপি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরণের সিমপোর্ট যেমন: ৫১২ (পাঁচশত বার), ২৫৬ (দুইশত ছাপ্পান্ন), ১২৮ (একশত আটাশ), ৩৬ (ছত্রিশ), ৩২ (বত্রিশ), ২৪ (চব্বিশ), ১৬ (ষোল) ও ০৮ (আট) সিমপোর্ট বিশিষ্ট মোট ৭২টি জিএসএম (সিমবক্স) গেটওয়ে ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক মালামাল জব্দ করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩৬,৮০,০০০ ( ছত্রিশ লক্ষ আশি হাজার) টাকা।
এ বিষয়ে জড়িত থাকায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা, আদাবর থানা, বাড্ডা থানা এবং উত্তরা পশ্চিম থানায়  বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০১ -এর অধীনে  মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিটিআরসি তার চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আধুনিক ও আর্ন্তজাতিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় বর্তমানে এ সংক্রান্ত অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত সিমবক্স এর সু-নিদির্ষ্ট স্থান (পিন পয়েন্ট) সনাক্তকরণে সক্ষমতা অর্জন করেছে। যার ফলে সম্প্রতিক অভিযানগুলোতে অতীতের চেয়ে অধিকতর সফলতা অর্জিত হচ্ছে এবং অভিযানগুলো থেকে প্রতীয়মান হয়েছে যে, অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সরকারের প্রতি বছর আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান সংশ্লিষ্ট খাত থেকে ৫০ কোটি টাকারও অধিক সাশ্রয় হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া