কর অব্যাহতি কমানো দরকার : অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
নভেম্বর ২৭, ২০১৮ ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, কর অব্যাহতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। কর অব্যাহতি কমানো দরকার অথবা কোন বিষয়ে কর ছাড় হবে তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে সাংবাদিক আবু কাওসারের লেখা ‘রাজস্ব ভাবনা যেতে হবে বহু দূর’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এনবিআর সদস্য (আয়কর) জিয়া উদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, এনবিআরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, দুদকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, দৈনিক সমকালের প্রকাশক এ কে আজাদ, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফিসহ এনবিআরের একাধিক প্রাক্তন কর্মকর্তা ও রাজস্ব বিশেষজ্ঞরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

বইটিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কয়েকজন প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও রাজস্ব সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সাক্ষাৎকারও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে অর্থমন্ত্রী এনবিআরের সংস্কার আনতে আরো দুটি পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে- ট্যারিফ মূল্যকে বিদায় করা অথবা দারুণভাবে কমিয়ে আনা এবং সিদ্ধান্ত ও নীতি বাস্তবায়নে যে দুর্বলতা আছে সেটি কমানো।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এনবিআর শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে পারে। প্রতিবছর কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় তাদের দিয়ে সার্ভে করাতে পারে। তারা ফিরে এসে যে রিপোর্ট দিবে, যাদের করের আওতায় অন্তর্ভূক্ত করতে বলবে, এনবিআর তাদের করের আওতায় নিয়ে আসবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বইটি প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে লেখক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন। কারণ, বাংলা ভাষায় রাজস্ব নিয়ে এমন আর কোনো বই নেই। বইটিতে যেসব বিষয় নিয়ে পরামর্শ এসেছে, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে তা পর্যালোচনা করা হবে।

ড. মসিউর রহমান বলেন, উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও করের একক হার হওয়া উচিত। পরে যদি কারো ওপর থেকে কর হার কমাতে হয় বা কাউকে কর অবকাশ দিতে হয় তা করতে হবে। একেক বছর একেক ধরনের কর হার হওয়া উচিত নয়। কারণ, এর উপরও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। কর আদায়ে কঠোর হলেই বেশি কর আদায় সম্ভব নয়। করদাতাদের সহযোগিতা ছাড়া কর আদায় বাড়ে না।

এনবিআরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে রাজস্ব বোর্ডই হতে হবে, কোনো সরকারি অফিস নয়। এখানের চেয়ারম্যান হতে হবে এনবিআরের কর্মকর্তা থেকেই। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের নামে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দ্বারা এটি পরিচালিত হতে পারে না। মান্ধাতা আমলের মতো ভবন ভাড়া নিয়ে কর আদায় করা যাবে না, অঞ্চলভিত্তিক নিজস্ব ভবন গড়ে তুলতে হবে।

দৈনিক সমকালের প্রকাশক এ কে আজাদ বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব নয়। এনবিআরকে আলাদা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান করে দিতে হবে। আর এনবিআরের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা না থাকলে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হবে না।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সাংবাদিক আবু কাওসার নিজের প্রকাশিত বই সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, অর্থনীতির মতো নিরস শাস্ত্র নিয়ে লিখতে গিয়ে বহু কষ্ট সইতে হয়েছে।

বইটিতে কর ফাঁকির বিষয়ে বেশ তথ্য রয়েছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, বছরে এখনো কর ফাঁকির পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা। দেশে করযোগ্য অনেক রাজস্ব আছে, কিন্তু আদায় করা যাচ্ছে না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া