মেগা প্রকল্পে বিভক্ত হচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

সজীব বণিক , কুবি প্রতিনিধি
অক্টোবর ২৭, ২০১৮ ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) অধিকতর উন্নয়নে সদ্য পাশ হওয়া ১৬৫৫.৫০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে তৈরী হয়েছে নানা রকম ধোঁয়াশা। জানা যায়, এই মেগা প্রকল্পের অনেকটাই ব্যয় করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণে। প্রকল্পের আওতাধীন ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে মূল ক্যাম্পাস থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ৭, ৯, ১২ এবং ১৩ নং মৌজায় রাজারখলা গ্রামে।

কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভূমি অধিগ্রহণ না করে কেন মূল ক্যাম্পাস থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ভূমি অধিগ্রহণ করবে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে নানা ক্ষোভ।বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরা মনে করেন প্রকল্প পাশ হওয়ার আগে থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল জায়গা নির্দিষ্ট করে কিনে রেখেছে। যার ফলে ক্যাম্পাসকে বিভক্ত করার নামে বর্তমান ক্যাম্পাস থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে রাজারখলা গ্রামে স্থানান্তর করা হবে।

তাদের দাবি, বিষয়টা স্পষ্ট করে প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা আড়াল করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে একটি মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের এত বড় অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভট মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপ ও নিজস্ব টাইমলাইনে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর ফেইসবুক স্ট্যাটাসে আরো উঠে আসে, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কোথায় হবে তা আগ থেকেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু সেই ভূমি কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে নেওয়া হলো না। আমরা খন্ডিত ক্যাম্পাস চাই না। ক্যাম্পাস সংলগ্ন যতটুকু ভূমি রয়েছে সেগুলো নেওয়া হোক এবং এতে সংকুলান না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংযুক্ত রাস্তা করে ক্যাম্পাসের পাশেই ভূমি অধিগ্রহণ করা হোক।’

এছাড়াও শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় ক্যাম্পাস অখণ্ড রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এবং প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানান। তাছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যাতে অখণ্ডিত থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় যেন কারও স্বার্থ উদ্ধারের মাধ্যম না হয় তার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্যাম্পাস বিভক্ত হওয়ার বিপক্ষে মতামত দিচ্ছে।

তবে ক্যাম্পাসের আশে পাশে জমি থাকার পরেও কেন রাজাখলা জমি নেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) ড. মোঃ আবু তাহের বলেন, ‘আমরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ৭০ একর ভূমি অধিগ্রহণ চেয়ে প্রকল্প রেডি করেছিলাম কিন্তু পরিকল্পনা মন্ত্রী তা আরও বাড়িয়ে প্রকল্প রেডি করতে বলেন যেখানে ২০০.২২ একর জমির কথা উল্লেখ থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে অধিগ্রহণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজারখলার ৭, ৯, ১২ ও ১৩ নং মৌজার ২০০.২২ একর জমি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে একসাথে ২০০ একর ভূমি না পাওয়ায় আমাদের একটু দূরে ভূমি নিতে হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ক্ষতি হচ্ছে না তো। আর আমরা এই ক্যাম্পাসে প্রধান গেইট, বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, রাস্তা সংস্করণ প্রভৃতি কাজের মধ্য দিয়েই প্রকল্পের কাজ শুরু করব। কিন্তু যারা বিষয়টি না বুঝে বিরোধিতা করছে তারা কি আদৌ ক্যাম্পাসের ভালো চায়? সবার তো প্রকল্প যাতে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হয় সেদিকে নজর দেওয়া উচিত।’ উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর একনেক সভায় পাশ হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬৫৫.৫০ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের অর্থ ভূমি অধিগ্রহণ ও নতুন ভবন নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি কার্যক্রমের জন্য ব্যয় করা হবে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া