জাতীয় - প্রচ্ছদ - নভেম্বর ৭, ২০১৮ ৩:১৯ অপরাহ্ণ

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংলাপ : তিন বিষয়ে একমত হলেই সমাধান

‘অসম্পূর্ণ’ আলোচনা সম্পন্ন করতে গণভবনে সংলাপে বসেছে ক্ষমতাসীন জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই সংলাটে মূলত তিনটি বিষয়ে একমত হতে পারলেই তা সফল হবে বলে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

বুধবার সকাল সোয়া ১১টায় শুরু হওয়া এ সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর ঐক্যফ্রন্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। দুইপক্ষে ১০ জন করে মোট ২০ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন সংলাপে।

এর আগে ১ নভেম্বর প্রথম সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সংবিধানের ভেতরে থেকে সমাধান হবে।

এরপর ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ সংবিধান চর্চা শুরু করেন। ৭ দফা দাবিগুলোর সাংবিধানিক সমাধান বের করার পরামর্শ পেতে আমন্ত্রণ জানান আইনজ্ঞ শাহদীন মালিক ও আসিফ নজরুলকে।

শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানের ভেতরে থেকেই সব সমাধান সম্ভব। সংবিধানে অন্তত ১০টি জায়গায় সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার কথা লেখা আছে।

ওইদিন ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি বৈঠকে বসেন এবং ৭ দফার সাংবিধানিক সমাধান নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা যায়, আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে সংবিধানের ভেতর থেকেই সমাধানের প্রস্তাব দেয়া হবে সরকারকে।

পরে সে বিষয়টি স্বীকারও করেন ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।

মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘আমাদের ৭ দফা দাবি আছে তা নিয়ে সংলাপ করবো। তবে কিছু বিষয় আমাদের ফোকাস করার মতো থাকবে। সংবিধানের ভেতর থেকে নির্বাচন করা সম্ভব এরকম কিছু প্রস্তাবনা আমাদের কাছে আছে। সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা সেসব প্রস্তাবনা দেব। তারা গ্রহণ করলে ভালো।’

ধারণা করা হচ্ছে, শাহদীন মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী “সংসদ ভেঙে নির্বাচন করার বিধান সংবিধানেই আছে”- সর্বপ্রথম এই প্রস্তাবটি গুরুত্ব পাবে। অর্থাৎ চলমান সংসদ ভেঙে দেয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা।

নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান করতে হবে নিরপেক্ষ বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে। এসব বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে ঐক্যফ্রন্ট নানা জনের নাম প্রস্তাব করতে পারেন যেমন- ব্র্যাকের প্রধান ফজলে হাসান আবেদ, ড. মোহাম্মদ ইউনুছ, বদিউল আলম মজুমদার কিংবা রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদের। এর বাইরেও আরো কয়েকজন নিরপেক্ষ ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করতে পারেন।

এই সরকারে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট থেকে মন্ত্রী থাকবে, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং একটি মন্ত্রণালয়ে থাকবেন। আর ঐক্যফ্রন্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয় যেমন- জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি জানাবে।

ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় যে দাবি থাকতে পারে সেটি হলো- বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। যেহেতু সেটি আদালতের বিষয়। তাই ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব থাকবে- উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করার পর রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করবে না।

তৃতীয় দাবি হতে পারে- নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানো।

এই বিষয়গুলো অবশ্য সূত্র খুব বেশি শক্ত নয়। অনেক অসমর্থিত সূত্র থেকে এই বিষয়গুলো জানা যায়। তবে এর বাইরে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার বিষয়টিও জোর দিয়ে বলা হবে সংলাপে।

এছাড়াও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা তুলে নেয়ার ব্যাপারটি প্রধানমন্ত্রী প্রথম সংলাপেই মেনে নিয়েছেন। তিনি গায়েবি মামলার তালিকা চেয়েছিলেন। আজকে সেটি পাঠানোও হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে।

সরকার যদি ঐক্যফ্রন্টের সবগুলো প্রস্তাব আমলে নাও নেয় সেক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্টে চাইবে খালেদা জিয়ার মুক্তি৷ সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইভিএম ব্যবহার না করার দাবি।

সেক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সরকারে শেখ হাসিনার দায়িত্ব পালন মেনে নিলেও ক্ষমতা সীমিত করে দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা একক কোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না পারার বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হবে।

তবে বিএনপির অনেক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করতে পারলে অনেক বিষয়েই ঐক্যফ্রন্ট নমনীয় হতে পারে। আর যদি সরকার কোনো প্রস্তাব আমলে না নিয়ে নিজেদের মতো করে এগিয়ে যায় এবং ২০১৪ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চায় তখন কঠোর আন্দোলন ছাড়া ঐক্যফ্রন্টোর হাতে বিকল্প থাকবে না- এমন বক্তব্য বিএনপির এক শীর্ষ নেতার।

অবশ্য গতকাল মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আজকে যদি সংলাপ ফলপ্রসু না হয় তাহলে আরো জায়গা আছে৷ তবে আরো কি জায়গা আছে সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

মূলত ঐক্যফ্রন্ট একদিকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকারকে চাপে রেখেছে। অন্যদিকে আলোচনায় বসেছে।

সচেতন মহল মনে করছেন, সংলাপে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে সংকট সমাধানের জন্য সংবিধান বাধা হবে না।

দেশের শান্তির জন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলো ত্যাগ স্বীকার করে হলেও একটি সুন্দর সমাধানে আসবেন বলে প্রত্যাশা সর্বস্তরের জনগণের।

সংলাপ শুরুর আগে গণভবনে প্রবেশমুখে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংলাপে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন।

আবার ব্যারিস্টার মওদুদও আজকের সংলাপে প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।