সৌদি আরবের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই খাশোগি হত্যাকাণ্ড : এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট , এশিয়া
নভেম্বর ৩, ২০১৮ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। তবে তার বিশ্বাস সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ এমন নির্দেশ দেননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক কলামে এমন মন্তব্য করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

এরদোয়ান বলেন, আমাদের অবশ্যই খাশোগি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নায়কদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে।

তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের পরিবর্তে খাশোগির পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে ঢেকে রাখতে সৌদি কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় আমরা হঅবাক ও মর্মাহত।

এদিকে ইস্তানবুল কনস্যুলেটে খাশোগির দেহ টুকরো টুকরো করার পর তা এসিডে গলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তুরস্কের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা। তুর্কি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইয়াসিন আখতায় বলেছেন এটাই ‘একমাত্র যৌক্তিক উপসংহার’। তুরস্কের দৈনিক সংবাদপত্র হুরিয়াতকে তিনি বলেন, যারা খাশোগিকে হত্যা করেছে তারা কোনও প্রমাণ না রাখতেই তার দেহ এসিডে গলিয়ে দিয়েছে।

সৌদি শাসকদের সমালোচক খাশোগি গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলে নিজ দেশের কনস্যুলেটে নিহত হন। বিয়ের কাগজপত্র সংগ্রহ করতে যাওয়া এই সাংবাদিককে হত্যার কথা স্বীকার করা হলেও, মরদেহ কোথায় আছে তা নিয়ে কিছু জানায়নি সৌদি আরব। এদিকে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ খাশোগিকে হত্যার প্রমাণ থাকার দাবি করে আসলেও তার মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি। এমন প্রেক্ষাপটেই খাশোগির মরদেহ নিয়ে এমন আশঙ্কার কথা জানালেন তুর্কি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা।

আখতায় হুরিয়াতকে বলেন, খাশোগির দেহ টুকরো করার কারণ তাতে আরও সহজেই তা এসিডে গলিয়ে ফেলা গেছে। তিনি বলেন, এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি তারা শুধু তার দেহকে টুকরোই করেনি বরং তা ভস্মীভূতও করেছে।

প্রথমে অস্বীকার করলেও ঘটনার প্রায় ১৭ দিন সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করে জানায়, ১৫ সদস্যের একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গিয়ে ভুলবশত হত্যা করে ফেলেছে। তবে তুর্কি কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে, সৌদি যুবরাজের ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত ওই দলটি খাশোগিকে হত্যার পরই বিশেষ বিমানে ইস্তানবুল ছেড়ে যায়।

তুর্কি কর্মকর্তা এমন একদিনে মরদেহ নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন যেদিন খাশোগি ‘হত্যার নির্দেশদাতাকে বিচারের মুখোমুখি’ করার দাবি তুলেছেন তার বাগদত্তা হিতেস চেঙ্গিস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টসহ পাঁচটি সংবাদপত্রে লেখা এক সম্পাদকীয়তে চেঙ্গিস এই দাবি তুলেছেন। একইদিনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান খাশোগিকে ‘বিপজ্জনক ইসলামপন্থী’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করার আগেই হোয়াইট হাউসে ফোন করে যুবরাজ এ কথা বলেছিলেন বলে খবর বের হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এই মন্তব্য করা বা হত্যাকাণ্ডে রাজপরিবারের কারও জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সব ঘটনা উন্মোচনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ২ অক্টোবর খাশোগিকে হত্যার পর গত ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাই ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে ফোন করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এসব ফোনে খাশোগিকে বহুজাতিক ইসলামপন্থী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলে দাবি করেন তিনি। সৌদি-মার্কিন সম্পর্ক অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান যুবরাজ। তবে ওই সংবাদপত্রটিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে খাশোগির পরিবার তার মুসলিম ব্রাদারহুডের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হত্যার শিকার হওয়া সাংবাদিক বিগত কয়েক বছর নিজেও বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘খাশোগি বিপজ্জনক ব্যক্তি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। এই দাবি অবাস্তব’। সূত্র: আল জাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া