যশোর (সদর) উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দৌড়ে আ.লীগের ৬ নেতা

এবিএস রনি , যশোর
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ ৩:৫০ অপরাহ্ণ

যশোরে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী মনোনীত করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। প্রতি উপজেলায় দলের একাধিক প্রার্থী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের উপর অপেক্ষা করতে হবে তৃণমূলকে। এজন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন তদবির মিশনে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের ভাষ্য, জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে রাজনৈতিক স্পট লাইনে থাকা যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে কে পাচ্ছেন নৌকার টিকিট তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতে যাওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দেশের সব উপজেলা চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা ও দায়িত্ব একই হলেও সদর উপজেলার গুরুত্বটা একটু বেশিই হয়। সেই হিসেবে রাজনৈতিক স্পট লাইনে থাকা যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নৌকা ও ধানের শীষের কে মনোনয়ন পাচ্ছেন সেটা জানতে আগ্রহী সবাই।

এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের টিকিট বঞ্চিত হওয়া যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার পুনরায় উপজেলা চেয়ারম্যান হতে দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছেন। সদ্য শেষ হওয়া সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকার টিকিট না পেলে তার অনুসারীরা হতাশ হন। অবশ্য তারা ক্ষোভ অভিমান ভুলে নৌকাকে বিজয়ী করে উদারতার পরিচয় দেন। সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শাহীন চাকলাদারের এই উদারতা উপজেলা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ গুরুত্ব দেবে বলে ধারণা করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তবে জেলা ও উপজেলার নেতৃত্ব শাহীন চাকলাদারকে ছাড় দিতে আগ্রহী নয়। তারা উপজেলা নির্বাচনে দলের কাছে মনোনয়ন চেয়ে শাহীন চাকলাদারকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারের পাশাপাশি মনোনয়ন চেয়ে দলের ফরম কিনেছেন সংগঠনের জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীর কবু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টু। এরমধ্যে শাহীন চাকলাদার এর আগে দুই বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। অন্যরা উপজেলা নির্বাচনে নতুন মুখ। যাদের সবাই দলীয় মনোনয়ন পেতে এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ জানান, মনোনয়নের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। দলের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছি। বিশাল রাজনৈতিক জীবনে আমার কোনো ত্রুটি নাই।

মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন কি না জানতে চাইলে বলেন, সময় বলে দেবে।
জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর কবু জানান, ছাত্রলীগ করেছি। স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেছি। গত ১৫ বছর ধরে জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীতে আছি। সাধারণ মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। সদর উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেলে আশা করি, সাধারণ মানুষ আমাকে নির্বাচিত করবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নেব না। নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কাজ করবো।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। নেত্রী মনে করেননি। তারপরও দলের পক্ষে প্রাণপণ কাজ করে যশোরের ৬টি আসনই নেত্রীর উপহার দিয়েছি। উপজেলা নির্বাচনে সদরের মনোনয়ন চেয়েছি। নেত্রী মনে করলে দেবেন। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার সবার আছে। যারা মনোনয়ন চেয়েছেন তাদের মধ্যে কাউকে চ্যালেঞ্জ মনে করি না। যশোরে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করে রাজপথে সাহসী ভূমিকা রেখে চলেছি। আগামীতেও করে যাব।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন জানান, একাধিক প্রার্থী হওয়ায় একক প্রার্থী মনোনীত করা যায়নি। তবে যে নৌকার টিকিট পাবেন তার পক্ষে কাজ করবেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া