কিশোরগঞ্জের খবর - মুক্তিযোদ্ধার কথা - ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮ ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

কিশোরগঞ্জ মুক্ত দিবস আজ

মোঃ আবু নোমান ভূইয়া : আজ কিশোরগঞ্জ মুক্ত দিবস।  ১৯৭১সালে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দেখেনি কিশোরগঞ্জের মানুষ। সারাদেশ বিজয়ের আনন্দে যখন উত্তাল তখনো কিশোরগঞ্জের মাটিতে, উড়ছিল পাকিস্তানি পতাকা, হানাদার বাহিনীর দোসরদের সঙ্গে চলেছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। বিজয়ের আনন্দ ছিল না কিশোরগঞ্জ বাসীর। পরদিন ১৭ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় কিশোরগঞ্জ।  

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পুরো সময় জুড়ে কিশোরগঞ্জ ছিল স্বাধীনতা বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি। ২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউনের পর সর্বপ্রথম ১৯ এপ্রিল শুক্রবার ট্রেনে করে হানাদার বাহিনী প্রথম কিশোরগঞ্জে প্রবেশকরে। ৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী কিশোরগঞ্জ ছেড়ে চলে গেলেও তাদের দোসররা কিশোরগঞ্জেশক্ত অবস্থান ধরে রাখে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডারবীর মুক্তিযোদ্ধা কবীর উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে কিশোরগঞ্জশহর চারদিক থেকে ঘিরে শক্ত অবস্থান নেয় মুক্তিবাহিনী। ওই দিন গভীর রাতে কবীর উদ্দিনআহমেদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল করিমগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে সতাল এলাকায় এসে অবস্থান নেন। শহরের চারদিক থেকে চতুর্মুখী আক্রমন করে ১৭ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় মুক্ত হয় কিশোরগঞ্জ।

এরপর পরই অন্যান্য প্রবেশ পথ দিয়েও মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে শহরে প্রবেশ করতে থাকেন। এর পরপরই বদলে যায় শহরের চিত্র। বিজয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠে চার পাশ। পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে কিশোরগঞ্জের আকাশে উড়ানো হয় স্বাধীন সার্বভৌম প্রিয় বাংলাদেশের রক্তিম পতাকা। মুক্তিযোদ্ধা, মিত্রবাহিনী আর জনতার উলাস ধ্বনি, আনন্দ উচ্ছ্বাস আর মুক্তির চিরন্তন স্বপ্ন বাস্তবায়নের ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় স্বাধীন কিশোরগঞ্জের মুক্ত আকাশ।  আর ভাবেই বিজয় দিবসের একদিন পর ১৭ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের আকাশে উঠে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।
  

বার্তা সম্পাদক

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম

৫ Comments

Comments are closed.