খাশোগি হত্যাকাণ্ড : সৌদি আরবকে হুঁশিয়ারি তুর্কি আইনমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট ,
নভেম্বর ২, ২০১৮ ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ

জামাল খাশোগিকে হত্যার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দোষী সাব্যস্ত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের আইনমন্ত্রী আব্দুল হামিত গুল। তিনি বলেছেন, ‘কেউ দায় এড়াতে পারবে না।’ তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট খবরটি জানিয়েছে।

২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। ১৯ অক্টোবর মধ্যরাতে প্রথমবারের মতো সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে সৌদি আরব। তবে তারা দাবি করে, সৌদি কর্মকর্তারা খাশোগিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলেন। তাকে হত্যার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। আর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে দেশটি। তবে সৌদি আরবের এমন দাবি মানছে না তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন ইস্তানবুলের চিফ প্রসিকিউটর।

বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) আঙ্কারায় সাংবাদিকদের আব্দুল হামিত গুল বলেন, ‘এটি খাশোগি হত্যাকাণ্ড) ধামাচাপা দেওয়ার মতো কোনও ইস্যু নয়। আমরা আশা করি, সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ইস্যুতে গভীরভাবে সহযোগিতা দেবে।’

তিনদিনের তুরস্ক সফর শেষে সৌদি প্রধান প্রসিকিউটর সৌদ আল মোজেব ইস্তানবুল ছাড়ার একদিন পর এমন আহ্বান জানিয়েছেন তুর্কি আইনমন্ত্রী। তবে সৌদি প্রধান প্রসিকিউটরের সফর তুরস্ক কর্তৃপক্ষের মনে খাশোগি হত্যার তদন্ত নিয়ে আশার আলো জ্বালাতে পারেনি।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ইস্তানবুলের প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানায় ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেট ভবনে ঢোকামাত্রই সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এ কাজ করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রধান প্রসিকিউটর সৌদ আল-মোজেবও এ হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত বলে স্বীকার করেন। তবে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম সামনে এলেও বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে রিয়াদ। তাছাড়া কিভাবে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি না হওয়ায়ও সৌদি প্রসিকিউটরের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন তুর্কি কর্মকর্তারা। তবে সৌদি কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের কাছে থাকা প্রমাণগুলো তারা অন্য কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাইছেন না, সেকারণে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

 

Comments are closed.

সর্বশেষ পাওয়া