নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন চুন্নু, পাশে থাকবে করিমগঞ্জ আ.লীগ

মোঃ আব্দুল জলিল , করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ
অক্টোবর ২৮, ২০১৮ ২:১৯ অপরাহ্ণ

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে ফের নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দিলেন বর্তমান মহাজোট সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এমপি।

গতকাল শনিবার (২৭ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে নবনির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ ঘোষনা দেন।

সমাবেশে প্রধান অথিতির বক্তৃতায় মুজিবুল হক চুন্নু বর্তমান মহাজোট সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গের সামনে তুলে ধরেন।

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান ভুলতে পারবেন না। মহাজোট সরকার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সরকার, শেখ হাসিনা সরকার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সরকার। যখন প্রথম ৮৬ সনে নির্বাচনে আসি তখন আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের নিয়ে করিমগঞ্জে প্রথম মিটিং করি এবং তাদের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করি। তাই এবারও আপনাদের সমর্থন নিয়ে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে চাই।

আগামী নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার নেতা হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে কথা হয়েছে। উনারা এক সঙ্গে নির্বাচন করবেন আর উনাদের সিদ্ধান্ত মতে আগামীতেও মহাজোট থাকবে। তবে বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচন করবো আর আওয়ামীলীগও ৩০০ আসনে নির্বাচন করবে। তবে এর মধ্যে আবার মেকানিজম থাকবে। এ আসনে হয়তো নৌকা থাকবেনা।

তিনি এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে দেশ কিভাবে চলছে? বিএনপির ঘাড়ে বন্দুক রেখে এই রাজাকার- জামাতি গোষ্ঠীরা যদি ক্ষমতায় আসে, প্রথম আক্রমন হবে আওয়ামীলীগের উপর। হায়েনারা ক্ষমতায় আসলে সবার আগে আক্রান্ত হবেন আপনারা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারবেন না।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাথে পক্ষপাতিত্ব করছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মন্ত্রী বলেন, করিমগঞ্জের আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক অবস্থা বেহাল। দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে না গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। দলে আপনারা ৪০টি গ্রুপ সৃষ্টি করে রেখে কিভাবে সুষ্ট উন্নয়নের আশা করেন। তখন আমিও বিব্রতবোধ করি যখন আপনাদের নিজেদের গ্রুপিংয়ের জন্য আমাকে দায়ী করেন।

নৌকা নিয়ে যারা নির্বাচন করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, নৌকার মালিক শেখ হাসিনা। নৌকার জন্য রাস্তাঘাটে মানববন্ধন না করে শেখ হাসিনার কাছে যান। বাইরে এসব মিটিং মিছিল না করে সরাসরি নেত্রীর সাথে কথা বলুন। এটা যদি না পারেন তাহলে আমরা ধরে নেব আপনারা যারা নৌকা নিয়ে নির্বাচন করতে চান, নেত্রীর সঙ্গে আপনাদের সরাসরি যোগাযোগ নেই।

করিমগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন সুলতানার সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খাঁন দিদার, করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজী আব্দুল কাইয়ূম, করিমগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী মামুন, করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিলোয়ারা বেগম, কিশোরগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার আসাদুল্লাহ, এবি সিদ্দিক, কিশোরগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডিপুটি কমান্ডার বাসিরউল্লাহ ফারুকী , দেহুন্দা ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার, দেহুন্দা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জান সঞ্জু, কিরাটন ইউপি চেয়ারম্যান ইবাদুর রহমান শামীম, গুজাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও করিমগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের জামিল আনসারি প্রমূখ।

সমাবেশে আগামী নির্বাচনে মুজিবুল হক চুন্নুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে করিমগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সসম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মহাজোট সরকারের বিগত ৯ বছরে করিমগঞ্জ তাড়াইলে সকল সেক্টরে মুজিবুল হক চুন্নু ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। যা বিগত কোনো সরকারের আমলে এত উন্নয়ন হয়নি। তাই তার এই অসামান্য উন্নয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আগামী নির্বাচনে করিমগঞ্জ-তাড়াইলে মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে তার পাশে থাকবে বলে সমাবেশে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। তবে আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয়ভাবে এ আসন বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে সে সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে কাজ করবেন। বর্তমানে যারা করিমগঞ্জ-তাড়াইলে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি, তাদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে মামুন বলেন, বিগত ৯ বছরে আপনারা কোনো জাতীয় প্রোগ্রাম করেননি, দলের কোনো খবর নেননি, নেতাকর্মীদের কোনো খোঁজ খবর নেননি। এখন নির্বাচন এসেছে, আপনাদের এমপি হতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় বসে বিবৃতি দিচ্ছেন নৌকার এমপি নাই বলে নাকি আওয়ামীলীগ অবহেলীত, নিপীড়িত। নয় বছর ধরে যাদের খোঁজ খবর নেননি আর নয় দিন এসে আওয়ামীলীগের প্রতি যে দরদ দেখাচ্ছেন তা আমাদের দরকার নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা বা তাঁর যেকোনো প্রতিনিধিই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

করিমগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাজী আব্দুল কাইয়ূম বলেন, মুজিবুল হক চুন্নু করিমগঞ্জ-তাড়াইলে যে উন্নয়ন করেছেন সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী নির্বাচনেও তাঁর পক্ষে কাজ করবো। আমরা মুজিবুল হক চুন্নুর বিরোধিতা করবো না। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে মহাজোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যদি করিমগঞ্জ-তাড়াইলে মুজিবুল হক চুন্নু আসে তাহলে করিমগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ তার পাশে থেকে নির্বাচনে সব রকমের সহায়তা করবে।

 
৩ Comments
  1. Thank you for any other fantastic article. The place else may anybody get that kind of info in such an ideal way of writing? I have a presentation next week, and I’m on the search for such info.

  2. I think other web-site proprietors should take this website as an model, very clean and great user friendly style and design, let alone the content. You are an expert in this topic!

  3. my web says

    I simply want to tell you that I am just newbie to blogging and site-building and definitely enjoyed you’re web blog. More than likely I’m going to bookmark your blog . You really have great posts. Thanks a lot for revealing your website page.

Comments are closed.

সর্বশেষ পাওয়া