কটিয়াদীতে তুচ্ছ জাম্বুরাকে কেন্দ্র করে গৃহবধু হাসপাতালে

মোঃ আশরাফ আলী । স্টাফ রিপোর্টার , কিশোরগঞ্জ
অক্টোবর ২৬, ২০১৮ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ

কিশোরগঞ্জ জেলাধীন কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও মামুদপুর গ্রামের বধূ কে ভাসুর দ্বারা নির্যাতিত হয় গত বৃহঃবার (২৫ অক্টোবর) তারিখে সকাল ৯ ঘটিকার সময় তার নিজ বাড়ীতে তুচ্ছ জাম্বুরা ফলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

মোছাঃ রুনা আক্তার, বয়স- ৩০ বৎসর, পিতামৃত- নান্নু ভূঞা, স্বামী- এমরান খান, গ্রাম- করগাঁও মামুদপুর, উপজেলা- কটিয়াদী, জেলা- কিশোরগঞ্জ। দুই পুত্রের মা রুনা তার দুই ছেলেকে সকাল বেলা খাবারের পর ছেলেদেরকে উঠানে খেলতে দিলে তার চাচা মোঃ নিজাম খান গাছ থেকে জাম্বুরা পারার সময় দুই ছেলে, সাদ (৪), ছোয়াদ (২) দুই ভাই দৌড়ে যেয়ে একটি জাম্বুরা নিয়ে আসে। সাদ এর পিছন পিছন দৌড়ে এসে রুনা আক্তারকে প্রথমেই অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও পরে হাতে থাকা বটি দা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জখম আঘাত করে। এক পর্যায়ে রুনা বেহুশ হইয়া পরে গেলে ঘটনা ঐ দিনই বোনকে দেখতে যান মোঃ রবিন একমাত্র ছোট ভাই। বোনকে বিমর্ষ অবস্থায় দেখে প্রথমেই স্থানীয় চিকিৎসালয়, পড়ে ২৫০ শয্যা কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। রুনা’র জ্ঞান ফিরলে জাম্বুরার বিষয়টি বিস্তারিত বলে ভাইয়ের কাছে। চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা উন্নতির জন্য ২৫ তারিখ রাত পর্যন্ত পরিবারের কেহ মামলা দায়ের করিতে পারেনাই।

রুনার একমাত্র ভাই রবিন বলেন, আগামী শুক্রবার অথবা শনিবার দিন যথারীতি মামলা দায়ের করব নিজামের বিরুদ্ধে। তিনি আরও জানান, বিয়ের পর থেকে দুলা ভাইয়ের চেয়ে বেশি নিজাম যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে আসছিল। আমার ভগ্নিপতি সরল হওয়ার সুযোগ ব্যবহার করে শারীরিক ও মানসিক সুযোগ মত নির্যাতন করে যাচ্ছে। একা বাড়ীতে ঘুমাতে পাড়েনা। যেকোন সময় দরজা খুলে ঢোকে পড়ে।

রুনা কান্নার সুরে বলেন, আমার বাবা না থাকায় একমাত্র ছোট ভাই আমরা দুই বোন নিরুপায়। ভাই যতটুকু পারে সময় সময়ে সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে নিজামের দোকান খরিদ করা ইচ্ছা হলে আমাকে ঘরে এসে বলে পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে। না হয় আমি বললে আমার ভাই তোকে রাখবেনা। মনে রাকিস। আমার ভাই আমার কথায় চলে। তাই তুই আমার ভাইয়ের বউ নস, আমরা সকলের বউ তুই। তাকে মারা অবস্থায় অন্য দুই ভাই বলে ওকে এভাবে মারলে হবেনা তার চুলটি কেটে শরীরে ছেকা দিতে হবে তাহলেই সে সোজা হবে। চার ভাইয়ের অমানসিক নির্যাতনে দিন কাটাচ্ছিল রুনা। কাউকে কিছু বলে নাই। ঘটনাক্রমে আজ ভাই আসাতে সব ফাঁস হলো এবং মুখোশ খুলে গেলো ভদ্র ব্যবহারকারী ভগ্নিপতি অন্য ভাইদের।

রবিন কাদঁতে কাঁদতে বলে, বোনের ভাই হওয়া এতটাই কষ্টকর যে বোনের ক্ষত বিক্ষত শরীর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি দেখে বাবা হারানো দিনের কষ্টকর। বাবা মারা গিয়েছিলেন তখন দেখিনি। আজ বোন আহত কথা বলতে পারছিনা। তার কি সুষ্ঠু বিচার হবেনা?

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া