muktijoddhar kantho logo l o a d i n g

কিশোরগঞ্জের খবর

সৈয়দ আশরাফ সুস্থ না অসুস্থ?

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সুস্থতা-অসুস্থতা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে রাজনৈতিক মহলসহ তার নিজ নির্বাচনী এলাকার সর্বত্র।

২০১৬ এর অক্টোবরে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের পর থেকেই অনেকটা পর্দার অন্তরালে দলটির বর্তমান সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। হঠাৎই জানা যায় ফুসফুসে ক্যান্সারে আক্রান্ত ৬৮ বছর বয়সী বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদ।

থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গেল ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ থেকে টানা ৯০ কার্য দিবসের ছুটি নেন তিনি। এ রকম পরিস্থিতিতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ভোটার হয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দুই সহোদর ড. সৈয়দ শরীফুল ইসলাম ও ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। তাদের এলাকায় ভোটার হওয়ার বিষয়টি যথেষ্ঠ কৌতূহলের সৃষ্টি করে।

এর পরপরই রোববার কিশোরগঞ্জে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম বক্তব্যে তাঁর বড় ভাই গুরুতর অসুস্থ জানিয়ে সুস্থতা নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ করেন।

তিনি জানান, সৈয়দ আশরাফের ফুসফুসের ক্যান্সার বর্তমানে চতুর্থ স্টেজে আছে। ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত সৈয়দ আশরাফ পরিবারের সদস্যসহ কাউকে চিনতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে তাঁর পক্ষে রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। আমরা এখন রাজনীতি নয়, তাঁর চিকিৎসার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, অনেকেই দ্রুত সুস্থ হয়ে আশরাফের রাজনীতিতে ফিরে আসার কথা বলছে। এসব পুরোপুরি মিথ্যা কথা। অহেতুক গুজব না ছড়াতে সবার প্রতি তিনি অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে সৈয়দ আশরাফের জন্য দোয়া করতে সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন।

অন্যদিকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অসুস্থতা নিয়ে মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলামের দেয়া বক্তব্যকে অসত্য বলে দাবি করেছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আরেক সহোদর ড. সৈয়দ শরীফুল ইসলাম এবং চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু।

রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, “কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোববার (৪ নভেম্বর) মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আমাদের ও কিশোরগঞ্জের জনগণের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে। তিনি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সম্পর্কে যা বলেছেন, তা সবৈব মিথ্যা।

তিনি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সম্পর্কে কোন খোঁজখবর রাখেন না। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চিকিৎসাতেও তেমন কোন সহযোগিতা করেন নি। তিনি গত তিন দিন আগে থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন তার নাতনির চিকিৎসার জন্য, সেখানে সৈয়দ আশরাফের খোঁজখবর নেয়ার জন্য যাননি।

তিনি একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কিশোরগঞ্জে ঘুরাফেরা করছেন। অতীতে ও বর্তমানে যারা সৈয়দ পরিবারকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন, তিনি তাদেরকে সাথে নিয়ে সৈয়দ পরিবার ধ্বংস করার ফাঁদে পা দিয়েছেন; যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সৈয়দ আশরাফ অসুস্থ কিন্তু এমন অসুস্থ নন যে তাঁকে বেঁধে রাখতে হয়। তিনি কাউকে চিনতে পারেন না, এটাও সবৈব মিথ্যা। যে যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য মাঠে নামুক না কেন, জননেত্রীর দক্ষিণহস্ত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই কিশোরগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচন করবেন, ইনশাআল্লাহ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।”

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, “অনুষ্ঠানটি ছিল ৩রা নভেম্বর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্মরণে শোকসভা। মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র। এটাও কি তিনি ভুলে গেলেন যে, শোকসভায় ফুলেল শুভেচ্ছা নেওয়া যায় না। কিশোরগঞ্জের মানুষ পিতার মৃত্যুর দিনে শোক দিবসে সহাস্যে ফুল নেওয়াতে ব্যথিত হয়েছেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সকল পরিবারবর্গ ও কিশোরগঞ্জ এর জনগণ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্য ঐক্যবদ্ধ।”

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক তাঁর চাচাত ভাই সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠকে জানান, ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দীর্ঘদিন থেকে ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছেন তিনি। সম্প্রতি অস্ত্রোপচারের পর আশাবাদি চিকিৎসকরা। সেই সাথে দিন দিন স্বাস্থ্যগত উন্নতিও হচ্ছে তাঁর। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন।

সেই সাথে দেশবাসীর কাছে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের রোগমুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়াও চান তিনি।

যদিও জেলহত্যা দিবসের আলোচনায় তাঁর ছোট ভাই মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম জানিয়েছিলেন ভালো নেই সৈয়দ আশরাফ।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। পরে ২০০৯ সালে ও ২০১২ সালে সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান সৈয়দ আশরাফ। ২০১৬ সালের আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে আশরাফ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

সংশ্লিষ্ট খবর:  কাউকেই চিনতে পারছেন না সৈয়দ আশরাফ

Tags: