কটিয়াদী - বিশেষ প্রতিবেদন - ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

কটিয়াদীতে সৎ মায়ের হাতে দুই ছেলের নির্মম নির্যাতন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সৎমা কর্তৃক দুই ছেলের প্রতি নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের চারালদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত দুই ছেলে হচ্ছেন,মসূয়া চারালদিয়া গ্রামের মৃত.আবু তাহেরের পুত্র আসিফ ও আবদুল আহাদ।

জানা যায়, গত ৫ডিসেম্বর আসিফের বাবা আবু তাহের মৃত্যু বরণ করেন। তার ১১দিন পর ১৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে আসিফের মা মৃত্যু বরণ করেন। মৃত আবু তাহের দুটি বিবাহ করেন। তার প্রথম বিবাহীত স্ত্রীর চামপার তিন পুত্র ও এক কন্যা এবং দ্বিতীয় বিবাহীত স্ত্রীর আফরোজা আক্তারের দুই পুত্র। আসিফ ও তার ভাই আবদুল আহাদ দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। বাবা মৃত্যুর ১১দিনের পার্থক্যে মা-বাবার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম সৃষ্টি হয়। আসিফের মা-বাবা না থাকায় তাদের দায়িত্ব নেন তারই চাচা আবু বাক্কার।

কিন্তু আসিফের সৎমা তা সৈহ্য করতে না পেরে তাদের দুই ভাইয়ের উপর অত্যাচার চালায়। এই অত্যাচারের খবরটি আসিফের চাচার কানে পৌঁছালে তার সৎমা’কে সর্তক করে দেয় তার চাচা। পরবর্তীতে আসিফের সৎমায়ের বোনের ছেলে মুজিবুর পুলিশকে মিথ্যা সংবাদ দিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা বের করে অভিযোগকারী মুজিবুরকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় আজ বুধবার সকালে গ্রাম্য শালিস বসে। এতে নির্যাতনকারী সৎমায়ের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে এলাকাবাসী কঠোর শাস্তির দাবি জানায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আসিফের ফুফাত ভাই গোলাপ মিয়া বলেন, তার বাবা মারা যাওয়ার এগারো দিন পর তাদের মা মারা যায়। তারপর থেকে তার দেখা শোনার দায়িত্ব আমাদেরকে দেয়া হয়। কিন্তু তার সৎমা এসব সৈয্য করতে না পেরে তাদের উপর অত্যাচার করে।

এদিকে আসিফের চাচা আবু বাক্কার বলেন, আসিফ-আবদুল আহাদ তাদের দুই ভাইকে আমাদের কাছে রেখেছি বলে আমাদের হুমকি দেয় পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু গতবাল মঙ্গলবার কয়েকজন পুলিশ ও তার সৎমা’র বাবার বাড়ির লোকজন বাড়িতে এসে আসিফ ও আবদুল আহাদের উপর নির্যাতন চালাতে থাকলে এলাকাবাসী তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কটিয়াদী মডেল থানার এসআই অসীমুল ইসলাম বলেন, আমাদের মিথ্যা সংবাদ দেয় মুজিবুর নামে একজন যুবক। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা বের করে তাকে আটক করার কথা জানান তিনি।


আরও পড়ুন

৩ Comments

Comments are closed.