বগুড়া-১ : আ.লীগের সাথে পাল্লা দিয়ে চাঙ্গা জাপা, বিএনপিতে মোশাররফ

এম নজরুল ইসলাম , বগুড়া
অক্টোবর ২৭, ২০১৮ ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

বগুড়া অফিস : বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) সংসদীয় আসনের সর্বত্রই এখন নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে। ভোটাররা এবার প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন বলেই গুঞ্জন উঠেছে। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে এমপি হিসেবে প্রথম বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করেন তিন বারের পরাজিত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আব্দুল মান্নান। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দুর্গে প্রথম যে আঘাত আসে, তা এই বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসন থেকেই। কারণ নির্বাচনী ফলাফলে বগুড়ার এই আসনটিই প্রথম হারায় বিএনপি।

এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আব্দুল মান্নান এমপি। নির্বাচনী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু প্রায় সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের কারণে জনগণ আবারো তাকেই নির্বাচিত করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। বিএনপির জনপ্রিয়তায় আকস্মিভাবেই ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন বগুড়া জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন চৌধুরী। সরকার বিরোধী আন্দোলনে দায়েরকৃত মামলার জামিন খরচ বহন করা সহ দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে কর্মী প্রিয়তাও গড়েছেন জেলা বিএনপির এই নেতা।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধিন জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় দুই সদস্য অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম ও জিএম বাবু মন্ডল। দুই নেতার পাল্টাপাল্টি জনসংযোগ সহ পৃথক কর্মসূচীর ফলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে।

সূত্র মতে, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন সিরাজুল ইসলাম সুরুজ। এরপর ১৯৭৯ সালের নির্বাচন পর্যন্ত আর আওয়ামী লীগ এ আসনে জয়ী হতে পারেনি। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপির অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ হোসেন তরফদার, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির কর্নেল (অব.) আব্দুল মোমিন মন্ডল, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির ডা. হাবিবুর রহমান এমপিস নির্বাচিত হন। হাবিবুর রহমানের অসুস্থতার কারণে ২০০১ সালে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী রফিকুল ইসলাম বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত হন। অন্যদিকে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শোকরানাকে প্রায় ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী নেতা আব্দুল মান্নান। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন বর্তমান এমপি আব্দুল মান্নান। আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদকের মনোনয়ন নিশ্চিত বলেই প্রচার চালাচ্ছেন তার অনুসারীরা। তবে এই আসনে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী বেশ সক্রিয় এবং চাঙ্গা। আগামী নির্বাচনে নৌকার মাঝি হওয়ার আগ্রহ নিয়ে জনসংযোগে মাঠে আছেন আরও একজন তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা। তিনি সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র আলমগীর শাহী সুমন।

আগামী নির্বাচনে প্রার্থিতার ব্যাপারে আব্দুল মান্নান এমপি বলেন, এমপি হওয়ার আগে থেকেই জনগণের পাশে আছি। এমপি হওয়ার পর জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বহুগুণ বেড়েছে। তার মেয়াদে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে বলেই সারিয়াকান্দি ও সোনাতলার চেহারা পাল্টে গেছে বলে দাবি এমপি মান্নানের।

এদিকে, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) সংসদীয় আসন পুনরুদ্ধারে তৎপর হয়ে উঠেছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী একাধিক নেতা। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জনসংযোগে মাঠে রয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মোহাম্মদ শোকরানা ও জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান আহসানুল তৈয়ব জাকির ও সারিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান হিরু মন্ডল। এদের মধ্যে আকস্মিভাবেই কর্মীপ্রিয়তা ও বিএনপির জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন জেলা বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন চৌধুরী।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া