সরকার অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
নভেম্বর ৬, ২০১৮ ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটগ্রহণের জন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং ভোটারদের ছবিসহ ভোটার তালিকা সংযোজন করা হয়েছে।’

সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইইউ) সদস্যরা সোমবার (৫ নভেম্বর) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ইইউ’র সদস্য রাইজার্ড জারনেকি ৯ সদস্য বিশিষ্ট এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্য হলেন- এলিনা থিওচ্যারউস, ক্রিস্টেল লেটার্ড, নিকোলাই বেরকভ এবং পোলিশ সংসদের সদস্য আগনিস্কা সিগেজ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আসন্ন নির্বাচন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, রোহিঙ্গা ইস্যু, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বিষয়সহ নানা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কেবল আগামী নির্বাচন নিয়েই কৌতূহলী ছিলেন না উপরন্তু, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা ইস্যু, সামাজিক নিরাপত্তাবলয় কর্মসূচি এবং অন্যান্য বিষয়েও আগ্রহ দেখান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘকাল বাংলাদেশে সামরিক শাসন বলবৎ ছিল এবং আমরা দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি।’

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত এবং চীনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির মূলকথা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন অনুযায়ী, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’

ইইউ'র প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করলেও তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় আছে। ভারত এবং চীন আমাদের উন্নয়ন সহযোগী। ভুটান ও নেপালের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের জন্য বাংলাদেশের চুক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারকরণে বিসিআইএম (বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার) প্রক্রিয়ার সঙ্গেও নিজেকে জড়িত করেছে।

বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবলয় কর্মসূচি সম্পর্কে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের জানার আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের আবাসভূমি, শান্তি এবং সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছে। বাংলাদেশে ধর্ম যারযার ব্যক্তিগত হলেও এখানে ধর্মীয় উৎসব সবার একসঙ্গে উদযাপন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,তার সরকার নারীদের রাজনীতি, প্রশাসন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করার জন্য নীতিমালা বাস্তবায়ন করছে। এখন নারীরা সব জাতীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে। এমনকি ক্রীড়াক্ষেত্রেও তাদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে শতকরা ৬০ ভাগ নারীদের থেকে নিয়োগ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে জনগণের জন্য সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা। যাতে করে তারা সুখে শান্তি বসবাস করতে পারে।

প্রেস সচিব বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা নারীর ক্ষমতায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়শী প্রশংসা করেন। খবর- বাসস।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া