আইন আদালত - জানুয়ারি ২২, ২০১৯

ইজতেমা নিয়ে আদালতে আসা ‘লজ্জাজনক’ : হাইকোর্ট

ইজতেমার মত ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আদালতে আসাটা ‘লজ্জাজনক’ উল্লেখ করে সব পক্ষকে শান্তি বজায় রাখতে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

তাবলিগ জামাতের প্রধান মওলানা সা’দ কান্ধলভীর কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা দুইপক্ষের দ্বন্দ্বের মধ্যে এমন আহ্বান জানালেন হাইকোর্ট।

এই বিবাদের কারণে গত বছর ইজতেমায় এসে আরেকপক্ষের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাবলিগ জামাতের বিশ্ব মারকায বা দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযের আমির মওলানা সা’দ। দিনভর বিক্ষোভের মধ্যে তাকে শেষ পর্যন্ত ভারতে চলে যেতে হয়।

এমন ঘটনার মধ্যে সে বছর বিশ্ব ইজতেমা হলেও এ বছর নির্ধারিত সময়ে তার আয়োজন করতে পারেনি তাবলিগ জামাত। এরই মধ্যে দুইপক্ষ একাধিক সংঘর্ষেও জড়িয়েছে। সেখানে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

এই অবস্থায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহ মো. নুরুল আমিন। আর  রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

শুনানির এক পর্যায়ে আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক রিটকারী পক্ষের উদ্দেশে বলেন, ‘ইজতেমার মত ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আদালতে আসা ‘লজ্জাজনক।’ আপনারা নিজেরা বিভক্ত হলে দ্বীনের প্রচার করবেন কীভাবে? আগে নিজেরা সংশোধন হন, সুস্থ হন এবং নিজেদের মধ্যকার বিভেদ নিরসন করুন। শান্তিপূর্ণ অবস্থায় থেকে এক হন। আপনাদের মধ্যে যদি এরকম হয়। তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে কি জবাব দেবেন? মানুষ তো তখন বলবে, আগে নিজেরা শুদ্ধ হন তারপর আমাদের শুদ্ধ করতে আসেন।’

এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু আদালতকে জানান, বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে  বুধবার (২৩ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি সভার তারিখ নির্ধারণ রয়েছে। ইজতেমার বিষয়ে সেখান থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসতে পারে। তাই সে সিদ্ধান্ত টি আমাদের দেখা উচিৎ। এরপর আদালত রিট শুনানির বিষয়টি আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবী করেন।

গত ২১ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউনুস মোল্লা। ওই রিট আবেদনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ তিন জনকে বিবাদী করা হয়।


আরও পড়ুন

1 Comment

Comments are closed.