দেশের খবর - জানুয়ারি ২৬, ২০১৯

জলঢাকায় লাশ কাঁধে স্বজনেরা

শুক্রবার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে গিয়ে ইট ভাটার শ্রমিকদের থাকার মেসের উপর গিয়ে পড়ে। এসময় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ১২ শ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।লাশগুলো শনিবার সকাল আটটায় নীলফামারীর জলঢাকায় নিহতদের গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে আসে।

সকাল নয়টায় স্থানীয় কর্ণময়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্বজনদের মাঝে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়। এসময় প্রতিটি পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা , শুকনো খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন। লাশ বিতরণকালীন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুজাউদৌলা, ওসি মোস্তাফিজার রহমান, মীরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির খান, শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুল হক প্রমূখ।

এদিকে লাশ আসার সংবাদে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার মানুষ সকাল থেকে স্কুল মাঠে ভীর জমায়।সকাল আটটার কিছু পরে একটি কার্গো ভ্যানে করে লাশগুলোকে নিয়ে স্কুল মাঠে পৌঁছালে সেখানে এক হ্ধসঢ়;্রদয় বিদারক ঘটনার অবতারণার সৃষ্টি হয়।আতœীয়-স্বজন ও পাড়া- প্রতিবেশীর ক্রন্দনে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এক সাথে এতো লাশের কফিন দেখে সবাই হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। সামিয়ানার নিচে রাখা কফিনগুলো স্বজনদের মাঝে ঘোষণার মধ্যদিয়ে এক এক করে তুলে দেওয়া হয়।পরে কাঁধে কাঁধে লাশের কফিন নিয়ে অশ্রুসজল স্বজনেরা নিয়ে চলে শেষ গন্তব্যে,যেখান হতে কেউ ফেরেনা।

মর্মন্তিক দুর্ঘটনায় নিহত বিপ্লব চন্দ্রের পিতা রাম প্রসাদ রায় বিলাপ করতে করতে অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন,‘ দুনিয়ায় এই বড় একটি কঠিন বিষয়। যখন বাবার কাঁধে সন্তানের মৃতদেহ উঠে।’

মীরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির খান ও শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুল হক বলেন, ‘একই স্থান থেকে দুই ইউনিয়নের লাশগুলো পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।তারা আরও বলেন, নিহত পরিবারগুলোর দিকে যেন সরকার নজর রাখেন।এতে পরিবারগুলো উপকৃত হবে।’ লাশ হস্তান্তর শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় নীলফামারী জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন, ‘প্রাথমিক ভাবে তাদেরকে সহায়তা করা হলো।আগামী দিনগুলোতে নিহত পরিবারগুলোকে সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আওতায় নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে গিয়ে ইট ভাটার শ্রমিকদের থাকার মেসের উপর গিয়ে পড়ে। এসময় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ১২ শ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।এর মধ্যে নয় জনের বাড়ী মীরগঞ্জ ইউনিয়নে।বাকী চার জন পার্শ্ববর্তী শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে।এরা হলেন মীরগঞ্জ ইউনিয়নের শংকর চন্দ্র রায় (১৭),প্রশান্ত রায় দিপু (১৬),তরুন চন্দ্র রায় (১৬),রঞ্জিত কুমার (৩০), অমিত চন্দ্র (১৯), বিপ্লব চন্দ্র (১৫),সেলিম(১৫),মাছুম
(১৬), মোরসালিন (১৫) শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের কনক (৪০), বিকাশ (৩২), মনোরঞ্জন (১৭) ও মৃণাল (১৫)। এরা অধিকাংশই স্কুল পড়োয়া ছাত্র।


আরও পড়ুন

২ Comments

Comments are closed.