ক্রাইম ডায়েরী - জানুয়ারি ১৮, ২০১৯

আকাশ পথকে বেছে নিয়েছে ইয়াবা কারবারিরা!

সড়ক বা স্থলপথ এক প্রকার বন্ধ। তারপরও ব্যবসা চালিয়ে যেতে হবে। তাই এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে বসে নেই ইয়াবা কারবারিরা। তারা আকাশ পথকে বেছে নিয়েছে।

যাত্রী বেশে প্রতিদিন টেকনাফ থেকে হাজার-হাজার ইয়াবা আনছে। কখনো ব্যাগে করে কিংবা গিলে খেয়ে পেটের ভেতর করে এ ইয়াবা আনছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য আছে।

৪ জানুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডোমেস্টিক (অভ্যন্তরীণ) টার্মিনালের রাস্তায় অভিযান চালানোর সময় এক ব্যক্তিকে দেখে সন্দেহ হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজনের। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্বে থাকা অধিদপ্তরের এসআই আতাউর রহমান বলেন, ‘তাদের কাছে তথ্য ছিল অভ্যন্তরীণ রুটের বিমানে করে আসা যাত্রীর কাছে ইয়াবা আছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর সঙ্গে কোন ইয়াবা পাওয়া যায়নি। পরে তার স্বীকারোক্তিতে পেটের মধ্যে গিলে আনা ২ হাজার ইয়াবা বের করা হয়। সাব্বিবেরর বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালের মাদক আইনে মামলা হয়। ৩ দিন পর আরও দু’জনকে ২২শ’ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তারা চট্টগ্রাম থেকে বিমানে ঢাকায় আসে।

সিভিল এভিয়েশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে সাত কোম্পানির ১৭টি হেলিকপ্টার রয়েছে, যারা ভাড়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে। হেলিকপ্টার ফ্লাই করার কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা আগে বেবিচকের অনুমতি নেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ হেলিকপ্টার কোম্পানি সিভিল এভিয়েশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ‘ব্ল্যাংক প্যাড’ দিয়ে রেখেছে। এছাড়া আরও বেশ কিছু কোম্পানির বিমান আছে যেগুলো দেশের অভ্যন্তরে সাব্ক্ষণিক চলাচল করছে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক ও দেশি মাদক পাচারকারীরা বিমানবন্দর এলাকায় নিয়োজিত সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শাখার লোকজনের সহযোগিতায় মাদক পাচার করছে। বিমানবন্দর এলাকার সেলিম, তারিকুল, খন্দকার গোলাম মোস্তফা ও বিমানের বেশ কয়েকজন লোডার মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তে পেয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, ‘যেসব রুটে কড়াকড়ি থাকে, চোরাচালানকারীরা সেসব রুট পরিবর্তন করছে। তারা নিত্য নতুন রুট খুঁজে বেড়ায়। মাদক চোরাচালানের নতুন রুট হিসেবে আকাশপথ বেছে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি চালান আটকও হয়েছে। নদীপথেও মাদক পাচারের তথ্য আসছে। তবে জনবল সংকট থাকায় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের পক্ষে এতকিছু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ভারত-মিয়ানমারের সীমান্ত সংলগ্ন নদী ও স্থলপথের ৬১২টি পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক দেশে ঢুকছে।  কক্সবাজার সীমান্ত হয়ে মিয়ানমার থেকে ৪৫টি রুট দিয়ে ইয়াবা আসছে। এ নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থা ১২০০ ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকা করেছে। ওই তালিকায় কক্সবাজারের স্থানীয় এক রাজনীতিক, তার আপন দুই ভাই ও দুই সৎভাইয়ের নামও রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে ইয়াবা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর কক্সবাজার থেকে সরাসরি চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা নিরাপদে বহনে ব্যবহার হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি বিমান। এমনকি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হেলিকপ্টার পর্যন্ত। বিমানবন্দর ও হেলিপ্যাডের দুর্বল তল্লাশি কার্যক্রম বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের কারণে নির্বিঘেœ ছড়িয়ে পড়ছে ঘাতক এ ট্যাবলেট।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইয়াবা চালানের প্রতিটি ধাপে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ সিন্ডিকেট, প্রশাসন ও সেকেলে মাদক ব্যবসায়ীরা জড়িত। সড়কপথে বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে তৎপর থাকায় অনেক সময় ইয়াবার চালান ধরা পড়ে। ফলে বিকল্প হিসেবে আকাশপথ ও সাগরপথকে বেছে নিয়েছে চোরাচালানিচক্র। বিশেষ করে বেসরকারি হেলিকপ্টার ব্যবস্থা সহজলভ্য হওয়ায় নাটক, সিনেমার শুটিংসহ নানা ধরনের কর্মসূচির আড়ালেও ইয়াবা পাচার হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, তাদের জনবল সংকটও রয়েছে। ২৩ জেলায় এখনো অফিস নেই। বিভাগীয় জনবল ৫০ থেকে আড়াইশতে উন্নীত করা হলেও তা অপ্রতুল। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, অস্ত্র, মোবাইলে আড়িপাতার সক্ষমতা, ঝুঁকিভাতা না থাকায় তারা পুরোপুরি কাজ করতে পারছন না বলে কম্কত্ারা মনে করেন।


আরও পড়ুন

1 Comment

Comments are closed.