আন্তর্জাতিক - জানুয়ারি ১২, ২০১৯ ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ

সৌদিবিরোধী পদক্ষেপের দাবিতে আবারও সোচ্চার মার্কিন আইনপ্রণেতারা

অতীতের ধারাবাহিকতায় আবারও অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট পদক্ষেপের জোর দাবি তুললেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা। বিগত বছরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক স্মরণসভায় পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের আইনপ্রণেতারা সৌদি আরবের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) মার্কিন সংসদ ভবন চত্বরে আয়োজিত ওই স্মরণসভায় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি ছিলেন রিপাবলিকানরাও।

দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে হত্যার শিকার হন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচক খাশোগি।। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সৌদি আরব দাবি করে, ইস্তানবুলের কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে খুন হন তিনি। এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার পর্যাপ্ত আলামত মিললেও রিয়াদ তা নাকচ করে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডে যুবরাজের সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এক সময় পরোক্ষে যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করলেও স্পষ্ট করে তিনি বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণ দেখিয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

বৃহস্পতিবার জামাল খাশোগিসহ ২০১৮ সালে নিহত ৫০ জনেরও বেশি সংবাদ কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মার্কিন সংসদ ভবন চত্বরে আয়োজিত এক স্মরণসভায় উপস্থিত হন উচ্চকক্ষ (সিনেট) ও নিম্নকক্ষের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ) সদস্যরা। উপস্থিত ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা খাশোগি হত্যার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কৌশলগত বা বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে বিজয়ী হতে দেওয়া যায় না। নিম্নকক্ষের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘শুধু বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনা করেই যদি আমরা সিদ্ধান্ত নেই তাহলে বলতে হবে আমাদের সব নৈতিকতা নিঃশেষ হয়ে গেছে।’

ডিসেম্বরে মার্কিন সিনেটে খাশোগি হত্যায় যুবরাজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব পাস হয়েছিল। একই মাসে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের সঙ্গে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর যোগ দিয়েও রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে সেই প্রস্তাব পাস হয়নি। কিন্তু গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে গেলেও নিম্ন কক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটিটিভে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে । ডেমোক্র্যাটরা তাই সেই প্রস্তাব আবার পাসের চেষ্টা শুরু করতে চায়।

জমায়েতে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য মাইক ম্যাকল। তিনি মন্তব্য করেছেন, সাংবাদিক খাশোগি হত্যার ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘অনেক বড় একটি ধাক্কা।’ তিনি মনে করেন, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল্যায়নে ‘পরিবর্তন আসা উচিত।’

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ খাশোগির হত্যার পেছনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। তবে একে ‘খুবই অপরিপক্ক’ তদন্ত বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তুরস্কের হাতেও এ সংক্রান্ত আলামত রয়েছে। তবে ট্রাম্প যুবরাজকে ‘বেনিফিট অব ডাউট (সন্দেহের সুবিধা)’ দিয়েছিলেন।