অষ্টগ্রাম - October 27, 2018

অষ্টগ্রামে ২০ বছর ধরে এসিল্যান্ড পদে লোক নেই, জন দুর্ভোগ চরমে

হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে প্রায় ২০ বছর ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা পদে লোক না থাকায় জন দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করছে।

এছাড়াও নামজারীর অভাবে এস.আর অফিসে প্রতিনিয়ত হেবা বেলওয়াজ এবং দানপত্রে জমি বিক্রির ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমান টাকা রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। ১শ ৭৬ হাজার একর ভূমির এ উপজেলার ৬৫ ভাগ ভূমিই ফসলী জমি। বাকী সব নদী বিল খাল জলমহাল মোট ভূমির ৮০ ভাগের মালিক মাত্র ১৪ শতাংশ লোকজন এরা লর্ড কিংবা জোতদার হিসাবে পরিচিত। সংখ্যা গরিষ্ঠ লোকজন ছোট মাঝারী কৃষক প্রান্তিক ও বর্গাচাষী। এই উপজেলার উৎপাদিত ধানের ২০ শতাংশ স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে এবং এই হাওর অঞ্চলকে দেশের শস্য ভান্ডার হিসাবে পরিচিত বলে থাকে। উপজেলা ভূমি ও রাজস্ব অফিস সূত্রে জানাগেছে এই উপজেলায় প্রায় ২০ বছর যাবৎ সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে লোক নেই তবে গত ১৬ সালে ১জন এই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকতা আসলেও ৪/৫ পরে বদলি হয়ে যায়।

এছাড়াও কাননগো, অফিস সহকারী, জারীকারক, চেইনম্যান তহসিলদার ইত্যাদিসহ অসংখ্যা পদে বছরের পর বছর লোক নেই। স্থানীয় এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৃন্দ কাগজেপত্রে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু এই উপজেলার নিবার্হী অফিসারের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনে অফিসে জেলা কেন্দ্রীয় প্রশাসনের যোগাযোগ রেখে অতিরিক্ত সহকারী কমিশনারে দায়িত্ব কতটুকু পালন করা যায়। তা প্রশাসনই ভাল বুঝেন এবং জানেন। এমতাবস্থায় এই অফিসের নাম জারি (মিউটেশন) করতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেও বছরের পর বছর মানুষ ঘুরতে দেখা গেছে।

এমনকি জমির দাম ধর সাবস্থ্য করে কন্যার বিয়ে দেওয়ার দিন তারিখ ঠিক করেও খারিজের অভাবে জমি বিক্রি স্থগিত ও বিয়ে বাতিল হওয়ায় সুনির্দিষ্ট দৃষ্টান্ত রয়েছে। খারিজ করতে মানুষ অসমর্থ হয়ে জমি বিক্রি করে সাফ-কাওলার পরিবর্তে হেবা এবং দানপত্র করে জমি বিক্রির ফলে প্রতি বছর সরকার বিপুল পরিমান টাকার রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক অসংখ্যা দলিল লিখকের ভাষ্য। উপজেলা ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি তে ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে এগুলোতেও নানান ঝামেলা অনিয়ম দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে এ উপজেলার অফিসে দুর্নীতিবাজ স্টাফ থাকায় এখানে নানান অনিয়ম, দুর্নীতি চলছে বলে এলাকার লোকের ভাষ্য। আরওআর, এস.এ, বি.এস.এ এর ভলিয়মে পাতা ফটোকপি করে প্রতিদিন বহু মানুষ নিতে হচ্ছে এবং ফটোকপি কপি টাকা নিচ্ছে বলে জানা যায়। এ অফিস যেন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়ে পড়েছে। এলাকার জনমানুষের দাবি এ অফিসে জরুরী ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) পদে লোক দেওয়া এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে চরম দুর্নীতি বাজদের পরিবর্তে নতুন লোক নিয়োগ করার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সালাহ উদ্দিনকে এসিল্যান্ড সর্ম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত এবং মৌখিকভাবে একাধিকবার বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন চলতি বছরে এই উপজেলার ৩৫ লক্ষ টাকা খাজনা আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে আশা করি তা আদায় হবে।


আরও পড়ুন

1 Comment

  1. I just want to tell you that I’m very new to blogging and site-building and really loved you’re web blog. Very likely I’m likely to bookmark your site . You surely come with great articles. Thanks a lot for sharing with us your web-site.

Comments are closed.