আদালতে খালেদা জিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
নভেম্বর ৮, ২০১৮ ১২:০২ অপরাহ্ণ

নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানিতে হাজিরা দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে নাজিম উদ্দিন রোডে স্থাপিত পুরনো কারাগারের ভেতরে বসানো আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১১টার পর তাকে বিএসএমএমইউ থেকে কারাগারের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। ১১টা ৩৫ মিনিটে খালেদা জিয়া কারাগারের অভ্যন্তরের আদালতে পৌঁছান।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম। তবে এই আদালতে হাজিরা শেষে খালেদা জিয়াকে আবারও বিএসএমএমইউতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে নাকি এই কারাগারে যেখানে তিনি (খালেদা জিয়া) আগে ছিলেন দোতলার সেই কারাকক্ষে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘খালেদা জিয়াকে পুরাতন কারাগারে স্থাপিত আদালতে আনা হতে পারে। আনার পর আদালত শেষে কারাগারেই রাখা হবে নাকি হাসপাতালে নেওয়া হবে তার সিদ্ধান্ত হয়নি।’

বিএসএমএমইউ এর একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া এখন শারীরিকভাবে খানিকটা সুস্থ বোধ করায় এরই মধ্যে তাকে ছাড়পত্র দিয়েছে বিএসএমএমইউ।  এ কারণে তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এদিকে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে নাজিম উদ্দিন রোড ও এর আশেপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়। ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। শুনানি শেষে ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই নাইকো দুর্নীতির মামলার কার্যক্রম দুই মাসের জন্য স্থগিত ও রুল জারি করে আদালত। পরে ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়।

এদিকে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার করা রিট আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় মঙ্গলবার প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতের এ রায়ের কপি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে খালেদা জিয়াকে আত্মসমর্পণ করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান। সর্বশেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ জজ আদালতে ৫ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে মামলার বাদীপক্ষ দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে (দুদক) হাইকোর্ট এ মামলায়  সাজা বাড়িয়ে খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এছাড়াও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের পৃথক মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বিশেষ জজ আদালত। তার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলাসহ আরও ৩২টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া