পর্যাপ্ত অর্থ নেই ইভিএম ক্রয়ে : উপায় খুঁজছে অর্থ বিভাগ

ডেস্ক রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
নভেম্বর ৪, ২০১৮ ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার জন্য চলতি অর্থবছরে জরুরি ভিত্তিতে দুই হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট খাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বরাদ্দ দিতে পারছে না অর্থ বিভাগ। তাই চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি কম- এমন প্রকল্প থেকে অর্থ নিয়ে ইভিএম কেনার কথা ভাবছে সরকার।

এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে গত ৩১ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগে একটি চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ বিভাগ। চিঠির একটি অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগের উপ-সচিব মো. আব্দুল ছামাদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘নির্বাচন ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রয়োগের লক্ষ্যে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুকূলে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এডিপিতে (সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) জিওবি (সরকারের রাজস্ব খাত) বাবদ দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থ বিভাগ থেকে কোনো বিশেষ প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদানের রেওয়াজ নেই।

চিঠিতে বলা হয়, সাধারণত অর্থ বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়নকারী বিভাগকে এডিপি বা আরএডিপির (সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) সম্পদের আকার নির্ধারণ করে দেয়া হয়। অর্থ বিভাগ উক্ত সম্পদসীমার মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদান করে। রাজস্ব খাতের আওতায় জরুরি প্রয়োজন নির্বাহের জন্য অর্থ বিভাগে ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাতে সীমিত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে। চলতি অর্থবছরে এ খাতের বরাদ্দের সিংহভাগ ইতোমধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে। বর্তমানে এ ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়নে সহায়তা’ খাতে বরাদ্দ প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নেই।

এতে আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত কম বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পন্ন প্রকল্প হতে এ প্রকল্পে পুনঃউপযোজনের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। চলতি অর্থবছরের আরএডিপির (সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) সম্পদের আকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে উক্ত পুনঃউপযোজনের মাধমে বরাদ্দকৃত অর্থ সমন্বয়যোগ্য।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে ইসি আসন্ন নির্বাচনে ইভিএম কেনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে জরুরি ভিত্তিতে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ অর্থ জোগানে কাজ করছে।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বরাদ্দ না থাকলে অন্য কোনো প্রকল্প থেকে টাকা নেয়া যেতেই পারে। যেসব প্রকল্পে বরাদ্দকৃত টাকা ব্যয় করতে পারে না, সেখান থেকে অর্থসংস্থানের উপায় হতে পারে। আমরা যেমন হাতিরঝিল প্রকল্প করেছিলাম। হাতিরঝিল প্রকল্পটা অরিজিনাল বাজেটে ছিল না। তাই যে সমস্ত বিভাগ তাদের নামে বরাদ্দকৃত টাকা খরচ করতে পারেনি সেখান থেকে টাকা নিয়ে হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছিল।’

এদিকে অধ্যাদেশ জারির চারদিনের মাথায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং শেষে তা গেজেট আকারে জারি করবে ইসি সচিবালয়।

ইসির যুগ্ম-সচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, রোববার (৪ নভেম্বর) কমিশনের ৩৮তম মুলতবি সভায় ইভিএম বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া ওই সভা এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, চার নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম চালুর আট বছর পর প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হবে। ২০১০ সালের জুন মাসে স্বল্পপরিসরে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ইভিএম চালু হয়। ২০১৫ সালে এসে ওই ইভিএম বন্ধ হয়ে যায়। পরে নতুন ইভিএম তৈরি করে ইসি। ২০১৬ সালে রংপুর সিটি নির্বাচনে তা চালু হয়। এর দুই বছরের মাথায় সংসদ নির্বাচনে এ যন্ত্র ব্যবহারের পথ সুগম করতে আইন সংশোধনের পর বিধিমালাও চূড়ান্ত হলো রোববার।

‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইভিএম বিধিমালা-২০১৮’ এ রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, ভোট গণনা ও ফল একীভূতকরণসহ নানা বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, আইনি ভিত্তি পাওয়ার পর স্বল্পপরিসরে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হবে। আগামী নির্বাচনে কয়টি কেন্দ্রে এটির ব্যবহার হবে তা কমিশন চূড়ান্ত করবে। দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে এসব কেন্দ্র বাছাই হবে বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন সিইসি।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচনী আইন সংশোধনে প্রস্তাব পাঠানোর পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহারের প্রকল্পটিও গত ১৮ সেপ্টেম্বর অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি।

ওই সময় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে দেড় লাখ ইভিএম কেনা হবে। এ প্রকল্পে দেড় লাখ ইভিএম মেশিন কিনতে ব্যয় ধরা হয় তিন হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ চলতি সময় থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া