আন্তর্জাতিক - ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮ ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ

‘প্রেসিডেন্টকে হত্যার পরিকল্পনা’ নিয়ে শ্রীলঙ্কায় নতুন নাটক

শ্রীলঙ্কায় মাস দেড়েক ধরে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে, তাতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে নতুন এক কাহিনি। বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনাকে গুপ্তহত্যার ছক কষা হয়েছিল। সিরিসেনার ভাষ্য, এ বিষয়ে গুরত্ব না দেওয়ার কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হন। যদিও তদন্তে এখন পর্যন্ত হত্যার ষড়যন্ত্রের গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ মেলেনি।

গত ২৬ অক্টোবর বিক্রমাসিংহকে বহিষ্কার করে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন সিরিসেনা। কিন্তু বিক্রমাসিংহে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়, যা এখনো চলছে।

অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, সিরিসেনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার বিষয়টি প্রথম সামনে আনেন নামাল কুমারা নামের এক সমাজকর্মী, যিনি পুলিশের খোঁচর হিসেবেও পরিচিত। গত ১২ সেপ্টেম্বর কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকের কাছে এক পুলিশ কর্মকর্তার নামে বিস্তর অভিযোগ তোলেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ অভিযোগ ছিল, ওই কর্মকর্তা অপরাধ জগতের (আন্ডার ওয়ার্ল্ড) এজেন্টদের দিয়ে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। কুমারা দাবি করেন, বিষয়টি ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে ফোনে জানিয়েছেন। কিন্তু ভয়ে তিনি সেই কথোপকথন ফোন থেকে মুছে ফেলেছেন। তবে গুপ্তহত্যা বিষয়ে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক নালাকা ডি সিলভার একটি কথোপকথন প্রকাশ করেন। ডি সিলভা বর্তমানে কারাবন্দি আছেন।

পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসাকেরা জানান, ওই কথোপকথনে অন্য এক কর্মকর্তাকে হত্যার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ‘তবে তিন মাসের তদন্তে আমরা প্রেসিডেন্ট হত্যার পরিকল্পনার কোনো প্রমাণ পাইনি।’

গত শনিবার কুমারার মোবাইল ফোনটি হংকংয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে করে তাঁর মুছে ফেলা কথোপকথন উদ্ধার করা যায়।

রয়টার্সের কাছে নামাল কুমারা দাবি করেন, ‘পুলিশ আমার তথ্যের প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ দেখায়নি। তারা চাইলে আমি সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছি। এ বিষয়ে আমার কাছে আরো নতুন তথ্য আছে।’ তবে নতুন তথ্যের ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

গত মাসে বিদেশি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা অভিযোগ করেন, ‘মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য ও সেনাপ্রধান শরৎ ফনসেকা সম্ভবত হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত।’ তিনি আরো বলেন, এক তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী নিখোঁজ রয়েছে। তাকে দিয়ে হয়তো হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার চিন্তা করা হয়েছিল।

গতকাল শ্রীলঙ্কার ‘সিলন টুডে’ পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও এ নিয়ে কথা বলেন সিরিসেনা। তাঁর অভিযোগ, ‘বিষয়টি নিয়ে যেভাবে তদন্ত এগোচ্ছিল, তাতে আমি পুরো হতাশ হয়ে পড়ি। বিষয়টিকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয়নি।’

কয়েক দিন আগে বিক্রমাসিংহে অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি তদন্তে কোনো রকমের হস্তক্ষেপ করেননি এবং তদন্তের অগ্রগতি সব সময় সিরিসেনাকে অবহিত করেছেন।

বিক্রমাসিংহের মন্ত্রিসভার সদস্য রাজিথা সেনারত্নে মনে করেন, ‘গুপ্তহত্যার যে কথা বলা হচ্ছে, তা পুরো ভিত্তিহীন।’ এমনকি প্রেসিডেন্টের একজন উপদেষ্টা শিরাল লাকথিলাকাও মনে করেন, ‘নামাল কুমারার তথ্য বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। তার পরও বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত হয়নি।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সত্য হোক কিংবা মিথ্যা, কিন্তু এ ঘটনার জের ধরে ঘরে-বাইরে অর্থনীতিসহ নানা দিক থেকে দেশটিকে খেসারত দিতে হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত এক পশ্চিমা কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, শ্রীলঙ্কায় গুপ্তহত্যার বিষয়টি নতুন কোনো ইস্যু নয়। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, এটি শ্রীলঙ্কার রাজনীতিরই একটা অংশ।

এদিকে এ ঘটনায় মারসিলি থমাস নামের এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীলঙ্কা পুলিশ। বলা হচ্ছে, তিনি ভারতের গোয়েন্দা বাহিনীর চর হিসেবে কাজ করেন। সূত্র : রয়টার্স।

 

 

৩ Comments

Comments are closed.