সাহিত্য ও সংস্কৃতি - নভেম্বর ১৩, ২০১৮

হুমায়ূন আহমেদ : একজন সাহিত্যিক এবং কিছু কথা

হুমায়ূন আহমেদ ! বাংলাদেশী সাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। লেখালেখির অদ্ভুত মায়ায় ফেলে তিনি বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের মন জয় করে নিয়েছেন । যখন বাংলাদেশী তরুণ-তরুণী,কিশোর কিশোরী আর বয়স্করা কলকাতার অমুক পাধ্যায় তমুক পাধ্যায় ভিত্তিক সাহিত্যে মগ্ন ছিল তখনই দীপ্তিমান সূর্যের আলোর মতো হুমায়ূন নিজ করাতলে বাংলা সাহিত্যকে টেনে নেয় ।
তারপরের অধ্যায় তো সবার জানা ।এদেশের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবার হাতে উঠে হুমায়ূন আহমেদ । প্রায় ২৩ বছর বাংলা সাহিত্যকে তিনি অসংখ্য লেখা উপহার দিয়ে গেছেন,প্রায় ৩০০ টির মতো বই লিখেছেন । ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর তাঁর জন্ম । ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয় । তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে তাঁর কলম থেমে গেলেও তাঁর কর্ম অবিচল ।তাঁর মৃত্যুর পাঁচ বছর চলে গেলেও এখনো বইমেলাতে তাঁর বইয়ের চাহিদা আছে তুমুল ।
বর্তমানে ব্যাঙের ছাতার মতো পয়দা হওয়া কবি সাহিত্যিকরা হুমায়ূনকে তেমন একটা পছন্দ করেনা ।কারন তাদের জাবর কাটা পুস্তক এদেশের জনগন খায় না ।কেন ই বা খাবে ? হুমায়ূনের কর্মে এখনো মগ্ন সবাই । আশির দশকে হুমায়ূন আহমেদ টিভি নাটক তৈরি শুরু করেছিলাম ।আমাদের তখন জন্মই হয়নি । তবে বড়দের কাছ থেকে শুনেছি যেদিন বিটিভিতে হুমায়ূনের নাটক প্রচারিত হতো সেদিন সকাল সকাল সবাই বাড়ি ফিরতো তাড়াতাড়ি রাঁস্তাঘাঁট ফাঁকা হয়ে যেতো ।
সবাই একসাথে বসে নাটক দেখতো । এখন সবাই যেমন ভারতীয় সিরিয়ালে মগ্ন আছে তখন হুমায়ূনে মগ্ন থাকতো । হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সিনেমাকে এক অনন্যতায় ভরে দিয়েছে । শ্যামল ছায়া,আগুনের পরশমনি বাংলা চলচ্চিত্রের জগতে তাঁর তৈরি অন্যতম সের ছবি । তাঁর তৈরি চন্দ্রকথা এবং শ্রাবণ মেঘের দিনে নামক সিনেমা দুটি যেকোনো বয়সের পাথর মনের মানুষকেও কাঁদিয়ে দিতে পারে । তাঁর তৈরি নয় নম্বর বিপদ সংকেত সিনেমা দেখে বেরসিক মানুষও হাসতে বাঁধ্য হবে । তাঁর সর্বশেষ চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলা ভাটির দেশের একটি চমত্‍কার উদাহরণ ।
অসাধারন সংলাপ আর দৃশ্যায়ণে পুরো ছবি সিনেমা পাগলদের মাতিয়ে রেখেছে । হুমায়ূন আহমেদের “তারা তিনজন” সিরিজের একটা নাটকও আজ পর্যন্ত যারা দেখেননি তাদের জীবনে স্বার্থকতা কি ? হুমায়ূন আহমেদ চেয়েছিলেন এই প্রজন্মের একটা উন্নত মস্তিষ্ক তৈরি করতে । তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতির কাজে লাগাতে ।অসহায়,নিপীড়িতদের দুঃখ নিরসন আর অবৈধ্য ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার করতে চেয়েছিলেন জাতিকে । আর তাই হিমু,রূপা,মিসির আলী আর বাকের ভাইদের মতো চরিত্র বানিয়েছিলেন । চলে গেছেন তিনি তবে রয়ে গেছে প্রতিটা মানুষের মনে গল্পের পাতায় পাতায় যেখানে থাকুক, ভালো থাকুক এ দোয়া করি।

 

 

 


আরও পড়ুন