কটিয়াদীতে নির্যাতনের শিকার দুই বিধবা!

আতিকুর রহমান কাযিন । নিজস্ব প্রতিবেদক , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
জানুয়ারি ৩১, ২০১৯ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপেক্সের নারী ওয়ার্ডে পাশাপাশি দুই বেডে দুইজন নারী রোগী এপাশ ওপাশ করে ব্যাথার যন্ত্রনায় কাতর হয়ে আর্তচিৎকার করছেন। এরা দু’জনই প্রতিবেশী প্রভাবশালী পরিবারের লোকদের দ্বারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একজন কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের মৃত হারিছ মিয়ার স্ত্রী নূরুন্নাহার (৩৫) । অন্যজন আচমিতা ইউনিয়নের উখড়াশাল গ্রামের মৃত সুভাষ নম দাসের স্ত্রী মঞ্জু রানী নম দাস (৪৫)। মঞ্জু রানী নম দাস মাটি কাটার দিন মজুর আর নূরুন্নাহার পরের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে কোন রকম বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। নূরুন্নাহারকে স্বামীর ভিটে থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে চলে নির্যাতন নিপীড়ন। মঞ্জু রানীকে পারিবারিক কলহের জের ধরে মারপিটের ঘটনা ঘটনায় প্রতিবেশী। বুধবার তাদেরকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি করা হয়।

জানা গেছে, স্বামীর রেখে যাওয়া তিনগন্ডা জমি আর একটি ঝুপড়ি ঘরই নূরুন্নাহারের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জমিটুকু গ্রাস করার জন্য প্রতিবেশী ইদ্রিছ মিয়া গং নূরুন্নাহার ও তার একমাত্র কিশোর ছেলে হিমেলের উপর সুযোগ পেলেই চালায় নির্যাতন। ওৎ পেতে থাকে নির্যাতনের কোন অজুহাত পাওয়া যায় কি না। কোন রকম অজুহাত পেলেই চলে নির্যাতন। বুধবার ইদ্রিছ আলীর বাদাম খেত নষ্ট করার অভিযোগে বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে ইদ্রিছ আলী, তার স্ত্রী সুফিয়া, ছেলে আল আমিন ও শাহ আলম নূরুন্নাহারের ঘরে তার ছেলে হিমেলকে খোঁজতে যায়। হিমেলকে ঘরে না পেয়ে তার মা নূরুন্নাহারের সাথে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে বলতে তার উপরই চড়াও হয়। বেধরক মারপিট করে ঘরের সামনে ফেলে রাখে। সংবাদ পেয়ে হিমেল তার মাকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করে।

নূরুন্নাহার জানায়, তার স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর ভিটে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ইদ্রিছ আলী গং অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। ঝুপড়ি ঘরটি যে কোন সময় পড়ে যেতে পারে। ঠিক করতে চাইলে তারা বাঁধা প্রদান করে। ভিটে বাড়ি ছেড়ে না গেলে আমাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন করতে থাকবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারের নিকট বিচার প্রার্থী হলেও কোন প্রকার সুফল আমি পাইনি । ইদ্রিছ আলীর ছেলে শাহ আলমের কাছে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে জানান, আমার মা গাছের পাতা ঝাড়– দিতে গেলে নূরুন্নাহার দা নিয়ে মারতে আসে। তখন তার হাত থেকে দা ছিনিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু তাকে কেউ মারে নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ আছে । চাপে রাখার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

অন্যদিকে মঞ্জুরানী নম দাস জানান, তার এক ছেলে রোপন নম দাস ঢাকায় কাজ করে। একই এলাকার বাতেন উর-ফে বেলু মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া এলাকায় বেকার ঘুরাফেরা করে। বাবুল মিয়া রোপন নম দাসের মাধ্যমে ঢাকায় একটি কাজ নেয়। কিছুদিন পর বাবুল মিয়া মালিকের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করে বাড়ি চলে আসে। রোপনের পরিচয়ে বাবুলকে কাজ দেয়ার কারণে ঐ মালিক টাকা ফেরত এনে দেয়ার জন্য ভুবনের উপর চাপ সৃষ্টি করে। রোপন টাকা ফেরতের জন্য মোবাইল ফোনে বাবুলের সাথে কথা বলে। ঘন ঘন ফোন দিয়ে বিরক্ত করার কারণে বুধবার বাবুল তার পিতা বেলু, মা জেসমিন ও তার বোন শিলা একসাথে মঞ্জুরানী নম দাসের ঘরে গিয়ে তাকে বেধরক মারপিট করে এবং তার বাড়ি ঘরে ভাংচুর করে।

এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে এনে ভর্তি করে। এ ঘটনায় মঞ্জুরানীর ছেলে রতন নমদাস বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। বেলু মিয়া জানান, আমার ছেলে বাবুল এবং মঞ্জু রানীর ছেলে রোপন একই মালিকের অধিনে কাজ করতো। রোপন মালিকের নিকট থেকে টাকা আত্মসাত করে আমার ছেলেকে দোষারোপ করে। টাকা না দিলে মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখায়। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে গেলে তারা উত্তেজিত হয়ে মারতে আসে এবং উভয় পক্ষের মাঝে হাতাহাতি হয়। মঞ্জুরানী হাসপাতালে ভর্তি শুনে বৃহস্পতিবার সকালে আমি হাসপাতালে দেখতে যাই। মালিকের টাকা কে আত্মসাৎ করেছে তা নিরূপনের জন্য মালিক পক্ষকে সাথে নিয়ে উভয় পক্ষকে সামাজিক ভাবে বসার আহ্বান জানিয়েছি।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া