বগুড়া-২ : আ.লীগ করে লাভ কি, প্রার্থী দেবে এরশাদ, বিএনপিতে মান্না

এম নজরুল ইসলাম , বগুড়া
অক্টোবর ২৮, ২০১৮ ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

বগুড়া অফিস : বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়ার ৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসন এখন জাতীয় পার্টির দখলে। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধিন জাতীয় পার্টির বগুড়া জেলা সভাপতি ও বর্তমান সাংসদ শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ’র কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী। দলটির অনেক নেতাকর্মীই আবেগে আপ্লুত হয়ে মন্তব্য করেন, জাতীয় পার্টিকে নৌকা ভাড়া দেয় আপা (আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা)। আমাদের মূল্যায়ন নাই, সম্মান নাই। ভোটারের কাছে জনসংযোগে গেলে যে কেউ মুখের ওপর বলে দেয়, আপনাদের দল করে লাভ কি, প্রার্থী তো দেবে এরশাদ।

এখানকার জনশ্রুতিতে ‘নৌকা ভাড়া দেওয়া দল’ হিসেবে পরিচিত হয়ে গেছে। তবে আওয়ামীলীগের জোট বা একক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও লাঙ্গলের প্রার্থী হবেন বর্তমান সাংসদ শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। জাতীয় পার্টির হাইকমান্ড সূত্রে এমনটিই আভাস পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ততথ্যে ও সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে বিএনপির আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে এই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না একসময় এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর এ আসনে ‘নৌকা’ আর কখনো জেতেনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালে বিএনপির এ কে এম হাফিজুর রহমানের কাছে ৪৫ হাজার ৮৭১ ভোটে হেরেছিলেন তিনি। এর আগে ২০০১ সালে জয় পান বিএনপির রেজাউল বারী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তখন মাহমুদুর রহমান দ্বিতীয় হন। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন আকরাম হোসেন। কিন্তু দু’বারই জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সমর্থনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘নির্বাচনে যাব কি না, তাও এ মুহুর্তে বলা কঠিন। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লড়াই করছি। যদি মনে করি সেই ধরনের নিশ্চয়তা আছে, তাহলে নির্বাচনে অংশ নেব।

আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের ভোটের ব্যবধান ৩০ হাজারেরও কম। কিন্তু ২০০৮ ও ২০১৪ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আকরাম হোসেনকে বাদ দিয়ে জোটেরসঙ্গী জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরীফুল ইসলাম জিন্নাহকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশাভর করে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ফকির, জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. রেজাউল আলম জুয়েল, আওয়ামী লীগ নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকরাম হেসেন, শিবগঞ্জ পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা, সাবেক কৃষক লীগ নেতা জজ আদালতের পিপি আ্যডভোকেট আব্দুল মোত্তালেব।

এদিকে, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলটির সাবেক সাংসদ একেএম হাফিজুর রহমান, বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মীর শাহে আলম এবং এম আর ইসলাম স্বাধীনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নসর মো. আলমগীর হোসাইন।

স্থানীয় কয়েকজন ভোটার বলেন, প্রবাদ আছে ‘এখানে কলার গাছ মার্কা থাকলেও বিএনপি জিতবে’। কিন্তু এবার আর কলার গাছ প্রবাদে কান দেবে না ভোটাররা। মার্কা দেখে নয়, যোগ্য প্রার্থীকেই নির্বাচিত করতে চান তারা।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া