ক্যাম্পাস - জানুয়ারি ২০, ২০১৯ ১:৫৭ অপরাহ্ণ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতা শুরুতেই হোঁচট খেলো মেগা প্রকল্প

অদক্ষতা, অযোগ্যতা, উদাসীনতা এবং খামখেয়ালিপনার কারনে অনেক ভালো অর্জনই নাকি ম্লান হয়ে অধরাই রয়ে যায়। এমনই এক অদক্ষতা ও উদাসিনতার পরিচয় দিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য দেড় সহ¯্রাধিক কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়নের জন্য সম্প্রতি পাওয়া প্রকল্পটি শুরুতেই বড় ধরনের হোঁচট খেয়ে টালমাটাল হয়েছে। বিশ্ববিদ্যায়য়ের কর্তাব্যক্তিদের উদাসীনতায় প্রকল্পের ১ম পর্যায়ের অর্থ প্রায় তিন মাস পরেও হাতে পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ শিরোনামে ১ হাজার ৬৫৫কোটি ৫০ লক্ষ টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত রয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা এবং ভুমিঅধিগ্রহণের জন্য রয়েছে প্রায় ৬শ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের জুন মাস এর মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়ার কথা গেল বছরের নভেম্বরে। উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এই অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে বা ধাপে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড় দিয়ে থাকে। এর জন্য প্রকল্প পাওয়া প্রতিষ্ঠান যথাযথ প্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অর্থ ছাড় দেওয়ার আবেদন করলেই ধাপের অর্থ ছাড় দেওয়া হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ প্রকল্পটির ১ম পর্যায় বা ধাপের প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকার জন্য সময়মত কাগজপত্র জমা না দিতে পারায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ টাকা ছাড় দেওয়া হয়নি। ফলে প্রকল্পের সময়সীমার মধ্যে ৩ মাস অতিবাহিত হলেও কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও অদক্ষতার কারনেই প্রকল্পের ১ম পর্যায়ের অর্থ যথা সময়ে পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের যুগ্ম-প্রধান কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘যথাযথভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টাকার জন্য আবেদন করতে পারেনি। তবে এ টাকা তারা চাইলে চাইলে ২য় ধাপে যুক্ত করে নিতে পারবে।’ এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্তাব্যক্তিদের অনভিজ্ঞতা, অদক্ষতা ও উদাসীনতার করেন নানা সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রকল্প অনুমোদনের আগে কয়েকজনকে নিয়ে ঠিকই দ্রুত কাজগুলো সম্পাদন করেছিল কিন্তু কাজ শুরুর বিষয়ে তারা ব্যর্থ হবে এটাই স্বাভাবিক। তারা প্রকল্পটিকে নিজেদের সম্পত্তি বলে মনে করছেন। প্রস্তাবিত জমিতে প্রায় ২০ জন শিক্ষক নামে বেনামে জমিও কিনে রেখেছেন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে কাগজপত্র প্রস্তুত হয়ে আসতে সময় লাগায় প্রকল্পের প্রথম ধাপের টাকার জন্য আবেদন করতে পারিনি। আমরা দ্বিতীয় ধাপে প্রথম ধাপের টাকাসহ এক সাথে পেয়ে যাব।’

অন্যদিকে ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে উন্নয়ন প্রকল্প-২ নামে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ৬৮ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পায়। এ প্রকল্পে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের কথা রয়েছে। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুনে শেষ হবে বলে জানা যায়। এ প্রকল্পে অধীনে এখন বেশ কয়েকটি কাজ চলমান থাকলেও তা মন্থর গতিতেই চলছে। এর মধ্যে ছাত্রীদের জন্য একটি আবাসিক হল নির্মানাধিন রয়েছে। আগের উপাচার্য ২০১৭ এর ৩ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ করে চলে যাওয়া পূর্বে এ হল নির্মানের অফিস আদেশ দিয়ে যান। কিন্তু বর্তমান উপাচার্য গত বছরের ৩১ জানুয়ারি যোগদান করার পরও তা চলছে কচ্ছপ গতিতে। শিক্ষক ক্লাব কাম ডরমেটরি নামে একটি ভবনের অফিস আদেশ পূর্বেরউপাচার্য করে গেলেও বর্তমান উপাচার্য তার এক বছরের মেয়াদে ভূমি সমান করা ছাড়া কিছুই করতে পারেননি।

২ Comments

Comments are closed.