ক্যাম্পাস - জানুয়ারি ১৪, ২০১৯

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মীকে মারধরের জেরে ৬ শিক্ষার্থীকে মারল ছাত্রলীগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীকে মারধরের জেরে ৫ শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। মারধরের জেরে দিনব্যাপী আলোচনায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটক সংলগ্ন মায়ের দোয়া হোটেলে সকালের খাবার খেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের বারতম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মাহদি হাসান অভি। হোটেলে তিনি তার বান্ধবীকে নিয়ে আলাদা একটি টেবিলে বসেন। এ সময় ইংরেজি বিভাগের অষ্টম ব্যাচের জাহিদুল আলম ওই টেবিলে এসে বসলে মাহদি তাকে অন্য টেবিলে বসতে বলে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিত-া ও হাতাহাতি শুরু হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে ঐ ছাত্রলীগ কর্মীকে ইংরেজি বিভাগের ওই শিক্ষার্থী ও তার বন্ধুরা মিলে ব্যাপক মারধর করে । মারধরের ফলে তার মাথায় ও বুকে মারাত্মকভাবে জখম হন।

এ নিয়ে দুপুর ২টার দিকে ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের নিয়ে মীমাংসায় বসেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ। এসময় শাখা ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জাহিদকে মারতে শুরু করে। তাকে বাঁচাতে গেলে তার বন্ধু জাহিদুল ইসলাম রুবেল, জয়নাল আবেদীন, মাহবুবুল হক শাকিল, চয়ন দাশসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করে শাখা ছাত্রলীগের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্ত, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শাখা ছাত্রলীগের উপ-মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত উলাহ, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ শাহরিয়ার, শাখা ছাত্রলীগের উপ আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল বাশার সাকিব, ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুর রহমান, কাজল হোসেন, আবীর রায়হান, আলী আহমেদ শ্রাবণ, আহমেদ রেজওয়ান, ওয়াকীল আহমেদসহ অন্তত ২০/২৫ জন।
এ ঘটনায় দুই পক্ষই মেডিকেল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা যায়।

শীর্ষ দুই নেতার উপস্থিতিতে এমন মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ” সকালে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কিছু ছেলে মারধর করে। আমরা বসে তা মীমাংসার চেষ্টা করার সময় তাদের মাঝে আবার হাতাহাতি হয়ে যায়। পরে আমরা বসে সুন্দর একটি মীমাংসা করে দিই।”

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন জানান, “আমরা লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগ পাইনি। পেলে ঘটনা তদন্ত করে অবশ্যই ব্যাবস্থা নিব।”


আরও পড়ুন